খেলা

’লিড নিবে বাংলাদেশ’

পচেফস্ট্রুম টেস্ট বাংলাদেশের কাছে বারবার ধরা দিচ্ছে রহস্য হিসেবে। টস জিতে বোলিং সুবিধার কথা চিন্তা করে ফিল্ডিং নিয়েছিলেন মুশফিকুর রহিম। তবে পরবর্তীতে তার সিদ্ধান্তকে ভুল প্রমাণ করে রানের পাহাড় গড়েছেন প্রোটিয়া ব্যাটসম্যানরা। ৪৯৬ রানে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করেছে তারা।
এই ইনিংস ঘোষণাতেও জড়িয়ে আছে রহস্য। একদম হুট করেই ইনিংস ঘোষণা করে দক্ষিণ আফ্রিকা। এমনকি ৫০০ রানের খুব কাছে গিয়েও ছুঁয়ে দেখেনি সেই মাইলফলক- যার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিল না বাংলাদেশ।
তবে বোলিংয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা সফলতা পাননি ব্যাটিংয়েও। দ্বিতীয় দিনের শেষ সেশনে ব্যাট করতে নেমে যে তিনটি উইকেট হারিয়েছে সফরকারীরা, তার সবকটিই হয়ে দাঁড়াচ্ছে আক্ষেপের কারণ।
এতকিছুর পরও লিডের স্বপ্নই দেখছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই জানান তরুণ পেসার তাসকিন আহমেদ।
দলের সবাই লিডের কথা ভাবছেন জানিয়ে তাসকিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘ফিল্ডিংয়ের পর ব্যাটিংয়ের সময় যতক্ষণ আমি ড্রেসিংরুমে ছিলাম, একবারের জন্যও শুনিনি বা আমরা ভাবিনি ফলোঅনের কথা। আমরা চিন্তা করছি, যত লম্বা খেলা যায়। যত বেশি রান করা যায়। লক্ষ্য থাকবে, লিড নেয়ার। লিড নিতে না পারলেও কাছাকাছি যাওয়ার, যেন দ্বিতীয় ইনিংসে বোলারদের বোলিং করতে সুবিধা হয়।’
পরিস্থিতি বিবেচনায় এখন পর্যন্ত ম্যাচটি হয়ে দাঁড়িয়েছে একপেশে, যেখানে রাজত্ব স্বাগতিকদের। এতে টাইগার সমর্থকদের মনে কাজ করছে হারের ভয় ও শঙ্কা। তবে তাসকিন বেশ আত্মবিশ্বাসের সাথে প্রত্যাশা করছেন হার এড়ানোর।
তিনি বলেন, জিততে না পারলেও অন্তত ড্র করবে বাংলাদেশ। হারার চিন্তা তো একদমই করছি না। যদি জেতা সম্ভব না হয় তাহলে ড্র করবো ইনশাল্লাহ।’
এ সময় তাসকিন জানান, পিচ এতো মন্থর হবে সেটি ভাবেননি তারা। হয়ত এ কারণেই টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন অধিনায়ক মুশফিক।
তরুণ পেসার বলেন, ‘পিচ দেখে মনে আমরা ভেবেছিলাম আরেকটু বাউন্স থাকবে। আমরা সেন্টার উইকেটে পাশে যখন অনুশীলন করেছি সেই উইকেটের বাউন্স আরেকটু বেশি ছিল। আরেকটু বেশি স্কিডি ছিল। এতটা মন্থর আর ফ্ল্যাট উইকেট হবে আমরা আশা করিনি।’
ম্যাচের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশকে মূলত হতাশ করেছে উইকেট শিকার না করতে পারা, স্বাগতিকদের রানের পাহাড় নয়। তাসকিন বলেন, ‘যথেষ্ট উইকেট নিতে না পারায় আমরা হতাশ। আমরা খুব খারাপ বোলিং করিনি। যদি খারাপ বোলিং করতাম তাহলে ছয় শ’র কাছাকছি রান করত। যেভাবে বল করেছি তাতে খুশি।’
প্রথম দিনের তিন সেশন ও দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনে নিষ্প্রাণ ছিল বাংলাদেশের বোলিং। দ্বিতীয় দিনের লাঞ্চের পর একটু প্রাণ ফিরে আসে যেন পেসারদের গতিময় বলে। আর তাতে যে দুই উইকেটের পতন ঘটেছিল, স্বস্তি এনেছিল তা-ও। তাসকিন জানালেন, লাঞ্চের পর পরিকল্পনা অনুযায়ী বল করার চেষ্টা করেছেন তারা, সেই সাথে ছিল একেক ব্যাটসম্যানের জন্য একেক পরিকল্পনা- ‘একেক ব্যাটসম্যানের জন্য একেক পরিকল্পনা ছিল। (লাঞ্চের পর) আমরা পরিকল্পনা অনুযায়ী বোলিং করার চেষ্টা করেছি। একেক ব্যাটসম্যানের শক্তির জায়গা একেক রকম। তাদের জন্য ফিল্ডিং সেটআপ একেক রকম। ওই অনুযায়ী আমরা করার চেষ্টা করেছি।’
তাসকিন আরো জানান, এখন ভালো রান করে দ্বিতীয় ইনিংস জমিয়ে তোলার আশায় আছেন তারা, ‘এখন সামনের দিকে তাকিয়ে আছি। ভালো একটা রান হলে হয়তো দ্বিতীয় ইনিংসে বোলিংও ভালো হবে।’
বাংলাদেশের জন্য দ্বিতীয় দিন বিস্ময় হয়ে এসেছিল তামিম ইকবালের ওপেনিং করতে না নামা। পরবর্তীতে জানা যায়, ফিল্ডিংয়ের সময় ৪৯ মিনিট কোনো এক কারণে মাঠের বাইরে ছিলেন তামিম। নিয়ম অনুযায়ী, ইনিংসের শেষ যতটুক সময় ফিল্ডার মাঠের বাইরে থাকবেন, দল ব্যাটিংয়ে নামার পর ততক্ষণ ব্যাট হাতে ক্রিজে নামতে পারবেন না তিনি। আর হুট করে ইনিংস ঘোষণা করে এই সুবর্ণ সুযোগটি প্রতিপক্ষ অধিনায়ক ফ্যাফ ডু প্লেসিস কাজে লাগানোয় ওপেনিংয়ে নামা হয়নি তামিমের।
এ বিষয়ে তাসকিন বলেন, ‘তামিম ভাইয়ের একটু সমস্যা হচ্ছিল। হঠাৎ করে ওরা ইনিংস ঘোষণা করাতে দুর্ভাগ্যজনকভাবে উনি ইনিংস উদ্বোধন করতে পারেননি। আমি মনে করি না, তামিম ভাইয়ের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে বা দলের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে। বাকিরা সবাই আছে, ওরা যে কোনো জায়গায় খেলতে প্রস্তুত।‘
তাসকিন আরো জানান, প্রোটিয়াদের ইনিংস ঘোষণার জন্য ওই সময় মোটেও প্রস্তুত ছিল না বাংলাদেশ।
‘ওরা তো হঠাৎ করে ইনিংস ঘোষণা করেছে। এটা নিয়ে আমাদের কোনো পরিকল্পনা ছিল না। আমরা তৈরি ছিলাম না। এখন সব ঠিকই আছে। এত ফিল্ডিং করার পর যে কারোর ছোটখাটো সমস্যা হতেই পারে’ বলেন তাসকিন।
সুত্র : নয়া দিগন্ত

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button