সংবাদদাতা, জামালপুর : ইসলামপুরে বন্যার পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। যমুনা-ব্রহ্মপুত্রের পানি অতিমাত্রায় বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার ৯৫ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। জামালপুর-দেওয়ানগঞ্জ-রৌমারী-রাজিবপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের ইসলামপুর উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন দরিয়াবাদ নামকস্থানে ভেঙ্গে যাওয়ায় ঢাকা ও জামালপুরের সাথে ইসলামপুর, দেওয়ানগঞ্জ, রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। রেললাইন বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ইসলামপুর ও দেওয়ানগঞ্জে সরাসরি রেল যোগাযোগও বন্ধ হয়ে গেছে।
বন্যাপরিস্থিতি সার্বক্ষণি পর্যবেক্ষণে উপজেলায় কন্টোল রুম খোলা হলেও প্রয়োজনীয় ত্রাণ বরাদ্দ নেই বলে জানা গেছে। বন্যার পানি উপজেলা পরিষদ চত্তরে ঢোকে পড়ায় বন্যার্তরা নিরাপদ আশ্রয়ও খোঁজে পাচ্ছে না। বিভিন্ন বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র ও উঁচু ব্রিজ-কার্লভাটে আশ্রিতরা চোর-ডাকাত আতঙ্কের মধ্যে রাত কাটাচ্ছেন।
জামালপুর পাউবো সূত্র জানায়, যমুনার পানি বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে মঙ্গলবার বিপদসীমার ১৪০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। ব্রহ্মপুত্রের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সমগ্র উপজেলা বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে।
বনভাসীরা জানান, ইসলামপুরে এবারের বন্যা ১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যাকে অতিক্রম করেছে। উপজেলার কোথাও তিলধারণের জায়গা না থাকায় নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটে চলেছেন বন্যার্তরা। যেসব মানুষ বিভিন্ন বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র ও উঁচু ব্রিজ-কার্লভাটে আশ্রয় নিয়েছন তারা চোর-ডাকাতের ভয়ে আতঙ্কের মধ্যে রাত কাটাচ্ছেন।
বন্যায় বেশি সমস্যায় পড়েছে শিশু, বৃদ্ধা, প্রতিবন্দী ও গবাদি পশুরা। চিনাচুলী ইউনিয়নের বানভাসী আজাহার আলী জানান, তার দুইটি গরু পার করতে তিন হাজার টাকা নৌকা ভাড়া দিতি হয়েছে।
উপজেলা দুর্যোগ ও ত্রাণ শাখা জানায়, সরকারি হিসাবে উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে ১৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে ২২ হাজার পরিবারের এক লাখ নয় হাজার ৫০০ জন মানুষ পানিবন্দি হয়েছে।
বন্যাকবলিত পাথর্শী ইউপি চেয়ারম্যান ইত্তেখার আলম বাবুল, চিনাডুলী ইউপি চেয়ারম্যান আবদুস সালামসহ অনেকে জানান, বেসরকারী হিসাবে পানিবন্দী মানুষের সংখ্যা তিন গুণ ছাড়িয়ে যাবে।
উপজেলা প্রকল্পবাস্তবায়ন কর্মকর্তা মেহেদী হাসান টিটু জানান, ওই সব পানিবন্দী মানুষের জন্য ২২০ মেট্রিক টন চাল, বিশ লাখ নগদ টাকা, ৪৪ মেট্রিক টন চিড়া, ২২ মেট্রিক টন গুড়, ২২ হাজার প্যাকেট ম্যাচ ও মোমবাতি, সাত হাজার পিস লাইফ জ্যাকেট, দুই হাজার তাবু, পাঁচ হাজার রান্নার চুলা এবং ত্রাণসামগ্রী বিতরণে পরিবহন খরচের জন্য বিশ লাখ টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণি পর্যবেক্ষণের জন্য কন্টোল রুম খোলা হয়েছে।
সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত ত্রাণ হিসাবে মাত্র ১০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। যা প্রয়োজনের তুলনায় অতি অল্প বলে জানান বন্যার্তরা। উপজেলা সরকারি খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাকিলা সারমিন জানান, গুদাম চত্তরে বন্যার পানি প্রবেশ করায় ত্রাণ খাদ্য সরবরাহে সমস্যা হচ্ছে। উপজেলা সদরের সাথে সকল প্রকার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
ইসলামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ দ্বীন-ই আলম জানান, অসহায় বন্যার্তদের নিরাপত্তার জন্য চর মুন্নিয়া ও বেরকুশা এলাকায় দু’টি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প খোলা হয়েছে। এ ছাড়া পুলিশী তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শহিদুর রহমান জানান, ১৩টি মেডিকেল টিম বন্যাদূর্গত এলাকায় কাজ করছে।
উপজেলা মাধ্যমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, মাধ্যমি পর্যায়ের ৬০টি স্কুল-কলেজ, মাদরাসা এবং ১০৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ হয়েছে। এতে প্রায় ২০ হাজার ছাত্রছাত্রী দ্বিতীয় সাময়ীক পরীক্ষা দিতে পারেনি।




