মিয়ানমার ও বাংলাদেশ সফরে আসছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

কংগ্রেস প্রতিনিধিরা কক্সবাজার যাবেন
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই দুই দিনের সফরে শনিবার ঢাকা আসছেন। সফরকালে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সাথে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করবেন। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা সফরকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে সমর্থন আদায়ে কাজে লাগানোর চেষ্টা করবে সরকার।
চীনের বিরোধীতার কারণে এ পর্যন্ত একাধিকবার চেষ্টা করেও জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়ার প্রস্তাব পাস করা যায়নি। জাতিসঙ্ঘের সবচেয়ে শক্তিধর এই ফোরামে রাশিয়াও মিয়ানমারের পক্ষাবলম্বন করছে। নিরাপত্তা পরিষদের ভেটো ক্ষমতার অধিকারী দেশ দুটি রোহিঙ্গা ইস্যুটি মিয়ানমারের সাথে দ্বিপক্ষীয়ভাবে সুরাহার জন্য বাংলাদেশকে উৎসাহিত করছে।
কেবল নিরাপত্তা পরিষদই নয়, গত বৃহস্পতিবার জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের তৃতীয় কমিটিতে রাখাইন রাজ্যের মানবাধিকার পরিস্থিতির ওপর ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) উত্থাপিত একটি প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছে চীন-রাশিয়াসহ মিয়ানমার সমর্থক ১০টি দেশ। তবে প্রস্তাবের পক্ষে ভোট পরেছে ১৩৫টি। তৃতীয় কমিটিতে গৃহীত এই প্রস্তাব আগামী ডিসেম্বরে সাধারণ পরিষদের প্লেনারিতে উপস্থাপিত হবে। প্রস্তাবের পক্ষে বিপুল সংখ্যক দেশের অবস্থানের কারণে এটি সাধারণ পরিষদেরও পাস হয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রস্তাবে রাখাইন প্রদেশে অনতিবিলম্বে সহিংসতা বন্ধ, সবার জন্য মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা, বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করার জন্য মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। এতে গত ২৫ আগস্ট থেকে রাখাইন প্রদেশে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তিবর্গকে চিহ্নিত ও বিচারের আওতায় আনার বিষয়ে জোর দেয়া হয়। প্রস্তাবে মিয়ানমারের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবের একজন বিশেষ দূত নিয়োগের অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
সাধারণ পরিষদে উত্থাপিত এ প্রস্তাব মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করলেও এর আইনগত বাধ্যবাধকতা নেই। মিয়ানমারের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞাসহ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন নিতে হবে। আর এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা চীন ও রাশিয়া।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন বিশেষ দূত কিছুদিন আগে ঢাকায় এলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দ্বিপক্ষীয়ভাবে সমঝোতার সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পরই রোহিঙ্গা ইস্যুটিকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে বাংলাদেশ। তবে মিয়ানমারের সাথে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার পথও উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকা সফর শেষে এশিয়া-ইউরোপ বৈঠকে যোগ দিতে আগামীকাল মিয়ানমারের রাজধানী নেইপিডো যাবেন।




