মৎস্যকুমারীর স্তন ঢেকে দিলো পার্ক কর্তৃপক্ষ
প্রাচ্যদেশীয় মূল্যবোধকে সম্মান জানানোর উদ্দেশ্যে ইন্দোনেশিয়ার একটি থিম পার্কে রাখা দুটি মৎস্যকুমারীর নগ্ন স্তন ঢেকে দিয়েছে পার্ক কর্তৃপক্ষ। দেশটির রাজধানী জাকার্তার অ্যানকোল থিম পার্কে সম্প্রতি এই ঘটনা ঘটেছে।
পার্ক কর্তৃপক্ষ সোনালি রঙের কাপড় দিয়ে মৎস্যকুমারী দুটির স্তন ঢেকে দেয়। এর আগে ১৫ বছর ধরে মুর্তি দুটির স্তন নগ্ন অবস্থায় ছিল। পার্ক কর্তৃপক্ষের এধরনের পদক্ষেপে জাকার্তাবাসীর অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। এই সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য তাদের উপর কেউ চাপ দিয়েছে কি না এই প্রশ্নটিই এখন সবার মুখে মুখে ফিরছে।
তবে পার্কের মুখপাত্র রিকা লেস্তারি সব গুজব বাতিল করে দিয়ে জানিয়েছেন, কোন চাপের কারণে নয় বরং পার্ক কর্তৃপক্ষ গত বছরই মৎস্যকুমারীর স্তন ঢেকে দেয়ার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
তিনি বিবিসিকে বলেন, ‘পার্কের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মতেই এটা ঘটেছে বাইরের কোন চাপ ছিল না। বিনোদন এই পার্কটিকে পরিবারবান্ধব করার জন্য আমরা এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গিয়েছি।’
যে ভাস্কর এই মৎস্যকুমারী দুটি তৈরি করেছেন তিনি পার্ক কর্তৃপক্ষের এই কাজের নিন্দা জানিয়েছেন। ডলোরোসা সিনাগা নামের ওই ভাস্কর বিবিসি ইন্দোনেশিয়াকে বলেন, শিল্পের সৌন্দর্য যেন জনসাধারণ উপলব্ধি করতে না পারে সেই ব্যবস্থাই করেছে পার্ক কর্তৃপক্ষ।
এদিকে যে দর্শকদের খুশি করার জন্য পার্কের লোকজন এই কাণ্ড করেছে তারা মৎস্যকুমারী দুটির নতুন রূপ দেখে একদম হতবুদ্ধি হয়ে যান। নন্দা জুলিন্দা নামের একজন তার বাচ্চাদের পার্কটি দেখানোর জন্য নিয়ে এসেছিলেন। তিনি বলেন, ‘শিল্প সামগ্রী এভাবে ঢেকে রাখার বিষয়টি একদম অদ্ভুতই লাগে।’
এম তৌফিক ফিকি নামের একজন দর্শনার্থী বলেন, ‘এই পার্কটি সমুদ্র সৈকতের কাছে, আর এই মূর্তিগুলো মৎস্যকুমারীর। মৎস্যকুমারীকে কাপড় দিয়ে এভাবে ঢেকে দেয়ার দৃশ্য আগে কখনো দেখা যায়নি।’
অবশ্য নৈতিকতার দোহাই দিয়ে মূর্তি ঢেকে রাখার ঘটনা এবারই প্রথম ঘটেনি। এর আগে ২০১৬ সালে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি ইতালি ভ্রমণের সময় ইতালি সরকার রাজধানী রোমের নগ্নসব মূর্তি ঢেকে দিয়েছিল। ইরানিরা সেসময় এই ঘটনা নিয়ে বেশ কৌতুক করেছিল। ইসলামকে রক্ষার জন্য বিদ্রুপ করে তারা ইতালিকে ধন্যবাদও দিয়েছিল। এছাড়া সম্প্রতি সার্বিয়ার উত্তরাঞ্চলেও একটি পেঁচার মূর্তির জননেন্দ্রিয় ফেলে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে।




