পতাকা ক্যারিয়ার

সফল ব্যক্তিদের ১০০ জীবনচর্চা: অনুশীলন ২৭- ‘বাহবা দিন’

প্রিয় পাঠক, আপনাদের জন্য রয়েছে আমাদের এই নতুন আয়োজন। এখানে ‘দ্য সিল্ক রোড পার্টনারশিপ’ এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা নাইজেল কাম্বারল্যান্ড লিখিত একটি বইয়ের সাথে আপনাদের পরিচয় করানো হবে। বইটির শিরোনাম, ‘হান্ড্রেড থিংস সাকসেসফুল পিপল ডু: লিটল এক্সারসাইজেস ফর সাকসেসফুল লিভিং’। এবং আমরা বইটি অনুবাদ করছি “সফল ব্যক্তিদের ১০০ জীবনচর্চা” শিরোনামে। সপ্তাহব্যাপী এই আয়োজনে প্রতিদিন এই বই থেকে একটি করে বিষয় আলোচনা করা হবে। আজকের আয়োজনে জেনে নিন সফল ব্যক্তিদের করা ২৭ নম্বর বিষয়টি সম্পর্কে। বইটি অনুবাদ করেছেন বুশরা আমিন তুবা।

কিছু মানুষের ‘ধন্যবাদ’ একটু বেশিই দরকার কারণ এটি তাদের ব্যক্তিত্ব ও বেড়ে ওঠার সঙ্গে সংযুক্ত থাকে, প্রতীকী ছবি

অনুশীলন ২৭- ‘যেখানে বাহবা দেওয়ার সেখানে তা-ই করুন’
বিবাহ বিচ্ছেদ কিংবা চাকরী থেকে প্রত্যাহত হবার প্রধান কারণ প্রতারণা নয়। গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, এগুলোর অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে, যেখানে যাদের বাহবা দেওয়ার কথা, সেখানে হয়তো আপনি তা দেননা। সবারই প্রশংসিত হবার ইচ্ছা থাকে। মানুষ মাত্রই মূল্য, ভালোবাসা ও নির্ভরতা পাবার আশা রাখে। এজন্যই আশেপাশের মানুষগুলোকে প্রতিনিয়ত ধন্যবাদ দেওয়া ও তাদের কাজকে প্রশংসা করা খুব গুরুত্বপূর্ণ।
দুইভাবে আপনি কাউকে বাহবা দিতে পারেন। তা হলোঃ ব্যক্তিগতভাবে ও জনসম্মুখে। আপনি ব্যক্তিগত মেইল করে ধন্যবাদ দিন আর ছাদ থেকে চিৎকার করে দিন- যাই করেন না কেন ধন্যবাদ ও বাহবা দেওয়াটাই হলো মূখ্য। মনে রাখবেন, একটি ছোট্ট ধন্যবাদের কিন্তু অনেক শক্তি রয়েছে।
কিছু মানুষের ‘ধন্যবাদ’ একটু বেশিই দরকার কারণ এটি তাদের ব্যক্তিত্ব ও বেড়ে ওঠার সঙ্গে সংযুক্ত থাকে। আপনি কী এমন কেও যার বাহবা দরকার? আপনি আপনার প্রাপ্য ধন্যবাদ ও বাহবা না পেলে কেমন বোধ করেন?
সত্য বলতে, একজন একটি কাজ করে যথেষ্ট বাহবা না পেলে অন্য কেউ যদি সেটা পেয়ে যায় এর চেয়ে দুঃখজনক আর কিছু নেই। আপনার সঙ্গে যদি এমন হয় তাহলে মানুষটিকে চ্যালেঞ্জ করুন। দেখুন সে ক্ষমা চায় নাকি অস্বীকার করে!
মনে রাখবেন, কাউকে আবিষ্কার করা বেশ ছোঁয়াচে, প্রতীকী ছবি

এটিকে দৈনিক অভ্যাসে পরিণত করুন
নিজেকে উন্মুক্ত করুন এবং মানুষকে ভেতর ও বাইরে থেকে চেনার চেষ্টা করুন। তাদের প্রশংসা করা, ধন্যবাদ দেওয়া ও বাহবা দেওয়াকে নিত্যদিনের অভ্যাসে পরিণত করুন। বৃহৎ কিংবা স্পষ্ট কোন কিছুর জন্যে অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। ছোটখাটো ব্যাপারকেই আপন করে নেওয়া শিখুন।
শব্দ এবং কাজের মাধ্যমে প্রশংসা করতে শিখুন। নীচের যেকোন কিছু বলুন এবং দেখুন কী হয়-
*আপনার কোন সহকর্মীকে এক পাশে নিয়ে যান এবং গত সপ্তাহের কোন কাজের জন্য তাকে ধন্যবাদ জানান
*আপনার সঙ্গীকে ফুল কিংবা চকোলেট উপহার দিয়ে ধন্যবাদ জানান
*আপনার সহকারীকে কফি খাইয়ে ধন্যবাদ জানান
মনে রাখবেন, কাউকে আবিষ্কার করা বেশ ছোঁয়াচে। এর সাহায্যে আপনার নিজের এবং আশেপাশের সবার মনে ইতিবাচক ধারণা আসে। যত্ন, প্রশংসা ও ভালোবাসার জন্য আপনি অবশ্যই সম্মান পাবেন।
আপনার পরিচিতি পাবার দরকার না হলেও, অন্য কারোর আছে
বেশিরভাগ মানুষই প্রশংসা, ধন্যবাদ ও পরিচিত পেতে ভালোবাসে। এতে করে তারা অনুপ্রাণিত হয়। আপনি যদি তাদের মধ্যে একজন হন, তবে আপনি নিশ্চয়ই বুঝবেন ব্যাপারটি।
আপনার যদি কোন রকম বাহবা দরকার না হয় তবে জেনে রাখুন আপনার আশেপাশে কেউ নিশ্চয়ই এর আশায় আছে। আপনি যদি কোন কারণে যথাসময়ে ধন্যবাদ জ্ঞাপণ করতে ভুলেও যান তবে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। এভাবে মানুষের আপনার প্রতি নির্ভরশীলতা বাড়বে এবং আপনি হয়ে উঠবেন সকলের চোখে অনন্য!

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button