আন্তর্জাতিক সংবাদশিরোনাম

চীন-আমেরিকা বাণিজ্য যুদ্ধের প্রথম শিকার কি সিঙ্গাপুর?

আমেরিকা ও চীনের মধ্যে চলমান বাণিজ্য যুদ্ধের ধাক্কা এর মধ্যেই এসে পড়তে শুরু করেছে এশিয়ার নানা দেশে।
ওয়াশিংটন ও বেজিং যখন একে অপরের বিরুদ্ধে আরও নতুন নতুন বাণিজ্যিক শুল্ক বা ট্যারিফ বসানোর হুমকি দিচ্ছে, এশিয়ার বহু দেশের বাণিজ্যেই তার মারাত্মক প্রভাব পড়ছে।
এই সংঘাতটা এতদিন তারা বাইরে থেকে দেখছিল – কিন্তু এখন সিঙ্গাপুরের একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বলছে তারা আসলে ভয়াবহ রকম খারাপ দিনের জন্য প্রস্তুতি নিতে বাধ্য হচ্ছে।
‘মুক্ত বাণিজ্যের নামে চীন তার দেশকে কার্যত ধর্ষণ করছে এবং আমেরিকা তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে’ – প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই ঘোষণার মধ্যে দিয়ে দুই দেশের মধ্যে যে বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু হয়েছে, তা এখন আর ওই দুই দেশের গন্ডীতে আটকে নেই।
এই দুই দেশের সংঘাতের মাঝে জাঁতাকলে পড়ে গেছে সিঙ্গাপুরের মতো অনেক দেশ – আর এর জন্য তাদের কত ক্ষতি হতে পারে, সিঙ্গাপুরের কোম্পানিগুলো এখন সেই অঙ্ক কষতেই ব্যস্ত।
যেমন ওয়াটসন ইপি ইন্ডাস্ট্রিজ সে দেশের একটি পারিবারিক ব্যবসা, চীনে তাদের কারখানায় তারা স্পিকার বানিয়ে থাকে।
এখন চীনের নতুন যে সব পণ্যকে আমেরিকা নিশানা করছে, তার ফলে তাদের স্পিকারের দাম অনেক বেড়ে যাবে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ওয়াটসনের নির্বাহী পরিচালক জয়েস সোও তার বাবার পাশে বসে বলছিলেন, ‘দুয়ের মাঝখানে পড়ে আমাদের আসলে স্যান্ডউইচের মতো দশা। এখানে আমাদের কন্ঠস্বরও খুব স্তিমিত, গন্ডগোলের ভেতর আমাদের কথাও কেউ শুনতে পাচ্ছে না।’
‘যদিও আমাদের আশা সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে এবং এই বাণিজ্য যুদ্ধ থামবে – সত্যিই জানি না কী হবে, নিশ্চিতভাবে কিছুই বলা যায় না। ঘটতে পারে যে কোনও কিছুই, তাই একটা কোম্পানি হিসেবে সবচেয়ে খারাপটার জন্যই আমরা তৈরি হচ্ছি।’
সিঙ্গাপুরের বাণিজ্য-নির্ভর অর্থনীতিতে এর মারাত্মক প্রভাব পড়তে চলেছে – এবং দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া বা তাইওয়ানের মতো এশিয়ার আরও নানা দেশেও এরই মধ্যে সেই আঁচ টের পাওয়া যাচ্ছে।
এই পটভূমিতে একেবারেই আশাবাদী হতে পারছেন না সিঙ্গাপুরের বাণিজ্যমন্ত্রী চ্যাং চুন সিং।
তিনি বিবিসিকে বলছিলেন, ‘বিশ্ব অর্থনীতির ওপর দুনিয়ার আস্থাটা যদি একবার টলে যায় – এই বাণিজ্য যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব পড়ে এবং বিনিয়োগকারীরা তাদের লগ্নি বন্ধ করে দেন – তাহলে আমার ধারণা আমাদের সবাইকে এর খুব মারাত্মক পরিণাম ভোগ করতে হবে। আর সেটা হবে সমগ্র বিশ্ব অর্থনীতির জন্যই।’
বিবিসির সংবাদদাতা করিশমা ভাসওয়ানির কথায়, ‘সিঙ্গাপুর তথা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় তৈরি হয়ে নানা পণ্য যে সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে, সেই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যটাই ওই গোটা অঞ্চলের প্রাণভোমরা।’
‘এর সুবাদেই বিশ্ব বাণিজ্যের ব্যাকওয়াটার থেকে এশিয়া সামনের সারিতে আসতে পেরেছে। কিন্তু এখন সেই এশিয়াই মাঝখানে পড়ে হাঁসফাঁস করছে – কারণ তারা পড়ে গেছে দুনিয়ার দুই সুপারপাওয়ারের লড়াইয়ের মাঝখানে।’
আর তাই ওই অঞ্চলের শিল্পগুলো এখন সেটাই করছে যা তারা করতে পারে – লড়াইয়ের পাশে দাঁড়িয়ে সতর্ক নজর রাখছে।
বিবিসি/নয়াদিগন্ত

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button