বিবিধশিরোনাম

মুক্তামনির আরো একটি অস্ত্রোপচার কাল

মুক্তামনির আরো একটি অস্ত্রোপচার হতে যাচ্ছে আগামীকাল মঙ্গলবার। শারীরিক অবস্থা অস্ত্রোপচারের জন্য উপযুক্ত ছিল না বলে গত ২৯ আগস্ট নির্ধারিত অস্ত্রোপচারটি সম্পূর্ণ করা যায়নি। সেদিন অপারেশন থিয়েটারে নেয়ার পর প্রচণ্ড জ্বর উঠে তার। ফলে চিকিৎসকেরা তাকে অস্ত্রোপচার না করে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) ফিরিয়ে নিয়ে যান। সেদিন অবশ্য দুই ঘণ্টা আইসিইউতে থাকার পর তাকে আবার বেডে ফিরিয়ে নেয়া হয়।
সাতক্ষীরার মুদি দোকানী ইব্রাহিম হোসেনের মেয়ে মুক্তামনির রক্তনালীতে অনেকগুলো টিউমার রয়েছে। গত ১২ আগস্ট ওর ডান হাতে অস্ত্রোপচার করে হাত থেকে প্রায় তিন কোজি ওজনের ফুলে থাকা বাড়তি অংশ ফেলে দেন চিকিৎসকেরা। পাশাপাশি অপুষ্টিতে আক্রান্ত মুক্তামনিকে পুষ্টিকর খাবার, ‘ফ্রেস ব্লাড’ এবং রক্ত থেকে শুধু ‘প্লাজমা সেল’ পৃথক করে ওর শরীরে পুশ করায় সে আগের চেয়ে অনেক বেশি সুস্থ হয়েছে। তার দেহে আরো অনেক টিউমার রয়েছে। সেগুলো অপসারণ করতে হবে ধীরে ধীরে।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের সমন্বয় ডা. সামন্ত লাল সেন জানিয়েছেন, আজ সোমবার মুক্তামনির জন্য গঠিত মেডিক্যাল বোর্ড তার শারীরিক অবস্থা পর্যালোচনা করেন এবং তাকে অস্ত্রোপচারের জন্য উপযুক্ত মনে করেন। মেডিক্যাল বোর্ডের সিদ্ধান্তের আলোকেই আগামীকাল তাকে আবারো অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হবে। মেডিক্যাল বোর্ড অবশ্য আজ মুক্তামনির জন্য কিছু তাৎক্ষণিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন এবং তাকে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন।
গত ১২ আগস্ট প্রথম অস্ত্রোপচারের আগে সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে যোগাযোগ করা হয়েছিল মুক্তামনির চিকিৎসার জন্য। সেখানকার চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট এবং ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মেয়েটির শারীরিক অবস্থা দেখে জানিয়ে দেন যে তারা অস্ত্রোপচার করতে পারবেন না। এরপর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট সিদ্ধান্ত নেয় তারাই মেয়েটির অস্ত্রোপচার করবে এবং এজন্য ২০ সদস্যের একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে প্রথমে ৮ আগস্ট বায়োপসি করে। বায়োপসি রিপোর্টে ওর হাতে এবং শরীরের অন্যান্য অংশের রক্তনালীতে বেশ কিছু টিউমার শনাক্ত হয়। ১২ আগস্ট প্রথমে হাতের ফুলে যাওয়া অংশ এবং রক্তনালীর টিউমার অপসারণ করা হয়।
উল্লেখ্য, মুক্তামনির চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয়ভার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বহন করছেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button