বেরোবির চার কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত

বেরোবি প্রতিনিধি : দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদকের) মামলায় চার্জশিটভুক্ত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের চার কর্মকর্তার পদোন্নতি স্থগিত ও তাদেরকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
গত মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪তম সিন্ডিকেট সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সাময়িক বরখাস্তকৃত চার কর্মকর্তা হলেন- উপ রেজিস্ট্রার শাহজাহান আলী মন্ডল, উপ- পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) এটিজিএম গোলাম ফিরোজ, সহকারী রেজিস্ট্রার মোর্শেদ উল আলম রনি এবং সহকারী পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) খন্দকার আশরাফুল আলম।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্র জানায়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অনুমোদন ছাড়াই ৩৪৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের অভিযোগে দুদকের রংপুর সমন্বিত কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আবদুল করিম ২০১৩ সালে একটি মামলা করেন। ওই চার কর্মকর্তার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল জলিল মিয়াকেও মামলায় আসামি করা হয়।
তদন্ত শেষে চলতি বছরের ১৯ মার্চ সাবেক উপাচার্য আব্দুল জলিল মিয়াসহ ওই চার কর্মকর্তাকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র পাঠায় দুদক। পরে গত ২০ জুলাই মামলার চার্জশিট আমলে নিয়ে বিশেষ জজ আদালত সাবেক উপাচার্য আব্দুল জলিল মিয়া ও উপ রেজিস্টার শাহজাহান আলী মন্ডলের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়ে বাকি তিন আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। এর কিছুদিন পর জামিন পান মামলার সকল আসামী।
এর আগে গত ১৬ জুলাই রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৩তম সিন্ডিকেট সভায় ওই চার কর্মকর্তা উপ-রেজিস্ট্রার শাহজাহান আলী মন্ডলকে অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার, উপ-পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) এটিএম গোলাম ফিরোজকে অতিরিক্ত পরিচালক, সহকারী রেজিস্ট্রার মোর্শেদ উল আলম রনিকে উপ-রেজিস্ট্রার ও অর্থ ও হিসাব শাখার সহকারী পরিচালক খন্দকার আশরাফুল আলমকে উপ-পরিচালক পদে পদোন্নতি দেওয়া হলে ক্যাম্পাসে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। নানা বিতর্ক ও সমালোচনার পর মঙ্গলবার (০৩ অক্টোবর) ৫৪ তম সিন্ডিকেট সভায় তাদের পদোন্নতি স্থগিতসহ সাময়িক বহিষ্কাকারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এবিষয়ে জানতে চাইলে বহিস্কৃত কর্মকর্তা মোর্শেদ উল আলম রনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমাদেরকে এখনো কিছু জানানো হয়নি। সিন্ডিকেট সভায় প্রকৃতপক্ষে কি সিদ্ধন্ত নেয়া হয়েছে সে বিষয়ে আমরা এখন পর্যন্ত কিছুই জানি না।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার ও সিন্ডিকেটের সদস্য সচিব ইব্রাহীম কবীরের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।




