খেলা

তাইজুল ঘূর্ণিতে মোহামেডানের অবিশ্বাস্য জয়

ব্যাটসম্যানরা উইকেটে গেছেন আর ফিরেছেন। হার-জিত যাই হোক, অভিযোগের সব তীর তখন মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের ব্যাটসম্যানদের দিকেই। ১৩৫ রানেই যে ইনিংস শেষ। কিন্তু বল হাতে ব্যাটসম্যানদের আসা যাওয়ার মিছিলের কথা নিমেষেই ভুলিয়ে দিলেন মোহামেডান স্পিনার তাইজুল ইসলাম। বঁ-হাতি এই স্পিনারের ঘূর্ণিতে মোহামেডান ম্যাচ জিতলো ১৩৫ রানের ছোট পুঁজি নিয়েও।
ওয়ালটন ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে মঙ্গলবার অবিশ্বাস্য এক জয় পেয়েছে মোহামেডান। ১৩৫ রানের মামুলি সংগ্রহ নিয়েও লিজেন্ডস অব রুপগঞ্জকে ৫১ রানে হারিয়েছে রকিবুল হাসানের দল। ছয় ম্যাচে এটা মোহামেডানের চতুর্থ জয়। এই জয়ে পয়েন্ট টেবিলের তিন নম্বরে উঠে এসেছে ঐতিহ্যবাহী ক্লবটি। অন্যদিকে ছয় ম্যাচে তিন জয় পাওয়া রুপগঞ্জ এই ম্যাচ হেরে সাতে নেমে গেছে।
এতো অল্প রান নিয়েও জয় তুলে নেয়াটা সম্ভব হয়েছে ম্যাচসেরা তাইজুল ইসলামের দারুণ বোলিংয়ের সুবাদে। মাত্র ২৪ রান খরচায় ছয় উইকেট পাওয়া তাইজুল রুপগঞ্জের প্রথম ছয় উইকেট তুলে নিয়ে দলকে সহজ জয়ই এনে দিয়েছেন। লিস্ট ‘এ’ ফরম্যাটে এটা তাইজুলের দ্বিতীয় সেরা বোলিং। এই ফরম্যাটে তার সেরা বোলিং ৬-১৯।
বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামে মোহামেডান। রুপগঞ্জের আসিফ হাসান, মোহাম্মদ শরিফ ও জালাজ সাক্সেনার বোলিং তোপের মুখে মাত্র ১৩৫ রানে অলআউট হয়ে যায় মোহামেডান। জবাবে এই রানই তুলতে পারেনি রুপগঞ্জ। তাইজুলের স্পিন ঘূর্ণিতে মাত্র ৮৪ রানে থেমে যায় রুপগঞ্জের ইনিংস।
জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই তাইজুলের বোলিং রোষানলের মুখে পড়তে হয় রুপগঞ্জকে। দলীয় ৮ রানে রুপগঞ্জের ওপেনার সায়েম আলমকে সাজঘর দেখিয়ে দেন তাইজুল। এখান থেকেই তার বোলিং ঝড়ের শুরু। এই ওভারের শেষ বলেই ফিরিয়ে দেন আরেক ওপেনার হাসানুজ্জমানকে। দুই উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে যাওয়া রুপগঞ্জকে নিশ্বাস নেয়ার সুযোগ দেননি তাইজুল।
নিজের দ্বিতীয় ওভার করতে এসে তুলে নেন আরো দুই উইকেট। এবার তার শিকার ১৪ রান করা ইয়াসির আলী ও জালাজ সাক্সেনা। এরপর নাঈম ইসলামের ব্যাটে রুপগঞ্জের কিছুটা প্রতিরোধ। কিন্তু তাইজুলে আবারো দিশেহারা রুপগঞ্জ। হামিদুল ইসলাম ও ১৫ রান করা নাঈম ইসলামও তাইজুলের শিকার। ৫৩ রানেই নেই রুপগঞ্জের ছয় উইকেট, আর সবক’টি উইকেটই তাইজুলের ঝুলিতে।
এরপর অধিনায়ক মোশাররফ হোসেন রুবেলের ব্যাটে কিছুটা লড়েছে রুপগঞ্জ। বাঁ-হাতি এই ব্যাটসম্যানের ব্যাট থেকে এসেছে ইনিংস সেরা ২২ রান। ছয় উইকেট নেয়ার পর তাইজুলকে আর কষ্ট করতে হয়নি। বাকি চার ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে দেন চারিথ আসালাঙ্কা, কামরুল ইসলাম রাব্বি ও সাজেদুল ইসলাম। ৩২.৪ ওভারে ৮৪ রানেই গুটিয়ে যায় রুপগঞ্জ।
এরআগে ব্যাট করতে নেমে মোহামেডানও ঠিক পথে হাঁটতে পারেনি। শুরু থেকেই নিয়মিত ধারায় উইকেট হারিয়ে ৩৯.৪ চার ওভারে মাত্র ১৩৫ রানেই অলআউট হয়ে যায় তারা। সর্বোচ্চ ২৪ রান করেন অধিনায়ক রকিবুল হাসান। এছাড়া অভিষেক মিত্র ১০, রনি তালুকদার ১৭, শামসুর রহমান শুভ ২৩, জাহিদ হোসেন ১৯, নাজমুল হোসেন মিলন ২০ ও কামরুল ইসলাম রাব্বি ১৫ রান করেন। রুপগঞ্জের আসিফ হাসান চারটি এবং শরিফ ও জালাজ দুটি করে উইকেট নেন। সৌজন্যে : প্রিয়.কম

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button