গরুর দুধ নয়, গোমূত্র বিক্রি করেই বেশি লাভবান হচ্ছেন ভারতের রাজস্থানের পশুপালকরা। সেখানে গোমূত্রের চাহিদা এতটাই বেশি যে দুধের থেকেও তা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। যেখানে প্রতি লিটার গরুর দুধের দাম ২০-২২ টাকা, সেখানে ‘হাইব্রিড গরুর মূত্র’ বিক্রি হচ্ছে প্রতি লিটার ১৫-৩০ টাকায়। কেউবা আবার দাম নিচ্ছেন ৫০ টাকাও।
বিবিসির খবরে বলা হয়, জয়পুরের কৈলেশ গুজ্জর গোমূত্র বিক্রি শুরু করার পর থেকে তার আয় অনেক বেড়ে গিয়েছে। দুধের পাশাপাশি গোমূত্র বিক্রিতে তাঁর উপার্জন ৩০% বেড়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, জৈব কৃষকরা কীটনাশক হিসেবে গোমূত্র ব্যবহার করেন। এছাড়া অনেকে ওষুধ হিসেবে এবং ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে কেনে গোমূত্র। কৈলেশ জানালেন, গোমূত্র সংগ্রহ করার জন্য তিনি সারারাত জেগে বসে থাকেন, যাতে একটুও গোমূত্র মাটিতে পড়ে না-যায়।
তার কথায়, ‘গরু আমাদের মা। কাজেই তার জন্য রাত জাগাটা কোনও ব্যাপার নয়।’
অপর এক দুধ-বিক্রেতা ওম প্রকাশ মিশ্র বলেন, ‘আমি ৩০ থেকে ৫০ টাকায় এক লিটার গোমূত্র বেচি। গোমূত্রের চাহিদা এখন সাংঘাতিক।’
রাজস্থানের মহারানা প্রতাপ কৃষি ও বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয় গোমূত্র নিয়ে বড় আকারে গবেষণা চালাচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য ইউ এস শর্মা বলেছেন, ‘গোমূত্র থেকে অনেক পশুপালকরা বাড়তি রোজগার করতে শুরু করেছেন। গোমূত্র সংগ্রহ করার জন্য বেশ কিছু স্বনির্ভর গোষ্ঠীও তৈরি হয়েছে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা আর জৈব চাষের ক্ষেতে দেয়ার জন্যেও বেশ কয়েকশো লিটার গোমূত্র প্রয়োজন হয় প্রতিমাসে। তবে এখনো গোটা ব্যবস্থাটাই অসংগঠিত অবস্থায় চলছে।’
আঞ্চলিক গবেষণা-পরিচালক শান্তি কুমার শর্মা বলেছেন, ‘গোমূত্রের মধ্যে ৯৫% জল থাকলেও বাকি অংশের মধ্যে আড়াই শতাংশ ইউরিয়া আর অন্য আড়াই শতাংশের মধ্যে হরমোন, এনজাইম, অ্যাস্ট্রোজেন, ল্যাক্টোজসহ প্রায় ১৪-১৫ রকমের রাসায়নিক থাকে। গোমূত্রের মধ্যে গোবর আর গুড় মিশিয়ে গাঁজানো হয়, তারপরে সেটি কৃষিকাজে ব্যবহার করা যায়।’ বিবিসি।




