‘ঘুষের’ টাকা ফেরাতে বিষ হাতে আ. লীগ নেতার বাড়িতে চাকরি প্রার্থী!

রীতিমতো সাত লাখ টাকা নগদ দিয়ে চাকরি পাননি এক চাকরি প্রার্থী। তাই ঘুষের টাকা ফেরত দেয়ার দাবিতে ‘ঘুষগ্রহণকারী’ ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক রুবেলের বাড়িতে হাজির হয়েছিলেন ওই নারী!
জানা গেছে, চাকরি প্রার্থী সুরাইয়া বেগম ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার গড়েয়া মুন্সিপাড়া এলাকার আব্দুল কাদেরের স্ত্রী। গড়েয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারিক শূন্যপদে একজন শিক্ষক নিয়োগ করা হবে শুনে বিদ্যালয়ের ম্যানিজিং কমিটির সভাপতি ও ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক রুবেলকে ম্যানেজ করেন কাদের। পরে বিদ্যালয়ের ম্যানিজিং কমিটির সভাপতি ওই পদের জন্য আব্দুল কাদেরের কাছে সাত লাখ টাকা দাবি করেন। আব্দুল কাদের সভাপতি গোলাম ফারুক রুবেলকে পুরো সাত লাখ টাকা অগ্রিম প্রদান করেন।
গত ২৫ সেপ্টেম্বর ঠাকুরগাঁও গড়েয়া উচ্চবিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারিক ও এমএলএস শূন্যপদে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে গ্রন্থাগারিক পদে এমপি রমেশ চন্দ্র সেনের প্রার্থী উজ্জল হোসেনকে নিয়োগ প্রদান করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্যজনকে নিয়োগ দেয়ায় হতাশ হয়ে পড়ে আব্দুল কাদের ও তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগমসহ অন্যান্য প্রার্থীরা। ওইদিন স্কুল ম্যানিজিং কমিটির সভাপতি চাকুরী না দিতে পারায় সুরাইয়কে অর্ধেক টাকা প্রদান করেন। বাকি টাকা পরে দিবেন বলে জানিয়ে দেন।
গত ২৮ তারিখ সকালে সুরাইয়া বেগম গড়েয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানিজিং কমিটির সভাপতি ও ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক রুবেলের বাড়িতে চাকরির জন্য বাকি উেকাচের টাকা ফেরত নেয়ার জন্য চলে আসেন বিষের বোতল হাতে নিয়ে। এ সময় কিছুটা বাকবিতণ্ডা হলে সভাপতি সুরাইয়াকে কয়েকদিন পর টাকা ফেরতের আশ্বাস দিয়ে বিদায় জানান।
জানা গেছে, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা গড়েয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারিক ও এমএলএস পদে নিয়োগ আবেদনের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রদান করা হয়। সেই প্রেক্ষিতে গ্রন্থাগারিক পদে ১২ জন ও এমএলএস পদে ৯ জন আবেদন করেন। স্কুল ম্যানিজিং কমিটি ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা ওই দুই পদে নিয়োগ প্রদানের কথা বলে অনেক প্রার্থীর কাছে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়। কিন্তু সেই সকল প্রার্থীদের নিয়োগ না দিয়ে প্রধান শিক্ষক ও এমপি’র পছন্দের লোককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
গত ২৫ সেপ্টেম্বর ঠাকুরগাঁও গড়েয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারিক ও এমএলএস শূণ্যপদে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ঠাকুরগাঁও স্থানীয় এমপি রমেশ চন্দ্র সেন নিজেই উপস্থিত থেকে প্রার্থীদের পরীক্ষা নেন। পরে গ্রস্থাগারিক পদে উজ্জল হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে চূড়ান্ত করা হয়।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রার্থী জানান, গ্রস্থাগারিক ও এমএলএস পদের জন্য চাকুরি দেওয়ার নামে স্কুল কমিটি অনেক জনের কাছে ৮-১০ লক্ষ টাকা নেয় অগ্রিম নেয়। কিন্তু কারো চাকুরি দিতে পারেনি। আরো বেশি টাকার বিনিময়ে এমপি সাহেব, ম্যানিজিং কমিটির সভাপতি রুবেল ও প্রধান শিক্ষকের মতামতে ওই দুই পদে নিয়োগ দিয়েছেন অন্যজনকে। আমরা অনেকেই জমি জায়গা, গরু, বাছুর বিক্রি করে চাকুরির আশায় টাকা দিয়েছিলাম স্কুল কমিটিকে। আমরা অনেক ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে গেছি।
গ্রস্থাগারিক প্রার্থী সুরাইয়া বেগম ও তার স্বামী আব্দুল কাদের জানান, ম্যানিজিং কমিটির সভাপতি ও আওয়ামীলীগের বড় নেতা রুবেল ভাইয়াকে তার কথা মত ৭ লক্ষ টাকা প্রদান করেছিলাম। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন চাকুরিটা হবেই। কিন্তু অন্যজনের কাছে বেশি টাকা নিয়ে এমপি, প্রধান শিক্ষক ও উনি নিয়োগ চূড়ান্ত করেছেন। অগ্রিম টাকা সভাপতি অর্ধেক ফেরত দিয়েছেন।
তিনি আরো বলেন, বাকী টাকা দিতে টালবাহানা শুরু করলে আমার স্ত্রী উনার বাড়িতে বিষের বোতল নিয়ে গেছিলেন বলে স্বীকার করেছেন। বাকি অর্ধেক টাকা ২ অক্টোবর দিবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
গড়েয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের গ্রস্থাগারিক পদে নতুন নিয়োগ প্রাপ্ত উজ্জলের কাছে টাকা প্রদারে বিষয়ে জানতে চাইলে সে জানায় স্কুলের উন্নয়নের জন্য স্কুল ফান্ডে কিছু টাকা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি শিকার করেন।
গড়েয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওহিদুল ইসলাম জানান, এমপি সাহেবের উপস্থিতিতে পরীক্ষা নেয়া হয়েছে। তারপরে নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়েছে। অনেকজনের কাছে টাকা নিয়েছেন এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন কারো কাছে কোনো টাকা নেয়া হয়নি। এমন অভিযোগ ভিত্তিহীন।
গড়েয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানিজিং কমিটির সভাপতি ও ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক রুবেল জানান, টাকার বিনিময়ে কোনো প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। মেধার ভিত্তিতে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। চাকরি দেয়ার নামে সুরাইয়া বেগমের কাছে টাকা নেয়ার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আবেগের বশে কেউ কিছু বললেই তা তো আর সত্য নয়।
ইত্তেফাক




