রাজনীতি

বিচার ব্যবস্থার বিরুদ্ধে না গিয়ে আইনসঙ্গতভাবে মোকাবেলা করুন : মান্না

বিচার ব্যবস্থার বিরুদ্ধে না গিয়ে আইনসঙ্গতভাবে ষোড়শ সংশোধনী মামলার রায়ের বিষয়গুলো মোকাবেলার আহ্বান জানিয়েছেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।
জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা অনুষ্ঠানে মান্না একথা বলেন।
তিনি আরো, ‘সরকারের কাছে আবেদন করি, এমন কিছু হয়নি। আপনারা বলছেন, চাকরি খাবেন। উনি বলছেন, চাকরি খেতে পারবেন না। তাহলে একটু ধৈর্য ধরেন, উনিতো বেশি দিন নেই।’
রায় নিয়ে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার অনড় অবস্থানের প্রেক্ষাপটে কিছু করতে হলে সেজন্য তার অবসর পর্যন্ত অপেক্ষার পরামর্শও সরকারকে দেন তিনি।
‘আপনারা সভা-সমিতি করে বলছেন, এতোদিনের মধ্যে পদত্যাগ করতে হবে, না হলে…। আল্লাহ জানে, না হলে যে কী হবে? অতীতে কি কি হয়েছে আমরাতো দেখেছি। মানে এই জায়গাটাই (বিচার বিভাগ) পারা যাবে না। পারা যাবে না বলে বলছি, বন্ধ রাখেন। বরঞ্চ, ন্যায়সঙ্গতভাবে আইনগতভাবে যেটা করা যায় সেটুকুই করেন।’
জাতীয় মানবাধিকার আন্দোলন নামক সংগঠনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে রায় নিয়ে সরকার শুরুতে ‘অনেক গরম’ থাকলেও এখন আবার ‘ঠাণ্ডা’ হচ্ছে বলে মনে করেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক।
‘সরকারি প্রথম যে রকম গরম ছিল, ১৪ বার পরিবর্তন করবেন। এখন তো ঠাণ্ডা হচ্ছেন। একবার পরীক্ষা দিয়ে ফেল করেছেন। এখনতো পরীক্ষা দিতে সাহস পাচ্ছেন না। করছেন না কেন? করেন… উনিতো ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আছেন।’
রায়ে কেবল বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে বলা হয়নি, বরং সামগ্রিক রাজনীতি ও দেশের পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন মান্না।
তিনি বলেন, ‘সব মিলিয়ে উনি কিন্তু কেবল এই সরকারের বিরুদ্ধে বলেননি। বিএনপিকে, সামরিক সরকারকে, এরশাদ সাহেবের সরকারকে, বলেছেন এটা ব্যানানা রিপাবলিক।’
রায়ের পর প্রধান বিচারপতির সাথে সরকারের মন্ত্রী ও একজন উপদেষ্টার সাক্ষাতের প্রসঙ্গ টেনে মান্না বলেন, ‘একটার পর একটা নেতা-মন্ত্রী লাইন লাগিয়েছে তার বাড়িতে। দাওয়াত খেতে যায়, লাঞ্চ খেতে যায়, ডিনার খেতে যায়; কিন্তু তাকে নাড়াতে পারছে না। উনি বলছেন, আমিতো রাজনীতি করছি না। আমিতো কিছু করছি না, যা করার আপনারাই করছেন। এগুলো থামান।’
তিনি বলেন, ‘আমি রীতিমত চিন্তিত, এ কারণে না বিচার বিভাগের কী হবে? এই যে সামগ্রিক দেশের পরিস্থিতি, নীতি নৈতিকতাহীন রাজনীতির চর্চা হচ্ছে, এই যে ক্ষমতার দর্প দেখানো হচ্ছে এগুলো সরকার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে গুড়িয়ে দেবে। পার্লামেন্টের বিরুদ্ধে কথা বললে ক্ষেপে যাচ্ছেন, ওটা কি পার্লামেন্ট না কি? তিনশ’জনের মধ্যে ১৫৪ জন আগেই জিতে গেছে, বাহ! ওয়াকওভার পেয়েছেন। বিজয় হননি তো। আবার বলে আমি এমপি স্যালুট করেন।’
নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক বলেন, ‘আমি বিচারব্যবস্থাকে সম্মান দেখাতে চাই, সংহত দেখতে চাই। কারণ শেষ পর্যন্ত আমার যাওয়ার জায়গা সেটাই। বিচারতো আপনারা সরকার থেকে দিচ্ছেন না, সব সময় শাসক বলেন যা-ই বলেন, তার একটা প্রটেকশন থাকতে হয়, তাকে শাসন করতে পারে সে রকম ব্যবস্থা থাকতে হয়। এজন্য শাসন বিভাগ বলেন, বিচার ব্যবস্থা বলেন, নির্বাহী বিভাগ বলেন, তাতে ব্যালেন্স থাকতে হয়। যাতে একজন আরেকজনকে ধরতে পারে। না হলে পুলিশ ও র‌্যাব যা ইচ্ছা তাই করতে পারত।’
এদিকে আলোচনা সভায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, রাষ্ট্রীয় মদদে গুম-খুন হয়। সেটা মানবতাবিরোধী অপরাধ। আমরা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল করেছি, সেখানে ১০০ মানবতাবিরোধী অপরাধী পাওয়া যায়নি। গুম-খুনের সাথে জড়িত শতাধিক মানবতাবিরোধী পাওয়া যাবে। তাদেরকে ওই আদালতে বিচার হওয়া দরকার। এটা যে ওই আদালতে আসবে সেটা বলার দায়িত্ব বিচারকদের।’
আলোচনা অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্তর নির্বাহী পরিচালক নূর খান লিটন, অ্যাডভোকেট ফাহিমা নাসরিন মুন্নী, গুমের পর খুন হওয়া যশোরের বিএনপি নেতা নাজমুল ইসলামের স্ত্রী ঝিকরগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান সাবিরা সুলতানা বক্তব্য দেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button