
ভারতে খ্রিস্টান অধ্যুষিত মেঘালয়ে গরুর গোশতে কোনো নিষেধাজ্ঞা জারি হচ্ছে না। হিন্দুত্ববাদী বিজেপি’র মেঘালয় রাজ্য সভাপতি শিবুন লিংডো বলেছেন, কেন্দ্রীয় সরকার মেঘালয়ে গরুর গোশত নিষিদ্ধ করেনি।
শিবুন লিংডোর অভিযোগ, আগামী বছরের বিধানসভা নির্বাচনের আগে কংগ্রেস রাজনৈতিক ফায়দা তোলার জন্যই মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছে।
তার দাবি, কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে গত ২৩ মে জারি করা নির্দেশিকায় পশু বাজার চালানোর নিয়ম এবং বাজারে নিয়ে আসা প্রাণীদের সঙ্গে কী ধরনের আচরণ করতে হবে সেটা বলা হয়েছিল।
বিজেপি মুখপাত্র জে এ লিংডোও এক বিবৃতিতে বলেছেন, দলের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যেই বলা হয়েছে, উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোতে গরুর গোশতের উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হচ্ছে না। এটি রাজ্যের বিষয়, রাজ্য সরকারই এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
তিনি বলেন, ‘রাজ্যে গরুর গোশত নিষিদ্ধ হবে না। গরুর গোশতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা ভালো অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নয় এবং তা সংবিধান সম্মতও নয়।’
হিন্দুত্ববাদী বিজেপি গোটা দেশে গরু জবাই বন্ধের জন্য সোচ্চার হলেও খ্রিস্টান অধ্যুষিত রাজ্যগুলোতে তা কার্যকর করতে রাজি নয়। মেঘালয়ে ৩৪ লাখ জনসংখ্যার অধিকাংশই খ্রিস্টান। সেখানে ৮৩ শতাংশের বেশি খ্রিস্টান বাসিন্দা রয়েছেন। সেখানকার সমস্ত সামাজিক উৎসবে গরুর গোশত খাওয়ার আয়োজন করা হয়। এখানকার খাসি ও গারো উপজাতিদের প্রধান খাদ্যই হল গরুর গোশত। রাজ্যটিতে মুসলিম ও অন্য সংখ্যালঘুরা বাস করেন।
গরুর গোশত নিয়ে বিতর্কের জেরে চলতি বছরেই মেঘালয়ের কয়েকজন বিজেপি নেতা দল থেকে পদত্যাগ করেছেন।
গরুর গোশতে দ্বিচারিতা দেখে বিজেপি’র বিরুদ্ধে কটাক্ষ করে মজলিশ ই ইত্তেহাদুল মুসলেমিন প্রধান ব্যারিস্টার আসাদউদ্দিন ওয়াইসি এমপি গত এপ্রিলে কটাক্ষ করে বলেন, ‘বিজেপি’র ভন্ডামি হল, উত্তর প্রদেশে গরু মাম্মি (মা) এবং উত্তর-পূর্বে তা ইয়াম্মি (মুখরোচক)।’




