সিংগাইর থানার দারোগার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ সিংগাইর থানার পুলিশ উপ-পরিদর্শক (এস আই)গাজী মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ পাওয়া গেছে।ইতিমধ্যেই ওই দারোগার বিরুদ্ধে উপজেলার বাইমাইল গ্রামের জনৈক নাসির উদ্দিন পুলিশ সিকিউরিটিসেল সহ বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।লিখিত ওই অভিযোগের ভিত্তিতে সিংগাইর প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতা।
থানা সূত্রে জানা গেছে,দারোগা গাজী মিজানুর রহমান ২০১৫সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় দফায় সিংগাইর থানায় যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকেই তথাকথিত থানার সেকেন্ড অফিসার বনে যান।থানা ভবনের উত্তর পশ্চিম পার্শ্বে সিসি ক্যামেরা আওতামুক্ত কক্ষে রমরমা ঘুষ বানিজ্যের নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন।ওই কক্ষেই মাদক ব্যবসায়ী ও থানার দালালদের সাথে চলে তার দেন-দরবার। সূত্র মতে,উপজেলার সাহরাইল গ্রামের মান্নান মহরার পূত্র শামীম ওরফে ফজলু মেম্বারের সাথে তার দহরম-মহরম সম্পর্ক থানা এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।সাম্প্রতিককালে একাধিক ব্যক্তিকে থানার অভ্যন্তেের মারধর করে নিজেকে দাপুটে দারোগা হিসেবে জাহির করেছে। গত ১৪ মার্চ ধল্লা ইউনিয়নের আঠালিয়া গ্রামের রফিকুল ইসলাম (৪২)ও তার চাচা হাজী আব্দুল মোতালেব (৬৫) থানায় অভিযোগ দিতে এসে দারোগা মিজানের হাতে মারধরের শিকার হন।বিনা অপরাধে চাচা-ভাতিজাকে থানা হাজতে থাকতে হয় কয়েক ঘন্টা।পরে ধল্লা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম ভূঁইয়ার মুচলেকায় ছাড়া পান তারা।এ নিয়ে একাধিক জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই সংবাদকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সাংবাদিকদের নিয়ে বিভিন্ন জনের কাছে অশ্লীল ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এ ছাড়া থানার সামনে ও বাসষ্ট্যান্ডে একাধিক রিক্সা চালক মিজান দারোগার হাতে মারধরের শিকার হন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগীরা মামলা ও পুলিশী হয়রানির ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
অপরদিকে, ২০১৬ সালের ১২ ডিসেম্বর উপজেলার ঋষিপাড়া-বলধারা রাস্তার বেরুন্ডী নামক স্থানে মাটি দিয়ে তৈরী বেআইনী গতিরোধকে নছিমন চালক জাকির হোসেনের (৪০) মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।মিজান দারোগা নিহতের পরিবারকে হুমকি দিয়ে মামলা থেকে বিরত রেখে গতিরোধক নির্মানকারী কেবিসি ইটভাটার মালিক আলী আকবরের পক্ষ নেন। নিহতের পরিবারটি ওই দারোগার ভয়ে ময়না তদন্ত ছাড়াই লাশ দাফন করতে বাধ্য হন। এ নিয়ে একাধিক জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কেবিসির ইটভাটার মালিকের সাথে মিজান দারোগা আতœীয়তার সম্পর্ক গড়ে তুলেছে । এদিকে,উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের মেদুলিয়া গ্রামে ২৫ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে মোয়াজ্জেম খানের বাড়িতে দুুুুুুুুুুুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটে।ডাকাতির ঘটনায় ওই গ্রামের নিরপরাধ দু’সহোদর শাহীন ও ছাত্তারসহ চাচাত ভাই শওকতকে গ্রেফতার করে দারোগা মিজান। তাদেরকে থানায় নিয়ে বেধড়ক মারধর করে স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করে। গ্রেফতারকৃতদের পরিবারের কাছ থেকে অর্থকরি হাতিয়ে নিয়ে নির্যাতন থেকে রেহাই দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া সিংগাইর থানায় যোগদান করেই ধামরাই উপজেলা খড়ারচর গ্রামের আব্দুল মজিদ নামের একজনকে পৌর এলাকার আজিমপুর মহল্লাহ মাদক দিয়ে ফাঁসাতে গিয়ে জনরোষ পড়ে মিজান দারোগা। পরবর্তীতে আব্দুল মজিদ বাদি হয়ে মিজানসহ আরো এক দারোগাকে আসামী করে কোর্টে মামলা দায়ের করেন।
থানা এলাকার ভুক্তভোগী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভূক্তভোগী অভিযোগ করে বলেন, সব সময় অশ্লিল ভাষা ব্যবহার করে নিরীহ লোকজনদের ভয়-ভীতি দেখিয়ে একটা আতংকের মধ্যে রাখেন মিজান দারোগা। সেইসঙ্গে নিজেকে পুলিশের জনৈক উর্দ্ধতন কর্মকর্তার আত্মীয় পরিচয় দিয়ে পুরো থানা এলাকা দাবিয়ে বেড়াচ্ছে ওই দারোগা। তাছাড়া সাভারের আশুলিয়াতে ৫ তলা বাড়ী নির্মাণ করায় থানা পুলিশের মধ্যে কানাঘুষা চলছে খোদ মিজান দারোগার বিরুদ্ধে। সেবাই পুলিশের ধর্ম এ শ্লোগান থাকলে ও গোটা পুলিশ বিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে মিজান দারোগার বেলায় দেখা গেছে তার বিপরীত কর্ম। থানাবাসী ওই দারোগার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। অভিযুক্ত দারোগা গাজী মিজানুর রহমানের ০১৭১২৬৯১০৯৩ নম্বর মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করলেও গত দু‘দিনে তিনি রিসিভ করেননি।
এ ব্যাপারে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) সিংগাইর সার্কেল মোঃ সামছুদ্দিন ছালেহ আহমদ চৌধুরী বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।




