
ট্রান্স-সাইবেরিয়ান রেলওয়ের কথা শুনেছেন অনেকেই। এটা নিয়ে হয়েছে মুভি, বই। হয়েছে ভ্রমণ কাহিনী। চীন থেকে শুরু হয়ে রাশিয়ায় গিয়ে শেষ হওয়া এই বিশাল রেল লাইনটি প্রায় দশ হাজার কিলোমিটার লম্বা। দীর্ঘদিন সময় ধরে এই রেললাইনটি বিশ্বের একটানা সবচেয়ে বড় রেলপথ ছিল।
তার সেই দিন শেষ হতে যাচ্ছে খুব শীঘ্র।
এশিয়ার ভেতর দিয়ে যে বিশাল ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ে চালু হতে যাচ্ছে আগামী কয়েক বছরের মাঝে, সেটা চালু হলে সেটাই হবে একক দীর্ঘ রেলপথ। প্রায় ১৪ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেলপথটি সিঙ্গাপুর থেকে শুরু হয়ে শেষ হবে ইস্তানবুল, তুর্কি। এটাকে বলা হচ্ছে সাউদার্ন করিডোর এর মাঝে থাকবে তুর্কি, ইরান, পাকিস্তান, ভারত, বাংলাদেশ, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, চীন হয়ে দক্ষিণ কোরিয়া। অন্যদিকে এই রেলওয়ের নর্দার্ন করিডোর হিসেবে যেটাকে বিবেচনা করা হচ্ছে, সেটা ইউরোপে বিস্তার লাভ করবে এবং একই সাথে ইউরোপ এবং এশিয়াকে যুক্ত করবে। নর্দার্ন করিডোরে থাকছে জার্মানি, পোল্যান্ড, বেলারুশ ইত্যাদি দেশ।

কি সুবিধা হবে এই রেলপথের? তাতে পর্যটকদেরই বা লাভ হবে কীভাবে? এখন এশিয়ার অনেক দেশে যেতে গেলে স্থলপথে যাওয়া অত্যন্ত কষ্টকর। আবার আকাশপথে অনেক বেশি খরচের বিষয়। ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ে হলে এশিয়ার যে কোন দেশে যাওয়া একই সাথে কম খরচ এবং আরামদায়কও হবে। একটি ট্রেন টিকিট কেটে অনেক গুলি দেশ ঘুরে বেড়ানোও সম্ভব হবে যেটা আমাদের মত শখের পর্যটকদের কাছে অনেক বেশি আকর্ষণীয় হবে সন্দেহ নেই।
বাংলাদেশে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার ও রামু হয়ে মিয়ানমারের ঘুনধুম পর্যন্ত ১২৮ কিলোমিটার রেলপথ তৈরি সম্পন্ন হলেই এটা সম্ভব হবে। বাংলাদেশ এতদিন ছিল মিসিং লিংক, ২০২২ সালের মাঝে এটা তৈরি হলে পুরো এশিয়ার মাঝে বাংলাদেশী পর্যটকরা অত্যন্ত কম খরচে ঘুরতে যেতে পারবেন।




