পতাকা ক্যারিয়ার

সফল ব্যক্তিদের ১০০ জীবনচর্চা: অনুশীলন ৩৭-‘ভালো পিতা-মাতা হোন’

প্রিয় পাঠক, আপনাদের জন্য রয়েছে আমাদের এই নতুন আয়োজন। এখানে ‘দ্য সিল্ক রোড পার্টনারশিপ’ এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা নাইজেল কাম্বারল্যান্ড লিখিত একটি বইয়ের সাথে আপনাদের পরিচয় করানো হবে। বইটির শিরোনাম, ‘হান্ড্রেড থিংস সাকসেসফুল পিপল ডু: লিটল এক্সারসাইজেস ফর সাকসেসফুল লিভিং’। এবং আমরা বইটি অনুবাদ করছি “সফল ব্যক্তিদের ১০০ জীবনচর্চা” শিরোনামে। সপ্তাহব্যাপী এই আয়োজনে প্রতিদিন এই বই থেকে একটি করে বিষয় আলোচনা করা হবে। আজকের আয়োজনে জেনে নিন সফল ব্যক্তিদের করা ৩৭ নম্বর বিষয়টি সম্পর্কে।
অনুশীলন ৩৭- ‘ভালো পিতা-মাতা হোন’
দুঃখজনকভাবে আমি এমন অনেক মানুষকে প্রশিক্ষণ দিয়েছি যারা তাদের সন্তানদের নিয়ে সন্তুষ্ট নয়। তারা মনে করেন তাদের সন্তানেরা যথেষ্ট সুখী, আবেগপ্রবণ, প্রফুল্ল, উজ্জ্বল, পড়ুয়া এবং বন্ধুত্বপূর্ণ নয়। আমরা প্রায়শই ভুলে যাই যে বাচ্চার মেশিন নয়, আমাদের মতন তারাও মানুষ। তারা প্রত্যেকে একে অপরের থেকে আলাদা এবং সবারই নিজ নিজ বৈশিষ্ট্য আছে।
সন্তান লালনপালন করার প্রক্রিয়া হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে যেকোন রকম ব্যর্থতা ছাড়িয়ে তাদের আনন্দ ও বিষ্ময়কে প্রাধান্য দেওয়া হয়। প্রায়শই আমার কাছে এমন বাবা-মা আসেন যারা আমাকে বলেন সন্তান হওয়ার পর তাদের জীবনে কী কী পরিবর্তন এসেছে! অবশ্যই, টোনাটুনির জীবন ছেড়ে একটি পারিবারিক জীবনে প্রবেশ করা খুব একটা সহজসাধ্য কাজ নয় বটে। আর্থিক ও ব্যক্তিগত বেশ কিছু পরিবর্তন ঘটে। এমতাবস্থায়, মনঃক্ষুণ্ণ হওয়া খুব স্বাভাবিক একটা ব্যাপার।
একটি স্বাভাবিক কথা প্রচলিত আছে যে, আমরা নিজেরা নিজেদের বাবা-মাকে কতোটা মূল্য দিই? তাদের সাথে আপনার সম্পর্ক যেমনই হোক না কেন, আপনার অবশ্যই উচিৎ নিজের সঙ্গীর সঙ্গে একটি সুস্থ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা। এসব ক্ষেত্রে আসলে কোন নিয়ম নেই যা আপনি মেনে চলবেন। তার পরিবর্তে আপনার নিজেরই কিছু সহজ পথ অনুসরণ করতে হবে যাতে করে আপনার সন্তানেরা একটি সুস্থ পরিবেশে বেড়ে উঠতে পারে। দিন শেষে আপনার অবশ্যই যথেষ্ট আত্মবিশ্বাস ও ধৈর্য রাখতে হবে তাদের প্রস্ফুটিত ভবিষ্যত কামনায়।
রোল মডেল হয়ে উঠুন
বাচ্চারা তাদের চারপাশে যা আছে সবকিছু দেখে, শোনে এবং পর্যবেক্ষণ করে। আপনি তাদের সামনে নিজেকে কীভাবে উপস্থাপন করবেন তা বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যাপার। বছরের পর বছর পার হয়ে যাওয়ার পর আপনার সন্তানকে দেখে মোটেও অবাক হওয়ার কিছু নেই কারণ তারা আপনাকে দেখেই শিখেছে সবকিছু। আপনাকে অবশ্যই খুব ভেবেচিন্তে নিজের সন্তানের সাথে ভালো আচরণ করা উচিৎ। কারণ-
*আপনি যখন স্বার্থপরের মতন ব্যবহার করছেন তখন নিশ্চয়ই চান না আপনার সন্তানও এমন করুক।
*আপনি যদি পুরোটা সময় তাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন তাহলে কিভাবে আশা করেন যে আপনার সন্তান ভালোবাসবে সবাইকে?
আপনার যদি ভালো কিছুই বলার না থাকে তাহলে মুখ বন্ধ করে রাখুন। নিজের সন্তানের সামনে অন্যের নিন্দা করা থেকে বিরত থাকুন। আপনি যদি সেপারেটেড কিংবা ডিভোর্সড হন, তবে আপনার প্রাক্তনের ব্যাপারে তাদের সামনে কিছু না বলাই শ্রেয়।
এক্ষেত্রে সবচেয়ে দামী উপদেশ হলো, আপনার সন্তানের কাছে আপনি এমন এক ব্যক্তিত্ব হয়ে উঠুন যাকে দেখে সে ভালো কিছু শিখবে ও অনুপ্রাণিত হবে।
আপনার সন্তানকে নিজ থেকেই উদ্ভাবন করতে দিন
আপনার সন্তান যেন নিজেই নিজের প্যাশন, লক্ষ্য, স্বপ্ন ও সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করতে পারে সে ব্যাপারে তাকে উৎসাহিত করুন। তাদের রুপকথার গল্প পড়ে শোনান এবং সাহসী স্বপ্ন দেখতে অনুপ্রাণিত করে তুলুন। তাদের সম্ভাবনাগুলো যেন উদ্ভাসিত হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন। তবে তারা কোন শখ গ্রহণ করার সময় খেয়াল করুন তারা যেন ভুল পথে পা না বাড়ায়। তাদের দেখান, শেখান ও উৎসাহিত করেন কিন্তু তাদের জোর করার কোন দরকার নেই। আপনার কোন অপূর্ণ আশা তাকে দিয়ে পূর্ণ করাতে যাবেন না। আপনার সন্তান অধিক আগ্রহ ও মনোযোগ কোথায় ব্যয় করছে, খেয়াল করুন। তাদের নিজ নিজ সমস্যাগুলো তাদেরকেই সমাধান করতে দিন। তাদের পছন্দ ও ইচ্ছাগুলো গ্রহণ করার মত মানসিকতা রাখুন।
সুত্র: প্রিয়.কম

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button