স্পটলাইট

খরগোশের দেশ ওকুনোশিমা!!!

লম্বা লম্বা কান নেড়ে বেড়ানো মজার প্রাণী খরগোশ। অনেকেই ভালোবাসেন খরগোশ পুষতে। তবে কি এই বণ্য প্রাণীটির মুক্ত রূপ আসলে একেবারেই ভিন্ন। খরগোশ দলে থাকতে ভালোবাসে আর দলের সবার সাথে সে যখন খেলা করে, খুশি মনে দৌড়ে বেড়ায় তখন সেটা হয় এক অপার্থিব দৃশ্য। সে দৃশ্য ঘরে খুব কমই দেখা যায়।
তো খরগোশের মজার রাজত্বে গিয়ে দিনভর তাদের সাথে থেকে তাদের খেলার সঙ্গী হতে পারেন আপনি নিজেই। এজন্য আপনাকে যেতে হবে জাপানের ওকুনোশিমায়। এখানে গেলে আপনাকে খরগোশ খুঁজতে হবে না। বরং শত শত খরগোশ নিজেই দৌড়ে চলে আসবে আপনার কাছে। নতুন অতিথিকে এভাবেই স্বাগত জানায় তারা।
অতিথিরাও খরগোশ বন্ধুদের জন্য নিয়ে যায় হরেক রকম খাবার। খরগোশ যেহেতু দ্রুত প্রজনন ঘটাতে সক্ষম একটি প্রাণী তাই এই দ্বীপে তাদের আধিক্য বেড়েই চলেছে। সেই অনুযায়ী খাবার অপ্রতুল। এজন্য নতুন অতিথি মানেই তাদের জন্য উৎসব। তবে কি, দুষ্টুর শিরোমণি এই প্রাণীদের খাবার কখনো কম পড়ে না। কারণ প্রতিদেইনই অসংখ্য পর্যটক ভিড় জমায় তাদের সাথে দেখা করতে।
কেন এই দ্বীপে এত খরগোশ? নানান জাতের নানান বর্ণের এত খরগোশ কি করে একত্রিত হলো? এ নিয়ে অনেক রকম কাহিনীই প্রচলিত আছে। ওকুনোশিয়া মূলত ছিল জাপানের মরণাস্ত্র পরীক্ষা করে দেখার জন্য নির্ধারিত একটি দ্বীপ। এখানে আগ্নায়াস্ত্র বানানোও হত। ১৯২৯-১৯৪৫ সালে জাপান রাষ্ট্রসিমা থেকে দূরে ওকুনোশিমাকে বেছে নেয় গোপন সামরিক অস্ত্র তৈরির কারখানা হিসেবে। এখানে উৎপাদন করা হয়েছিল ৬ হাজার টন বিষাক্ত গ্যাস।
নতুন অস্ত্র পরীক্ষা করার জন্য নিয়ে আসা হত নিরীহ খরগোশদের। অনেকের ধারণা বর্তমান খরগোশেরা সেইসব হতভাগ্য খরগোশদেরই বংশধর। ২য় বিশ্বযুদ্ধের পর যখন অস্ত্র তৈরি বন্ধ হয় এই দ্বীপে তখন সৈনিকরাই পুষত এদের, খাবার দিত, দিত ভালোবাসা। তবে অনেকেই এই গল্পটির বিরোধিতা করেন। তারা বলেন, যুদ্ধের সময় সব খরগোশকেই মেরে ফেলা হয়েছিল। তাই তাদের কোনো বংশধর থাকতে পারে না।
আরেকটি গল্প এমন প্রচলিত আছে যে, ১৯৭১ সালে কিছু স্কুলছাত্র ৮ টি খরগোশ এই দ্বীপে নিয়ে আসে। মুক্ত পরিবেশে ক্রমাগত বংশ বিস্তার করে আজ তারা সংখ্যায় এত!
তবে পেছনের গল্প যাই থাকুক না কেন বর্তমানে ওকুনোশিমা খরগোশের স্বর্গ রাজ্য। এই দ্বীপের পাহাড়ে জঙ্গলে নির্বিবাদে ঘুরে বেড়ায় তারা। যেই আসুক দ্বীপে তাকে বরণ করে নেয় চিরিচেনা বন্ধুর মতো। জাপানের নানান মজার প্রানীদের দ্বীপের মধ্যে এটি সবচেয়ে জনপ্রিয়। এখানকার খরগোশেরা বাস্তবে শুধু নয়, ক্যামেরার সামনে আজব সব কির্তী দেখিয়ে ইউটিউবেও প্রায়ই ভাইরাল হয়। জাপান ভ্রমণে গেলে তাই সেলিব্রেটি খরগোশ দলের সাথে দেখা না করলেই কিন্তু নয়!
তথ্যসূত্রঃ দ্যা গার্ডিয়ান/প্রিয়.কম

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button