sliderস্থানিয়

রাজশাহীতে সাংবাদিকদের মানববন্ধন: অপপ্রচার ও ভুয়া সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার দাবি

মো.আলাউদ্দীন মন্ডল,রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহীতে কর্মরত পেশাদার সাংবাদিকদের ওপর হামলা, মিথ্যা মামলা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা। অতিদ্রুত সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপপ্রচারকারীদের আইনের আওতায় আনা এবং সাংবাদিকতার নাম ভাঙিয়ে ভুয়া পরিচয়ধারীদের অপতৎপরতা বন্ধের দাবিতে রাজশাহী মহানগরীতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​আজ বুধবার (৭ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজশাহী মহানগরীর আলুপট্টি মোড়ে রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাব, রাজশাহী রিপোর্টার্স ইউনিটি এবং রাজশাহী রিভারসিটি প্রেসক্লাবের যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচিতে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের পাশাপাশি সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশ নিয়ে সংহতি প্রকাশ করেন।

​মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সম্প্রতি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পেশাদার সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা স্বাধীন গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করার চক্রান্ত। বিশেষ করে রাজশাহী রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মাসুদ রানা রাব্বানীসহ পেশাদার সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি চক্র বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার চালাচ্ছে। বক্তারা অনতিবিলম্বে নুরে ইসলাম মিলন, সুরুজ আলী, মাজহারুল ইসলাম চপল ও গোলাম মোস্তফা মামুনসহ এই অপপ্রচারকারী চক্রটিকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।

​সমাবেশ থেকে ভুয়া সাংবাদিকদের কারণে পেশাদার সাংবাদিকদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। বক্তারা অভিযোগ করেন,কিছু ব্যক্তি কোনো স্বীকৃত গণমাধ্যমের সঠিক পরিচয় বা দক্ষতা ছাড়াই সাংবাদিকতার লেবেল লাগিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন, চাঁদাবাজি, সুবিধা আদায় এবং বিভিন্ন স্থানে ‘মব’ (উচ্ছৃঙ্খল জনতা) তৈরি করছেন। এসব অপ-সাংবাদিক ও চাঁদাবাজদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে সাংবাদিক সমাজকে কলঙ্কমুক্ত করার তাগিদ দেওয়া হয়। পাশাপাশি, প্রকৃত সাংবাদিকদের যাতে পেশাগত দায়িত্ব পালনে কোনো হয়রানির শিকার হতে না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়।

​মানববন্ধনে রাজশাহী প্রেসক্লাবের বর্তমান অবস্থা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করা হয়। বক্তারা দাবি করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে রাজশাহী প্রেসক্লাব দখল ও পাল্টা দখলের ঘটনা ঘটে। এর অংশ হিসেবে প্রেসক্লাবের সদস্য না হওয়া সত্ত্বেও গোলাম মোস্তফা মামুনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।

​অভিযোগ করে বক্তারা বলেন, গোলাম মোস্তফা মামুন জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সক্রিয় সদস্য। একজন পদে থাকা রাজনৈতিক ব্যক্তি কীভাবে একটি পেশাদার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে থাকেন—সে বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন তারা। তার অনুসারী ১০-১২ জন ব্যক্তিও প্রকৃত গণমাধ্যমকর্মী কি না, তা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও সাংবাদিক সংগঠনের মাধ্যমে যাচাইয়ের পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে তাদের আয়, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও রাজনৈতিক পরিচয়ের তদন্তের দাবি জানানো হয়।

​রাজশাহী অঞ্চলে মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রশংসা করে বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, সাইবার স্পেসে সক্রিয় অপপ্রচারকারী ও ভুয়া সাংবাদিকদের বিরুদ্ধেও তারা একই রকম কঠোর পদক্ষেপ নেবেন। পেশাদার সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে কর্মসূচি শেষ করা হয়।

​রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে এবং রাজশাহী রিভারসিটি  প্রেসক্লাবের সভাপতি মাসুদ রানা রাব্বানীর সঞ্চালনায় সমাবেশে বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শামসুল ইসলাম ও দৈনিক ‘আমার দেশ’ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার শামীমসহ স্থানীয় সাংবাদিক নেতারা বক্তব্য দেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button