মোঃ আব্দুর রব মনসুর, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার শিক্ষা খাতের শোচনীয় চিত্র উঠে এসেছে। উপজেলার একটি কলেজেও পাশের হার ৫০ শতাংশের কোঠা পার হতে পারেনি। ১৩টি কলেজের মধ্যে শীর্ষ অবস্থানে থাকা মোহাম্মদ নাসিম চালিতাডাঙ্গা মহিলা ডিগ্রি কলেজে পাশের হার মাত্র ৪৩.৬৫ শতাংশ এবং সবচেয়ে শোচনীয় অবস্থায় রয়েছে সাফজাল হোসেন মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজ, যেখানে পাসের হার মাত্র ৫.৫৬ শতাংশ।
ফলাফলের সামগ্রিক চিত্র: উপজেলার কলেজগুলোর ফলাফলের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সিংহভাগ প্রতিষ্ঠানেই পাসের হার ২০ থেকে ৪০ শতাংশের মধ্যে আটকে আছে।
শীর্ষে যারা: মোহাম্মদ নাসিম চালিতাডাঙ্গা মহিলা ডিগ্রি কলেজ (৪৩.৬৫%), কাজিপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজ, সোনামুখী (৪১.৫৬%) এবং কাজিপুর সরকারি মনসুর আলী কলেজ (৩৮.৯৭%)।
মাঝারি স্তরে: আধুনিক মহিলা কলেজ (৩৬.১৭%),কাজিপুর মহিলা কলেজ (২৭.২৭%), গান্ধাইল/গাজাইল আইডিয়াল ডিগ্রি কলেজ (২৫.৪৯%),উদগাড়ী ডিগ্রি কলেজ(২৩.২১%), নাটুয়ারপাড়া ডিগ্রি কলেজ (২৩.০৮%), আর.আই.এম ডিগ্রি কলেজ (২২.৯৯%)।
বিপর্যয়জনক অবস্থানে: ফরহাদ আলী ডিগ্রি কলেজ (১৯.১৮%), আমিনা মনসুর কলেজ (১৭.৭১%), থানা সদর ডিগ্রি কলেজ (১৬.৬৭%) এবং একেবারে তলানিতে আফজাল হোসেন মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজ (৫.৫.৬%)।
শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকদের উদ্বেগ: উপজেলার এমন বিপর্যয়কর ফলাফলে স্থানীয় শিক্ষক সমাজ, অভিভাবক এবং সচেতন নাগরিক মহল গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। শিক্ষাবিদদের মতে, নিয়মিত ক্লাস না হওয়া, মানসম্মত শিক্ষকের অভাব, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় অনীহা এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর মনিটরিংয়ের ঘাটতি এই ভরাডুবির প্রধান কারণ। বিশেষ করে কয়েকটি কলেজে ৫ থেকে ২০ শতাংশের মধ্যে পাসের হার পুরো অঞ্চলের শিক্ষাব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য: এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কিংবা সংশ্লিষ্ট কলেজ অধ্যক্ষদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা ফলাফলের এই ধসের পেছনের কারণ খতিয়ে দেখে আগামী দিনে মানোন্নয়নের আশ্বাস দেন। তবে অভিভাবক মহণের দাবি, কেবল আশ্বাস নয়; শিক্ষক absenteeism রোধ এবং পড়ালেখার উপযুক্ত পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে অবিলম্বে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

