১০০ টি বিষয় যা সফল ব্যক্তিরা করে থাকেন: অনুশীলন ৯- ‘বিরতি নিন’
‘সফল ব্যক্তিরা করে এমন ১০০টি বিষয়: সফল জীবনযাপনের ছোট্ট অনুশীলন’ বইটি হাতে অনুবাদক বুশরা আমিন তুবা। ছবি: নূর, প্রিয়.কম।

প্রতিদিনের কাজের ফাঁকে আপনি কতক্ষণ একটু বিরতি নিয়ে নিজেকে সময় দেন? প্রতীকী ছবি।
নবম অনুশীলন: বিরতি নিন
আপনি কি যুক্তরাজ্যের শতকরা পঞ্চাশ ভাগ লোকের একজন যিনি সারা বছরে কোনো ছুটিই কাটান না? ২০১৪ সালের এক গবেষণা থেকে জানা গিয়েছে যে, ব্রিটেনের শতকরা ৪৫ ভাগ লোক ছুটির দিনেও কাজ করেন। এতে করে কর্মক্ষেত্র সম্পর্কিত চাপ, বিষণ্নতা ও ব্যর্থতা বেড়ে যায়। আপনি যদি কাজের মাঝে বিরতি না নেন, ক্যারিয়ারে আপনার হতাশা বহুগুণে বেড়ে যায়। তরুণ অবস্থায় আমি একজন ফিন্যান্স ডিরেক্টর ছিলাম। আমাকে দীর্ঘ সময় কঠোর পরিশ্রম করতে হতো। ছুটি কিংবা বিরতি নেওয়ার কোনো ফুরসতই মিলতো না। ধীরে ধীরে সবকিছু এত বিরক্তিকর হতে শুরু করলো যে আমি কাজ থেকে অব্যহতি দিতে বাধ্য হলাম।
প্রতিদিনের কাজের ফাঁকে আপনি কতক্ষণ একটু বিরতি নিয়ে নিজেকে সময় দেন? যদিও বেশি বিরতি নিলে কাজের ক্ষতি হতে পারে কিন্তু অল্পস্বল্প বিরতি নেওয়া উচিত সবারই। ব্যবসায়িক লেখক স্টিফেন কভে বলেন, ‘কাজের প্রতি অতিরিক্ত মনোনিবেশ করা ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।’
এমনকি আমি যখন এ বই লিখছি, আপনাদের সবার বিরতি নেওয়ার কথাও আমার মাথায় আছে। যখন আমি অনুভব করতে পারি যে আমার মনোযোগ একটু কম, আমি সঙ্গে সঙ্গে ছোট একটা বিরতি নিয়ে নিই। অতঃপর দ্বিগুণ মনোবল নিয়ে কাজে ফেরত আসি।
বড়সড় ছুটিতে গিয়ে আপনি নিজের উপর এবং নিজের সময়ের উপর ছোটখাটো একটি গবেষণা করতে পারেন। প্রতিদিনকার একঘেঁয়ে জীবন থেকে একটু বের হলেই কেবল আপনি জীবনের আসল অর্থ বুঝে উঠতে পারবেন।

আমাদের জীবন খুবই সংক্ষিপ্ত। এটিকে পুরোপুরি উপভোগ করার চেষ্টা করুন। প্রতীকী ছবি
পুরো দিনের মাঝে ছোট ছোট বিরতি নিন
প্রতি পঁচিশ মিনিটে পাঁচ মিনিটের বিরতি নিন। প্রত্যেক দু’ঘণ্টায় বড়সড় বিরতি নিন। অফিস এবং বাসার কাজে এমন ছোটখাটো বিরতি আপনাকে আরো উদ্যমী, কর্মঠ ও সাহসী করে তুলবে। এটিকে বলা হয় ‘পমোডোরো প্রক্রিয়া’। আপনি চাইলে আপনার সহকর্মীদের সঙ্গে এই ধারণা ভাগাভাগি করতে পারেন। মিটিং-এ কিংবা কম্পিউটারের সামনে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা থেকে বিরত থাকুন।
ছুটির সময় ছুটিই কাটান, অন্য কাজ নয়!
পুরো বছরে আপনি যে কয়টা ছুটি পান, সবগুলো কাজে লাগান। চাইলে সেগুলোকে ছোট ছোট বিরতিতে ভাগ করে নিন। আমাদের জীবন খুবই সংক্ষিপ্ত। এটিকে পুরোপুরি উপভোগ করার চেষ্টা করুন। পরিকল্পনা করুন এবং সেগুলোকে কাজে লাগান। তাহলে নিজেকে কখনোই আর ছোট মনে হবে না।
ছুটিতে থাকাকালীন অবস্থায় কোনো ধরনের মেইল চেক করবেন না। কাজের যেকোনো ফোন কল রিসিভ করবেন না। যদি খুব প্রয়োজন হয়, তাহলে দিনে একবার চেক করতে পারেন। দরকার পড়লে, ফোন বন্ধ রাখুন এবং জেনে নিন, আপনার বসের কোনো সমস্যা আছে নাকি এতে। যদি থেকেই থাকে, তাহলে তার সাথে খোলামেলা আলোচনা করুন। আপনি যেমন পরিবেশে কাজ করতে চান, ছুটি নিতে চান সেটি নিজেই তৈরি করুন।
বন্ধের দিনগুলোও একইভাবে কাটান
সপ্তাহে দু’দিন বন্ধ থাকে। সেসময়গুলোতেও একটা নিয়মের মধ্যে চলে আসুন। উদাহরণস্বরুপ, বন্ধের দিনগুলোতে মাত্র একবার কিংবা দু’বার ফোন এবং ই-মেইল চেক করুন। আপনি যদি পুরোপুরিভাবে বন্ধের দিন উপভোগ না-ই করেন তাহলে কীভাবে পূর্ণ উদ্যমে কাজে ফেরত আসবেন?
প্রিয়.কম



