সমৃদ্ধ অর্থনীতির দেশ কাতার

বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ মাথাপিছু আয়ের দেশ কাতার। জনসংখ্যা ২০ লক্ষের সামান্য বেশি। এই দেশটিই বর্তমানে পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে ধনী। কাতারের মাথাপিছু আয় প্রায় ৭২ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। মধ্যপ্রাচ্যের উপদ্বীপ কাতারের অর্থনীতি জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভরশীল। দেশটির রপ্তানি থেকে আয়ের ৮৫ শতাংশই আসে পেট্রোলিয়াম রপ্তানি করে।
কাতার পারস্য উপসাগরের একটি দেশ। এটি আরব উপদ্বীপের পূর্ব উপকূল থেকে উত্তর দিকে প্রসারিত কাতার উপদ্বীপে অবস্থিত। কাতারের দক্ষিণে সৌদি আরব, এবং এর পশ্চিমে দ্বীপরাষ্ট্র বাহরাইন অবস্থিত। আরব উপদ্বীপের মতো কাতারও একটি উত্তপ্ত ও শুষ্ক মরু এলাকা। এখানে ভূ-পৃষ্ঠস্থ কোনো জলাশয় নেই এবং প্রাণী ও উদ্ভিদের সংখ্যাও খুব কম। বেশির ভাগ লোক শহরে, বিশেষত রাজধানী দোহা শহরে বাস করে।
কাতারে খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের বড় মজুদ আছে। এই প্রাকৃতিক সম্পদের কারণে দেশটির অর্থনীতি অত্যন্ত সমৃদ্ধ। ১৯শ শতকের শেষভাগ থেকে আল-থানি গোত্রের লোকেরা কাতার অঞ্চলটিকে একটি আমিরাত হিসেবে শাসন করে আসছে। বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে দেশটি ব্রিটিশ শাসনের অধীনে আসে। ১৯৭১ সালে এটি পূর্ণ স্বাধীনতা লাভ করে। বিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগ পর্যন্তও এটি একটি তুলনামূলকভাবে দরিদ্র দেশ ছিল। ঐ সময় দেশটিতে পেট্রোলিয়ামের মজুদ আবিষ্কৃত হয় এবং এগুলি উত্তোলন শুরু হয়।
কাতারের রাজনীতি একটি পরম রাজতন্ত্র কাঠামোয় সংঘটিত হয়। কাতারের আমীর হলেন একাধারে রাষ্ট্রের প্রধান ও সরকার প্রধান শেখ তামিম বিন হামাদ আল সানি ২০১৩ সালে তার পিতা হামাদ বিন খলিফা আল সানির হাত থেকে ক্ষমতা গ্রহণ করেন। ১৯৯৫ সাল থেকে দেশটির আমীর ছিলেন হামাদ বিন খলিফা আল সানি। আব্দুল্লাহ বিন নাসের বিন খলিফা আল সানি ২০১৩ সাল থেকে দেশটির প্রধানমন্ত্রী। কাতারের মোট জনসংখ্যা ১.৮ মিলিয়ন। কাতারের নাগরিক সুযোগ সুবিধার মান খুবই উন্নত।
আরবি ভাষা কাতারের সরকারি ভাষা। এখানকার প্রায় ৫৬% লোক আরবি ভাষাতে কথা বলেন। প্রায় এক-চতুর্থাংশ লোক ফার্সি ভাষায় কথা বলেন। বাকীরা ভারতীয় উপমহাদেশের ও ফিলিপিন দ্বীপপুঞ্জের অন্যান্য ভাষাতে কথা বলেন। আন্তর্জাতিক কাজকর্মে ইংরেজি ভাষা ব্যবহার করা হয়।
বৈধ পাসপোর্ট থাকলে ভিসা ছাড়াই কাতারে যেতে পারবেন বিশ্বের ৮০টি দেশের নাগরিকেরা। ১৮০ দিনের জন্য কাতার ভ্রমণের সুযোগ পাওয়া দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে- অস্ট্রিয়া, বাহামা দ্বীপপুঞ্জ, বেলজিয়াম, বুলগেরিয়া, ক্রোয়েশিয়া, সাইপ্রাস, চেক প্রজাতন্ত্র, ডেনমার্ক, এস্টোনিয়া, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, গ্রিস, হাঙ্গেরি, আইসল্যান্ড, ইতালি, লাটভিয়া, লাইচটেনস্টাইন, লিথুয়ানিয়া, লুক্সেমবার্গ, মালটা, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, রোমানিয়া, সিসিলি, স্লোভাকিয়া, স্লোভেনিয়া, স্পেন, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড ও তুরস্ক।
৩০ দিনের জন্য ভ্রমণের সুযোগ পাওয়া ৪৭টি দেশের মধ্যে রয়েছে- অ্যান্ডোরা, আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, আজারবাইজান, বেলারুশ, বলিভিয়া, ব্রাজিল, ব্রুনাই, কানাডা, চিলি, চীন, কলোম্বিয়া, কোস্টারিকা, কিউবা, ইকুয়েডর, জর্জিয়া, গায়ানা, হংকং, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, আয়ারল্যান্ড, জাপান, কাজাখিস্তান, লেবানন, মেসিডোনিয়া, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, মেক্সিকো, মলডোভা, মোনাকো, নিউজিল্যান্ড, পানামা, প্যারাগুয়ে, পেরু, রাশিয়া, স্যান মারিনো, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়া, সুরিনাম, থাইল্যান্ড, ইউক্রেন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, উরুগুয়ে, ভ্যাটিকান সিটি ও ভেনিজুয়েলা।
সূত্র : ফোর্বস, কাতার এয়ারওয়েজ ও উইকিপিডিয়া




