শিরোনামশীর্ষ সংবাদ

পরিবহন ধর্মঘটে সারাদেশ অচল

পরিবহন শ্রমিকদের কর্মবিরতিতে দেশজুড়ে চলাচলের ক্ষেত্রে অচলাবস্থা নেমে এসেছে। টানা ৪৮ ঘণ্টার কর্মসূচির প্রথম দিনে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ডাকে স্টিয়ারিং ধরেনি চালকরা।
বাস, ট্রাকসহ গণপরিবহন সবই বন্ধ প্রায়। শ্রমিকরা নিজেরা যেমন গাড়ি চালায়নি, তেমনি ব্যক্তিগত বিভিন্ন গাড়ি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের এমনকি অ্যাম্বুলেন্স চলাচলেও বাঁধা দিয়েছে। আর দিনভর তাদের তৎপরতার কারণে চরম ভোগান্তি হয়েছে দেশজুড়ে।
উদ্বেগের কারণ হলো, শ্রমিকদের এই কর্মসূচি আজও চলবে। আর এর মধ্যেও দাবি পূরণ না হলে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের হুমকি আছে।
সদ্য পাস হওয়া সড়ক পরিবহন আইনের কয়েকটি ধারা সংশোধনসহ ৮ দফা দাবিতে রবিবার সকাল ছয়টা থেকে সারা দেশে ৪৮ ঘণ্টার কর্মবিরতি শুরু হয়।
শ্রমিকরা যেসব দাবি জানাচ্ছে তার মধ্যে আছে সড়ক দুর্ঘটনার মামলা অজামিনযোগ্য না করা, দুর্ঘটনায় চালকের পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার বিধান বাতিল, চালকের শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণির পরিবর্তে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত করা প্রভৃতি।
গত … সংসদে এই আইন পাসের পর থেকেই পরিবহন শ্রমিকরা নানাভাবে দাবি জানিয়ে আসছিল। কিন্তু সরকার পাত্তা দেয়নি। গণমাধ্যমেও তাদের দাবির কথা সেভাবে আসেনি। আর গত শনিবার রাজধানীতে সারাদেশ থেকে ঢাকায় এসে সমাবেশ করে রবিবার ভোট ছয়টা থেকে ৪৮ ঘণ্টার কর্মবিরতি আর এতেও দাবি মানা না হলে ৩০ অক্টোবর থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটের হুমকি দেয়।
গতকাল ভোর থেকেই রাজধনীসহ সারাদেশেই বন্ধ হয়ে যায় নগর পরিবহন, স্বল্পপাল্লা, দূরপাল্লার যানবাহন। যাত্রীবাহী গাড়ির মতো বন্ধ আছে পণ্যবাহী গাড়িও।
বাস না পেয়ে অনেকে পিকআপ, সিএনজিচালিত অটোরিকশা কিংবা রিকশা ভ্যান যে যা পেয়েছেন তা নিয়েই ছুটছেন গন্তব্যে। গুণতে হয়েছে অতিরিক্ত অর্থ।
শ্রমিক ধর্মঘটের সঙ্গে যাত্রীদের ভোগান্তিতে ঘি ঢেলেছে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। সব মিলিয়ে একটা অসহনীয় দুর্ভোগে পড়েছে দেশবাসী।
রাজধানীর সায়েদাবাদ, মহাখালী, গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে দেশের কোথাও দূরপাল্লার বাস ছেড়ে যেতে দেখা যায়নি। শ্যামলী, কল্যাণপুর, গাবতলীর প্রায় সব বাস কাউন্টার বন্ধ। দুই-একটি কাউন্টার খোলা থাকলেও বন্ধ রয়েছে টিকিট বিক্রি।
গাইবান্ধা যাওয়ার চেষ্টায় শ্যামলী থেকে ফিরে আসতে হয়েছে ইব্রাহীম মিয়াকে। বলেন, ‘অনেক কষ্ট করে শ্যামলী পর্যন্ত এসেছিলাম। বাড়িতে পারিবারিক একটা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বাড়ি যাচ্ছিলাম। কিন্তু পরিবহন ধর্মঘটের কারণে সকল বাস বন্ধ। শুনতেছি আগামী কালও বন্ধ থাকবে এখন কীভাবে যে বাড়ি যাব, সেটাই বুঝতে পারছি না।’
এই অবস্থায় এক ধরনের দুঃসহ পরিস্থিতির উদ্ভব হলেও কীভাবে এর অবসান হবে সেটার জবাব নেই কারও কাছে। একদিনে শ্রমিকরা তাদের দাবিতে অটল, অন্যদিকে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানিয়ে দিয়েছেন, আইন পাল্টানোর সুযোগ নেই। অবশ্য ন্যায়সঙ্গত দাবি পরবর্তী সংসদে মেনে নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
পরিবহন শ্রমিকদের কর্মসূচিতে বরাবর আলোচনায় থাকেন নৌপরিবহন মন্ত্রী শাহাজান খান। কারণ, তিনি একাধারে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের নেতা। তবে এবারের কর্মসূচিতে তার প্রকাশ্য কোনো অবস্থান নেই, সমর্থনও নেই।
ধর্মঘট সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবও এড়িয়ে গেছেন শাহাজান খান। বলেন, ‘কোন মন্তব্য নয়’।
যারা ধর্মঘট আহ্বান করেছেন, সেই বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী জানিয়েছেন, তারা বাধ্য হয়ে আন্দোলনে নেমেছেন। ঢাকাটাইমসকে তিনি বলেন, ‘আমাদের আট দাবি নিয়ে এর আগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্মরকলিপি দিয়েছি, সড়ক ও আইন মন্ত্রীর সাথে দেখা করেছি। কিন্তু আমাদের দাবি মানা হচ্ছে না।’
‘পরিবহন শ্রমিকরা ফাঁসির দড়ি গলায় নিয়ে গাড়ি চালাতে চাচ্ছে না। এজন্য আমরা প্রথম পর্যায় ৪৮ ঘণ্টা কর্ম বিরতি পালনের ঘোষণা দিয়েছি। এরপরেও যদি দাবি মানা না হয়, তবে সারাদেশের অনির্দিষ্টকালীন কর্মবিরতি পালনের কর্মসূচি দেয়া হবে।’
ঢাকাটাইমস

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button