মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি : একজন মা-বাবা সন্তানকে মায়া মমতা এবং আদর যত্ন করে মানুষের মতো মানুষ করেন। শত ত্যাগ তিতিক্ষার পর সন্তানকে ডাক্তার বানান। আর তারপর সেই সন্তান যখন বাবা-মাকে জিম্মি করে, প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে সম্পত্তি লিখে নেয় ও প্রতারণা করে বাড়ি থেকে বের করে দেয় তখন আর দুঃখের সীমা থাকে না। ছেলে প্রবাসী ডা. মো. শাহ জালালুর রহমান শাহী লন্ডনের রয়েল মার্সডেন হাসপাতালের ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ।
ছেলে-মেয়ের প্রতারণার মুখোশ খুলতে টাংগাইলে সখিপুর থেকে মোছা. আনোয়ারা বেগম তার অসুস্থ স্বামীকে হুইলচেয়ার করে ঘুরছেন দারে দারে।
ভুক্তভোগী মা আনোয়ারা বেগম বলেন, আমার অসুস্থ স্বামীকে জিম্মি করে জোরপূর্বক দলিল লিখে নেয়া, বাড়ি জবরদখল ও প্রাণনাশের হুমকির প্রতিকার, ন্যায়বিচার, দলিল বাতিল ও বাড়ির দখল ফিরে পাওয়ার আকুল আবেদন জানাচ্ছি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট।
তিনি আরও বলেন, আমার স্বামী ডা. মো. আব্দুর রহমান মিয়া অত্যন্ত বেদনাহত ও অসহায় অবস্থায় আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি আমাদের ওপর ঘটে যাওয়া প্রাণনাশের হুমকি, বাড়ি জবরদখল ও প্রতারণার কথা তুলে ধরার জন্য। পারিবারিক সম্মানের কথা ভেবে প্রথমে আমরা নিজেরাই বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু ব্যর্থ হই। তাই আজ আপনাদের মাধ্যমে সত্য ঘটনা তুলে ধরে ন্যায়বিচারের জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করছি।
তিনি আরোও বলেন, আমার ৩ সন্তান। ২ মেয়ে ১ ছেলে। বড় মেয়ে রোকসানা পারভীন লিপি (৪৫), ছোট মেয়ে সুরাইয়া জেবীন রিনা (৪৩), ছেলে ডা. মো.শাহ জালালুর রহমান শাহী (৪১)। দুই মেয়েই অনার্স মাস্টার্স করা এবং আমার প্রবাসী ছেলে ডা. মো.শাহ জালালুর রহমান শাহী লন্ডনের রয়েল মার্সডেন হাসপাতালের ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ।
আমার ডা. ছেলে গত ১০ আগস্ট লন্ডন থেকে দেশে এসে আমার মেয়ে সুরাইয়া জেবীন রিনা, সুরাইয়ার স্বামী কামাল শিকদার (কালিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি), তার বন্ধু বাবু, হান্নান (সখীপুর মহিলা কলেজের শিক্ষক), হান্নানের দুলাভাই ও শ্যালক সজীবসহ কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে নিয়ে আমাকে ও আমার স্বামীকে জোরজবরদস্তি, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বাড়িটি তাদের নামে লিখে দিতে বাধ্য করেন। এর আগেও ডা. শাহ জালাল নিজে এবং তার শাশুড়ির মাধ্যমে একই উদ্দেশ্যে চাপ প্রয়োগ করেছিলেন, যার ফলে আমার স্বামী ব্রেইন স্ট্রোক করেন।
উল্লেখ্য, আমার স্বামীর ইচ্ছা ছিল সহায়-সম্পদের বড় একটা অংশ ট্রাস্টের মাধ্যমে গরিব মানুষের শিক্ষা ও চিকিৎসায় ব্যয় করা। তার চিকিৎসায় আমার ছেলের অবহেলারও প্রমাণ রয়েছে। আমার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে ডিমেনশিয়া, পারকিনসন্স ও ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে অসহায় অবস্থায় আছেন। এই অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে গত ১৬ আগস্ট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের লোক এনে তার টিপসই নিয়ে জোরপূর্বক বাড়িটি দলিল করিয়ে নেয়া হয় এবং আত্মীয়-স্বজনসহ কাউকে জানতে না দিতে ভয়ভীতি প্রদর্শন অব্যাহত রাখা হয়। এই ঘটনার পর থেকে আমি কঠিন মানসিক ট্রমার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছি। বর্তমানে আমার সখিপুরের ঐ বাসা দখল করে রেখেছে আমার ডা.ছেলে, ছোট মেয়ে আর মেয়ের জামাই।
বর্তমানে আমি ও আমার স্বামী গ্রামের বাড়িতে মানবেতর জীবনযাপন করছি। জামাতা কামাল শিকদার এখনো ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন এবং প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন ব্যক্তির (আমার ছেলের বন্ধু) নাম ব্যবহার করে বারবার হুমকি দিচ্ছেন। এমনকি বাড়ির দারোয়ানকেও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দিয়েছেন। এ বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছি এবং জোরপূর্বক লিখে নেয়া দলিল বাতিলের দাবিতে একটি ফৌজদারি মামলাও আদালতে দায়ের করেছি। পুলিশ প্রশাসন একাধিকবার সরেজমিন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং আমাদের বক্তব্য শুনেছেন- যার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। কিন্তু এরপরও হুমকি-ভয়ভীতি অব্যাহত থাকায় আমরা বিনীতভাবে পুলিশ প্রশাসনের কাছে আরো তৎপরতা ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং আমাদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের আকুল অনুরোধ জানাচ্ছি। আমার স্বামী দীর্ঘদিন ধরেই ডিমেনশিয়া,পারকিন,ব্রেন স্ট্রোক,হার্ট এ্যাটাক, কিডনি রোগে ভুগতেছে। আমার নিজেও হাঁটুতে ব্যাথা ও মেরুদণ্ডে অপারেশন করিয়েছি। আমার স্বামীর কোন স্বাধারন সেন্স নাই, সে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারেনা, কথাও বলতে পারেনা। তার চিকিৎসার জন্য যে খরচ সেটাও আমি ঠিকঠাক মতো চালাতে পারছিনা।
প্রাণনাশের হুমকি ও জবরদখলের শিকার হয়ে আমরা আতঙ্কের মধ্যে দিনযাপন করছি। জীবন রক্ষার্থে আমি ও আমার স্বামী বর্তমানে আমার বাবার বাড়িতে অবস্থান করতেছি। আমার বাবার বাড়ি টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর উপজেলার আজগানা ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকায়। আমার বাবার নাম মৃত আতোয়ার আলী মুন্সি। আমার সখিপুরের বাসা হচ্ছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দক্ষিণ পাশে শান্তি কুঞ্জ টাওয়ার। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, সখিপুর আসনের মাননীয় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী এড. আহমেদ আযম খান, বিচারক,প্রশাসন সহ সংশ্লিষ্ট সকলের কাছেই আকুল আবেদন করছি যে— হুমকি ও দখলদারিত্ব থেকে মুক্ত করে বাড়ির দখল ফিরিয়ে দেওয়া হোক; যাতে আমার অসুস্থ স্বামী নিরাপদে নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন থাকতে পারেন। সেইসঙ্গে জাল দলিল বাতিলসহ দোষীদের শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।