শিক্ষাশিরোনাম

জাপানের স্কুলের শিক্ষা পদ্ধতি ও সময়কাল

আরশাদ উল্লাহ্
বাংলাদেশের একজন ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্র আমাকে জাপানের শিক্ষা পদ্ধতির উপর কিছু ধারণা দিয়ে লিখতে অনুরোধ করেছে। আজকের লেখাটি জাপানের শিক্ষা ব্যবস্থার উপর সামান্য ধারণা দিয়ে লিখলাম। আশাকরি দেশের ছাত্রছাত্রীগণ এই লেখা থেকে কিছু ধারণা পাবেন। আমার সন্তান দু’জনের জন্ম জাপানে।েতাদের পড়াশুনার দিকটি তাদের মা দেখতো। আমি লক্ষ করতাম। র্নাসারি স্কুল বা কিন্ডারর্গাটেনে শুন্য বৎসর থেকে অর্নুধ ছয় বৎসরের শিশুদের পড়ানো হয়। ছয় মাসের সন্তানকে আমরা র্নাসারিতে দিয়েছি। জাপানীতে বলে ‘হইকোয়নে’। কন্ডিারর্গাটেনকে বলে ‘ইয়োচিয়েন’। র্নাসারি এবং কিন্ডারর্গাটেন এর মধ্যে ব্যতিক্রম রয়েছে। র্নাসারীতে শূন্য বৎসরের শিশুকে দেওয়া যায়। সেগুলি টাউন কাউন্সিল প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত শিক্ষকদের দ্বারা পরিচালনা করে। আর, কিন্ডারর্গাটেনে তিন বৎসরের শিশুদের পাঠানো হয়। সেগুলিতেও প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত শিক্ষকেরা থাকে। প্রায় ৯০% শিক্ষক মহিলা। তারা কলেজ থেকে স্পেশ্যাল লাইসেন্সপ্রাপ্ত।
Organization of Economic and Cooperative Development (OECD) এর তথ্যানুসারে সারা বিশ্বে জাপানের ছাত্রছাত্রীদের অবস্থান যথাক্রমে বিজ্ঞান, গণিতশাস্ত্র এবং সাহিত্যে র্সবোচ্চে রয়েছে।
ছয় বৎসর বয়সের শিশুরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যায়। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলিতে ছয় বৎসরের র্কোস। দ্বিতীয় শ্রেণি থেকে ছাত্রদের ‘হাইকু’ এবং ‘ওয়াকা’ কবিতার মতো ভাবগম্ভির কবিতার পাঠ শুরু হয়। তবে লেখাতে নয়, কবিতা পড়ে ভাবসম্প্রসারণের শিক্ষা দেওয়া হয়।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গবেষণার হাতেখড়ি দেওয়া হয়। যা বাংলাদেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নেই। সংক্ষিপ্ত একটি উদাহরণ দিচ্ছি। গ্রীষ্মের র্দীঘ ছুটির দিনে ছাত্ররা ঘরে গবেষণা করে। তা হলো বাধ্যতামূলক হোমটাস্ক।
একজন ছাত্র বা ছাত্রীকে ১। কোন ছাত্র বা ছাত্রীকে এক মাসের বৃষ্টির গ্রাফ তৈরি করার জন্য হোমটাস্ক দেওয়া হয়। ছাত্রটি সে কাজটি সঠিক ভাবে করে ছুটি শেষে তার গবেষণার গ্রাফ টীচারকে দেয়। ২। একজন ছাত্রীকে বলা হয়েছে ছুটিতে এক মাসের পানির বাধ evaporation বা ‘বাষ্পে পরিণতি নির্ধারণ করে গ্রাফ করে নিতে। সে একটি বালততিে পানি নিয়ে ঘরের বাহিরে রেখে গ্রীষ্মের গরমের বাষ্প-পরিণতির প্রতিদিনের ডেটা নিয়ে একটি গ্রাফ তৈরি করে স্কুলে নিয়ে যায়।ি তাছাড়াও রচনা লিখে নিয়ে যেতে হয়। ছয় বৎসর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করে ‘কাঞ্জরি’ এবং হিরাকানা র্বণের উপর প্রায় ৬০% লেখা ও পড়ার জ্ঞান র্অজন করে ফেলে। র্বণাঢ্য ‘গ্র্যাজুয়েশন সিরিমিণি’তে পিতামাতাকেও হলে উপস্থিত থাকতে হয়।
জাপানে জুনিয়ার বা মাধ্যমিক এবং সিনিয়ার হাই স্কুলে যথাক্রমে তিন বৎসরের র্কোস। ক্লাস সপ্তম শ্রেণী থেকে নবম শ্রেণী র্পযন্ত। স্কুলে ছাত্রদের কঠিন শাসন ও নিয়মকানুন শিক্ষা দওেয়া হয়। সিনিয়ার হাই স্কুলে তিন বৎসরের র্কোস শেষ করার পর তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্দাপণ কর।
বিশ্ববিদ্যালয়ে চার বৎসরের র্কোস শেষ করার পর তারা গ্র্যাজুয়েট হয়। অর্নাস কথাটি এদেশে ব্যবহৃত হয় না। মার্স্টাস এক বৎসরের র্কোস।
জাপানে ছাত্র রাজনীতি নেই বিধায় ছাত্ররা কোন বাধা বিপত্তি বা সেশন জটের সমস্যায় পড়ে না। ঠিক মত পড়াশুনার পাঠ সমাপ্ত করে তারা প্রজন্মের আধুনিক ও শ্রেষ্ঠ নাগরিক হয়। র্কমক্ষেত্রে দে
শকে সুন্দর এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তারা আজীবন সংগ্রাম কর।
লেখক : জাপান প্রবাসী

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button