খেলা

হাসান আলীর স্বপ্ন পূরণ

আইসিসির ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ে সেরা বোলার হিসেবে শীর্ষস্থান দখল করেছেন পাকিস্তানের ২৩ বছর বয়সী ডান-হাতি পেসার হাসান আলী। মাত্র ২৩ বছর বয়সেই তিনি পিছনে ফেলেছেন বিশ্বের তারকা বোলারদের।
শ্রীলংকার বিপক্ষে চলমান ওয়ানডে সিরিজেও আলী এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ উইকেট শিকার করেছেন। ২০১৬ সালের আগস্টে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেক হবার পরে মাত্র ১৪ মাসেই এই ধরনের উত্থান অনেকটা স্বপ্ন পূরণের মতোই। মাত্র ২৩ ম্যাচে ৫০ উইকেট দখল করে সম্প্রতি বিশ্ব রেকর্ডও গড়েছেন। এ বছর ১৭ ম্যাচে ৪৩ উইকেট দখল করে এখন পর্যন্ত নিজেকে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারের তালিকায় শীর্ষে ধরে রেখেছেন।
ওয়ানডেতে সর্বমোট ৫৩ উইকেট দখল করা হাসান বলেন, ‘এটা অনেকটা স্বপ্ন সত্যিই হবার মতোই ঘটনা। ছেলেবেলায় আমি ক্রিকেট নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখেছি, অনেক লক্ষ্যস্থির করেছি। বিশ্বের এক নম্বর বোলার হওয়া তার মধ্যে অন্যতম ছিল।’
হাসানের অসামান্য নৈপুণ্যে চলমান পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে পাকিস্তান ইতোমধ্যেই ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। আবুধাবীতে ৩৪ রানে ৫ উইকেট দখল করা হাসান চার ম্যাচে নিয়েছেন ১২ উইকেট।
জুনে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে পাকিস্তানের শিরোপা জয়ে তার ১৩ উইকেট দখল দারুণ প্রভাব ফেলেছে। টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় বিবেচিত হয়েছিলেন আলী।
তবে উইকেট পাবার পরে তার উদযাপনটাই বিশ্বব্যাপী ভক্তদের দারুণ আকৃষ্ট করেছে। গুজরানওয়ালার কাছে লাধে ওয়ালা ওয়ারিচের হয়ে প্রথম ক্রিকেট খেলেছেন আলী। এই এলাকাটি সাধারণত রেসলিং ও কাবাডির জন্য প্রসিদ্ধ।
হাসানের বড় ভাই আতাউর রেহমান প্রথম আলীর প্রতিভা দেখে একটি জিম তৈরীর সিদ্ধান্ত নেন, বাড়ির পিছনে একটি পিচ তৈরী করে দেন যেখানেই মূলত আলীর ক্রিকেটে হাতেখড়ি। সে কারণেই ক্যারিয়ারে ভাইয়ের প্রভাব স্মরণ করতে ভুল করেননি আলী। প্রথম শ্রেণির কয়েকটি ম্যাচে অংশ নেবার পরেই পিএসএল’এ পেশোয়ার প্রথম আসরেই তাকে দলভুক্ত করে। উদীয়মান খেলোয়াড় হিসেবে দলভুক্ত হয়ে আলী সাবেক ইংল্যান্ড কোচ এন্ডি ফ্লাওয়ার ও পাকিস্তানের সাবেক পেসার মোহাম্মদ আকরামের সান্নিধ্য পেয়েছেন।
আলী বলেন, চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে সাফল্য ছিল আমার ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট। আমার পরবর্তী মূল লক্ষ্য হচ্ছে ২০১৯ বিশ্বকাপ।
পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ও কিংবদন্তী পেসার ওয়াকার ইউনুসও হাসানের প্রশংসা করে বলেছেন, তার উত্থানটা অসাধারণ। কিন্তু যেহেতু পাকিস্তানে এখন অনেক ক্রিকেট হচ্ছে সে কারণেই আমি আশা করবো হাসানের মতো এরা যারা তরুণ রয়েছে তারা যেন সঠিক কোচের অধীনে সঠিক ক্রিকেটটা শিখতে পারে। এর ফলে তারা দ্রুত হারিয়ে যাবে না।
এক্ষেত্রে ওয়াকার মোহাম্মদ আমিরের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ২০০৯ সালে স্পট ফিক্সিংয়ের ঘটনা না ঘটলে আমির আজ অন্য এক জায়গায় থাকতে পারতো।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button