
বেরোবি প্রতিনিধি: বেগম রোকেয়া বিশ^বিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ও বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অফ প্রফেশনালস্ এর প্রো-ভিসি ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ।
এই অধ্যাপককে আগামী চার বছরের জন্য বেগম রোকেয়া বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দিয়ে বৃহস্পতিবার আদেশ জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রনালয়। এতে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর প্রয়োজন মনে করলে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই এই নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন। “উপাচার্য হিসেবে তিনি বর্তমান পদের সমপরিমান বেতন-ভাতা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাবেন। বিশ^বিদ্যালয়ে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে তাকে সবসময় ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হবে।”
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০৯ এর ১০ (১) ধারা অনুযায়ী আগামী চার বছরের জন্য তাঁকে এই পদে নিয়োগ দিয়েছেন। ১লা জুন বৃহস্পতিবার মহামান্য রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব (স.বি.-১) আব্দুস সাত্তার মিয়া স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন (স্মারক নং- শিম/শা:১৮/বে.রো.বি-১/২০০৮/১৭২) জারি করা হয়েছে।
প্রফেসর ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ বিটিএফও ১৯৮৪ সাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি লোক প্রশাসন বিভাগের চেয়ারম্যান এবং জাপান স্টাডি সেন্টারের ডিরেক্টর ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ তিনি প্রেষণে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস্ (বিইউপি) এর উপ-উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ড. কলিমউল্লাহ জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষন পরিষদ (জানিপপ) এর সম্মানীত চেয়ারম্যান। দেশ-বিদেশের জার্নাল ও প্রকাশনা সংস্থা থেকে তাঁর বেশ কিছু গ্রন্থ ও গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।
সম্প্রতি জাতীয় নির্বাচন কমিশন গঠনের নিমিত্তে গঠিত সার্চ কমিটি কর্তৃক নির্বাচন কমিশনার হিসেবে প্রস্তাবিত ১০ সদস্য বিশিষ্ট প্যানেলের একজন ছিলেন ড. কলিমউল্লাহ।
গত ৫ মে উপাচার্যের নির্ধারিত চারবছর মেয়াদ পূর্ণ করে ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন ড. একে এম নূর-উন-নবী। তার প্রস্থানের ২৬ দিনের মাথায় ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয়া হল। তবে যোগদান করতে আরও এক সপ্তাহ সময় লাগবে বলে জানান সদ্য নিয়োগ প্রাপ্ত উপাচার্য ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ। তিনি বলেন, “ আমি দুটি বিশ^বিদ্যালয়ের সাথে ছিলাম। তাই নিয়ম-নীতি মেনেই আমাকে বেগম রোকেয়া বিশ^বিদ্যালয়ে যোগদান করতে হবে। এজন্য সপ্তাহখানেক সময় লাগবে।”
উপাচার্য হিসেবে প্রত্যাশা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ বেগম রোকেয়া বিশ^বিদ্যালয়কে শুধু উত্তরবঙ্গের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ নয় এটিকে দেশ ও দেশের বাইরে সেরা বিশ^বিদ্যালয় হিসেবে গড়ার চেষ্ঠা করব।”
এদিকে নিযোগের সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পরপরই নতুন উপাচার্যকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।




