শিক্ষা

ভিকারুননিসা নূন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সব শাখার ক্লাস ও পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে কর্তৃপক্ষ।
প্রতিষ্ঠানটির নবম শ্রেণির ছাত্রী অরিত্রী অধিকারীর মৃত্যুর ঘটনায় আজ দ্বিতীয় দিনের মতো আন্দোলন করছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। এরই মধ্যে আজ বুধবার এ ঘোষণা দেয় কর্তৃপক্ষ। বার্তাসংস্থা ইউএনবি এ তথ্য দিয়েছে।
বিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির শিক্ষক প্রতিনিধি ও সমাজ বিজ্ঞানের শিক্ষক মুশতারী সুলতানা বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষা কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের শিক্ষার্থীরা পড়ালেখায় মনোযোগ দিতে পারছে না। এ কারণে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
মুশতারী সুলতানা বলেন, ‘পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবারও স্কুল খোলা হবে। মোবাইল ফোনে মেসেজের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জানানো হবে। অভিভাবকদেরও পরীক্ষার তারিখ জানিয়ে দেওয়া হবে।’
গত রোববার পরীক্ষার হলে অরিত্রীর কাছ থেকে মোবাইল ফোন পান এক শিক্ষিকা।মোবাইল ফোনটি রেখে দিয়ে তিনি অরিত্রীর বাবা ও মাকে নিয়ে পরের দিন আসতে বলেন। পরের দিন অধ্যক্ষের সঙ্গে দেখা করেন অরিত্রীর বাবা ও মা। সঙ্গে ছিল অরিত্রী। পরে বাসায় গিয়ে অরিত্রীর ঝুলন্ত লাশ পাওয়া যায়।
অরিত্রীর বাবা দিলীপ অধিকারী অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরা ভাইস প্রিন্সিপাল ও প্রিন্সিপালের রুমে গিয়ে তাদের ওই অভিযোগ শুনি। জোর হাত করে ক্ষমা চাই। মেয়েও পায়ে ধরে ক্ষমা চায়। কিন্তু তাঁরা কোনো কিছুই শুনতে না চেয়ে বের হয়ে যেতে বলেন। বলেন, বের হয়ে যান, কাল এসে টিসি নিয়ে যাবেন। এ সময় দ্রুত বাসায় চলে যায় অরিত্রী। পেছনে পেছনে আমরাও যাই। বাসায় গিয়ে দেখি সে নিজের ঘরে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়েছে। পরে তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে এবং সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসি। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক বিকেল সাড়ে ৪টায় তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’
পরের দিন থেকেই শুরু হয় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ। তবে অপমান করেননি বলে দাবি করেন অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস।
এদিকে, এ ঘটনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। পরে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ জানান, তাঁর মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় অধ্যক্ষসহ তিন শিক্ষক দায়ী।
গতকাল মঙ্গলবার রাতে পল্টন থানায় ওই তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করেন অরিত্রীর বাবা দিলীপ অধিকারী। এনটিভি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button