নিরাপত্তাহীন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়

বেরোবি প্রতিনিধি : চাঁদাবাজি, চুরি , ছিনতাইসহ নানা ধরনের অনৈতিক কার্যকলাপ বেড়ে যাওয়ায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। ফলে শিক্ষক, কর্মচারি ও শিক্ষার্থীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে।
গত ৫ মে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩য় উপাচার্য ড. একে এম নুর-উন-নবীর মেয়াদ শেষ হয়। উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, ট্রেজারারসহ অনেকগুলো গুরুত্বপুর্ন পদ তার দখলে থাকার কারনে তার অনুপস্থিতিতে পদগুলো শূন্য হয়ে পড়ে। এমাতবাস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা একেবারেই নড়বড়ে হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন অনেকেই।
তাছাড়া, একের পর এক বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ঘটেই চলেছে চাঁদাবাজি, চুরি , ছিনতাইসহ নানা ধরনের অনৈতিক কার্যকলাপ। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন আমাদের সামনে হয়ত দু’একটা এরকম ঘটনা প্রকাশ হচ্ছে কিন্তু আড়ালে প্রতিনিয়ত এরকম ঘটনা অনেক ঘটছে।
সর্বশেষ গত ১৮ মে বৃহস্পতিবার চাঁদাবাজির অভিযোগে এক যুবলীগ নেতাকে আটক করে পুলিশ। জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মানাধীন ড. ওয়াজেদ ইন্টারন্যাশনাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তাদের কাছে চাঁদা দাবি করায় রংপুর জেলা যুবলীগের এই নেতাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এর আগে গত ১৫ মে বিকেল ৫ টায় চুরি করার সময় এক মোবাইল চোরকে হাতেনাতে ধরে শিক্ষার্থীরা। জানা যায় যে, প্রায় মাস খানেক আগে একই ভাবে তিনজন শিক্ষার্থী বসে গল্প করার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষ্ণচূরা রোড থেকে তাদের একজনের মোবাইল ফোন চুরি হয় ।
বিশ^বিদ্যালয়ের ইতিহাস ও প্রতœতত্ব বিভাগের শিক্ষক ও সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী বলেন, “বিশ^বিদ্যালয়ে উপাচার্য না থাকায় কোথায় কি হচ্ছে বলা মুশকিল। এখন চাঁদাবজি, চুরি হচ্ছে ভবিষ্যতে এর চেয়ে বড় কোন ঘটনাও তো ঘটতে পারে, তখন এই বিষয়গুলো সামলাবেন কে? এজন্য আমরা চাই, অতি শ্রীঘ্রই শিক্ষার্থীবাšধব একজন উপাচার্য এই বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ দেয়া হোক।”
বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারি প্রক্টর শফিক আশরাফ বলেন, এ অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো বড় ধরণের ঘটনা ঘটলে তা ব্যাক আপ (সমাধান) দিবে কে? কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে তো অভিভাবক নেই। সুতরাং নিরাপত্তার প্রয়োজনে দ্রুত উপাচার্য নিয়োগ প্রদান জরুরী।
উপাচার্য ছাড়া নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে পুরো ক্যাম্পাস। দ্রুত উপাচার্যসহ উপ-উপাচার্য ও ট্রেজারার (কোষাধ্যক্ষ) নিয়োগ এখন সময়ের দাবি বলে মনে করেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী,কর্মকর্তা-কর্মচারিসহ সুশীল সমাজের মানুষেরা।




