ব্যালন ডি’অরে কে এগিয়ে

রোনালদো-মেসি-সালাহ: ঘুড়ে ফিরে নামগুলো আসছে ফুটবল সমর্থকদের মুখে। এবারের বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কার ব্যালন ডি’অর নিয়ে হিসাব-নিকাশ শুরু হয়ে গেছে এরই মধ্যে। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে এখানে রাজত্ব করেছেন লিওনেল মেসি আর ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। সর্বশেষ ২০০৭ সালে ব্যালন ডি অর জিতেছিলেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড কাকা, এরপর যেন এই মঞ্চ অন্য ফুটবলারদের জন্য ‘নিষিদ্ধ’ করে দিয়েছেন মেসি আর রোনালদো।
দুজনের লড়াইও সমানে সমান, জিতেছেন ৫ বার করে। এবার তাদের লড়াই একে অন্যকে ছাড়িয়ে যাওয়ার। এতদিন ব্যালন ডি’অর নিয়ে একটাই আলোচনা ছিলো – মেসি নাকি রোনালদো! কিন্তু এবার সমীকরণটা পাল্টে দিয়েছেন আরেকজন। বৃহৎ এই মঞ্চে আবির্ভূত হয়েছেন মিসরের ফরোয়ার্ড মোহাম্মাদ সালাহ। ইংল্যান্ডের লিভারপুল ক্লাবের এই তারকা এ মৌসুমে হৈচৈ ফেলে দিয়েছেন ফুটবল বিশ্বে।
মেসি- রোনালদো দ্বৈরথ
৬ মে রবিবার ন্যু ক্যাম্পে এল ক্লাসিকোতে আবারো মুখোমুখী হবেন দুই তারকা। এই ম্যাচের আগে আবার নতুন করে হিসাব শুরু হয়েছে কে এগিয়ে তা নিয়ে। ব্যালন ডি’অরে রোনালদো এক সময় ৪-১ ব্যবধানে পিছিয়ে ছিলেন মেসির চেয়ে। এরপর ক্রমান্বয়ে স্কোরলাইনে সমতা এনেছেন। এই প্রথমবারের মতো তার সামনে সুযোগ এসেছে মেসিকে ছাড়িয়ে যাওয়ার। পারবেন কিনা সেটি জানতে হলে অপেক্ষা করতে হবে ডিসেম্বর পর্যন্ত।
পরিসংখ্যান বলছে, চলতি মৌসুমে বার্সেলোনার হয়ে মেসি ৪৩ গোল করেছেন ৫১ ম্যাচে। বিপরীতে রোনালদো ৪১ ম্যাচে করেছেনে ৪২ গোল।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও এগিয়ে আছেন রিয়াল তারকা। এ মৌসুমে মেসির ৬ গোলের বিপরীতে করেছেন ১৫ গোল। তবে স্প্যানিশ লা লিগায় অনেক এগিয়ে আছেন মেসি। সেখানে তার গোল সংখ্যা ৩২, রোনালদোর ২৪টি।
ক্যালেন্ডার ইয়ারের হিসেবে অবশ্য এগিয়ে আছেন রোনালদো। ২০১৮ সালে ১৯ ম্যাচে ২৬ গোল করেছেন, সেখানে একই সময়ে মেসির গোল ২৬ ম্যাচে ২৪টি। তবে মেসি এ মৌসুমে ইতোমধ্যেই দলের হয়ে জিতেছেন দুটি ট্রফি।
মেসি ১২টি গোল অ্যাসিস্ট করেছেন লা লিগায়, ২টি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ও ৩টি কোপা ডেলরে ম্যাচে। সেখানে এই তিন টুর্নামেন্টে রোনালদোর অ্যাসিস্ট মোট ৮টি।
দলের ওপর প্রভাবের দিক থেকেও অনেক এগিয়ে আছে মেসি। গোল করা ও করানো, প্রয়োজনে মাঝমাঠ থেকে আক্রমণ সাজানোতে রোনালদোর চেয়ে অনেক এগিয়ে মেসি। রোনালদোর স্কোরিং দক্ষতা ভালো হলেও প্লেমেকার হিসেবে তিনি পিছিয়ে।
সালাহ’র আবির্ভাব
লিভারপুলের মিসরীয় স্ট্রাইকার মোহাম্মদ সালাহ এবার দাপটের সাথে খেলছেন ইউরোপীয় ফুটবলে। ৪৯ ম্যাচে করেছেন ৪৩ গোল। চ্যম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে তুলেছেন দলকে। এর আগে মিসরকে ২৮ বছর পর তুলেছেন বিশ্বকাপে। রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে ফাইনাল খেলে লিভারপুর চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিততে পারলে সালাহ যে ব্যালনি ডি’অরের বড় দাবিদার হবেন তাতে সন্দেহ নেই। আর তেমনটি হলে দীর্ঘ এক দশক পর নতুন রাজা পাবে ফুটবল। গোল ডট কম




