sliderস্থানিয়

বরাদ্দ না থাকায় গাছ লাগানো যায়নি, দাবি ইউপি চেয়ারম্যান ও প্রশাসকদের

নলছিটিতে বৃক্ষরোপণ না করেই প্রতিবেদন দাখিলের অভিযোগ,

মো.শাহাদাত হোসেন মনু,ঝালকাঠি: ঝালকাঠির নলছিটিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত বর্তমানন সরকারের ৫বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির কোন বৃক্ষরোপণ না করেই গাছ লাগানো হয়েছে বলে প্রতিবেদন দাখিলের অভিযোগ উঠেছে ্উপজেলা পরিষদ, উপজেলা প্রকৌশলী(এলজিইডি), ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।

সরকারের পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী গাছ না লাগিয়েই সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অগ্রগতির প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, কর্মসূচির আওতায় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বৃক্ষরোপণ করে প্রতি মাসের ৩০ তারিখের মধ্যে তথ্য-প্রমাণসহ অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। তবে নলছিটি উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় প্রকৃতপক্ষে বৃক্ষরোপণ না করেই প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মো. আব্দুর রহমান স্বাক্ষরিত গত ১৯শে এপ্রিল ২০২৬খ্রীষ্টাব্দের এক চিঠিতে (স্মারক নম্বর: ৪৬.০০.০০০০.০৩৮.১৬.০০৪.০২২.২৪.৭৮) ২০২৬ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
চিঠিতে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বনজ, ফলজ ও ঔষধি বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় দেশের উপকূলীয়, সমতল, গ্রামীণ, পাহাড়ি ও শহরাঞ্চলে জলবায়ু সহনশীল বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, ৩০ দিনের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিটি ওয়ার্ডে ন্যূনতম ২০০টি, উপজেলা পরিষদের আওতায় প্রতিটি উপজেলায় ন্যূনতম ৫০০টি, পৌরসভার আওতাধীন এলাকায় ন্যূনতম ১ হাজার এবং জেলা পরিষদের আওতাধীন এলাকায় ন্যূনতম ১ হাজার ৫০০টি গাছ লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন অন্যান্য দপ্তরের জন্যও পৃথক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে মগড় ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জামাল হোসেন, কুলকাঠি ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা ওবায়দুল ইসলাম, সিদ্ধকাঠি ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মাজহারুল ইসলাম, রানাপাশা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লাবু হোসেন, নাচনমহল ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান, কুশঙ্গল ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. আইয়ুব আলী হাওলাদার, মোল্লারহাট ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক আবু সালেহ এবং ভৈরবপাশা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা অহিদুল ইসলাম জানান, “বরাদ্দ না থাকায় বৃক্ষরোপণ করা যায়নি। উপজেলা পরিষদ থেকে জরুরি ভিত্তিতে প্রতিবেদন চাওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদের সচিব তড়িঘড়ি করে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। বরাদ্দ পাওয়া গেলে বৃক্ষরোপণ করা হবে।”

এদিকে, বৃক্ষরোপণ না করেই প্রতিবেদন দাখিলের অভিযোগের বিষয়ে নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌরসভার প্রশাসক প্রতীক কুমার কুন্ডু বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সরকারি কর্মসূচির আওতায় বাস্তবে বৃক্ষরোপণ না করে প্রতিবেদন দাখিলের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button