sliderস্থানিয়

মাওলানা সাঈদীর মামলার বাদী মানিক পশারী’র লাশ গোপনে গার্ড অফ অনার

পিরোজপুর : পিরোজপুর ১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জামায়াত নেতা মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর মামলার বাদী মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী’র লাশ ৪ ঘন্টা পরে গোপনে গার্ড অফ অনার দিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে প্রশাসন। নিজ এলাকায় লাশ দাফনে বাঁধা দিচ্ছে ওই এলাকার সাধারণ লোকজন।
শনিবার দুপুর ১২ মানিক পশারী’র লাশ পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে আসলে মানিক পশারী লাশ গার্ড অফ অনার দিতে এবং পিরোজপুরে কবর দিতে বাঁধা প্রদান করে স্থানীয় মানুষ। পরে বিকেল ৫টার দিকে পুলিশ লাইনস এর ভিতরে গোপনে গার্ড অফ ওনার দেয়া হয়।

মানিক পশারী (৮৭) পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের ৪ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলার বাদী ছিলেন।

মানিক পশারীর পরিবার জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরে মানিক পশারী পলাতক ছিলেন। তিনি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া এলাকায় মেয়ে জামাই এর কাছে আশ্রয় নিয়েছিলেন। গত দুই মাস ধরে তিনি শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন শনিবার সকাল দশটায় গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মৃত্যুবরণ করলে দুপুর ১২টার দিকে পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে তাকে গার্ড অফ অনার এর জন্য আনা হলে বাঁধা প্রদান করে স্থানীয় লোকজন। তিনি একজন গেজেটেড মুক্তিযোদ্ধা। তার এই মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে রয়েছে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের বিতর নানা ভাবে বিতর্ক। সে সময়ের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বাতেন বলেন মানিক পশারি সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষীর পরে তাকে তখনকার সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধায় গেজেটেড করান। আমরা তাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে মেনে নেইনি। পরে পুলিশ তাকে পুলিশ লাইনস এর ভিতরে গোপনে গার্ড অব অনার দিয়ে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন।

মানিক পশারীর পরিবার জানান, সকাল দশটায় উনি মারা গেছেন দুপুর ১২.০০ টায় আমরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও এর কাছে আসলে উনি আমাদের গার্ড অফ অনারের কথা বলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দাঁড় করিয়ে রাখেন।
উনি একজন গেজেটেড মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। একটি সাধারণ এম্বুলেন্সে কোন বরফ চা পাতা ছাড়া ৪ থেকে ৫ ঘন্টা রাখার পরে গোপনে কোনমতে গার্ড অফ অনার দেয়া হয়েছে। আমরা কিভাবে লাশ দাফন করবো তার কোন দায়িত্ব নেয়নি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। লাশ দাফন নিয়ে আমরা খুবই চিন্তিত।

পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মোঃ জহিরুল হক বলেন,আমরা কেন দাফন দিতে বাধা দেব, তার পরিবার তাকে যেখানে খুশি দাফন দিবেন। তবে স্থানীয় কিছু সাঈদী ভক্ত মানুষজন তার দাফনে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করতেছে শুনে আমরা আমাদের সংগঠনের লোক দিয়ে তাদেরকে বুজিয়ে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতেছি।

পিরোজপুর জেলা জামাতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক জানান, মানিক পশারী একজন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা তাকে কোনোভাবেই রাষ্ট্রীয় সম্মাননা গার্ড অফ ওনার দিতে পারে না। পিরোজপুরের মাটিতে মানিক পশরীর লাশ দাফন দিতে আমাদের বাধা না থাকলেও সাধারণ মানুষ এদের বিরোধিতা করছেন। আমরা চেষ্টা করছি সাধারণ মানুষকে বুঝিয়ে রাস্তা থেকে সরিয়ে নিতে।

পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো: শরিফুল ইসলাম বলেন, মানিক পশারীকে গার্ড অফ অনার দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

রাত ১ঃ৩০ টায় দাফনের পরে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ শরিফুল ইসলাম বলেন, মানিক পশারী’র দাফন সম্পন্ন হয়েছে, কোনরকম উত্তেজনা পরিবেশ ছিল না, আমরা কাউকেই সেখানে বাধা দিতে দেখিনি, কোন লোকজনও সেখানে পাওয়া যায়নি।

পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: ইফতেখারুল ইসলাম শামীম বলেন, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মানিক পশারী’র লাশ গার্ড অফ অনার দেয়া হয়েছে। এবং সুষ্ঠ মতো তাকে দাফনও সম্পন্ন করা হয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button