ঘিওরে ৩৭টি ভূমিহীন পরিবার ১০ টাকা কেজি চাল থেকে বঞ্চিত

আব্দুর রাজ্জাক, মানিকগঞ্জ॥ হত দরিদ্রদের জন্য দেওয়া ১০ টাকা কেজি চালের কার্ড পায়নি ঘিওরের ভূমিহীন ৩৭ টি পরিবার। উপজেলার সিংজুরী ইউনিয়নের নিন্দাপাড়া গ্রামে অবস্থিত এই আবাসন প্রকল্পের আওতায় (গুচ্ছ গ্রামে) বসবাস করেন ভূমিহীন প্রায় দেড়শত লোক। প্রায় ১৫ বছর আগে সরকারীভাবে তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই হলেও দিনমজুরের কাজ করে তাদের দিনাতিপাত করতে হয় অতি কষ্টে। সরকার ঘোষিত ১০ টাকা কেজি চাল বরাদ্দের কার্ড তাদের নামে না হওয়ায় গুচ্ছগ্রামের হতদরিদ্র পরিবারগুলোতে বিরাজ করছে চরম হতাশা আর ক্ষোভ।
নিন্দাপাড়া আবাসনের সভাপতি তাবেজ খাঁ জানান, আবাসনের বসবাসরত পরিবারের পক্ষ থেকে প্রথমে মেম্বার পরে চেয়ারম্যান সাহেবের কাছে তাদের চালের কার্ডের কথা জানালে তারা জানান,আপনাদের কার্ড নেই যাদের কার্ড আছে তারাই শুধু এ চাল পাবে। পরে আমরা খালি হাতে সেখান থেকে ফিরে আসি।
আবাসনের বাসিন্দা জয়নাল, লাল মিয়া, গীতা রানী, হুসনা বেগম জানান, “আমাগো জায়গা জমি নাই দেইখাই তো সরকার আমাগো একটা করে থাকার রুম দিয়েছে। আমরা কোন রকমে খাইয়া না খাইয়া বাঁইচা আছি। সরকার ১০ ট্যাহা কেজি চাইল (চাউল) দিছে গরীব মানুষগো লাইগা। তাইলে আমরা ক্যানো এই চাইল পামু না। তাইলে আমরা গরীব ও ভূমিহীন পরিবাররা কি না খেয়ে মরে যামু ?
গতকাল বৃহস্পতিবার সরেমমিনে গিয়ে তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মাথা গোজার ঠাঁই মিললেও খুব ভাল নেই নিন্দাপাড়া গুচ্ছ গ্রামের বাসিন্দারা । এখানকার পুরুষরা কায়িক শ্রমীক ও দিনমজুরের কাজ করে আর মহিলা বেশির ভাগ মানুষের বাড়ীতে ঝিয়ের কাজ করে পরিবার পরিজন নিয়ে খেয়ে না খেয়ে কোন রকমে জীবন চলে। তাদের অভিযোগ ভোট ছাড়া মেম্বার-চেয়ারম্যানদের দেখা মেলে না। অনেকেরই অভিযোগ, অনেক বিত্তবানদের ১০ টাকা কেজি চালের কার্ড দেওয়া হলেও আমাদের নামে কোন চালের কার্ড দেওয়া হয়নি। এ ছাড়াও নেই বয়স্ক ভাতা, নেই বিধবা ভাতা এবং সরকারের বেশির ভাগ সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত।
এ বিষয়ে সিংজুরী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ মাস্টার বলেন, গুচ্ছগ্রামের লোকজনকে ইতিপূর্বে সরকারী বিভিন্ন সুবিধা দিয়ে আসছি। কিন্তু ১০ টাকা কেজি চালের কার্ড গুচ্ছ গ্রামের বাসিন্দরা না পাওয়া খুবই দুঃখজনক। এব্যাপারে ইউএনও মহোদয়কে আবাসন এলাকার বাসিন্দাদের তালিকা দেয়া হয়েছে। আশা করি আগামী সপ্তাহ থেকে তাদের ১০ টাকা কেজি চালের আওতায় আনা হবে।
সিংজুরী ইউনিয়নের ১০ টাকা কেজি চাউলের ডিলার ৭ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু তালেব জানান, সব তালিকা চেয়ারম্যান মেম্বাররাই করেছে। তবে চেয়ারম্যান মেম্ববারা ইচ্ছা করলে গুচ্ছগ্রামের দরিদ্ররা এ কার্ড পাওয়া সম্ভব হত।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা খন্দকার জানান, আমি এ উপজেলায় নতুন যোগদান করেছি। তাই আবাসন প্রকল্পের দরিদ্র গুচ্ছগ্রামবাসীদের সমন্ধে জানা নেই। অচিরেই আমি সেখানে সরজমিন পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো। তিনি আরো জানান, নিন্দাপাড়া আবাসনের বাসিন্দাসহ যে সমস্ত হতদরিদ্র পরিবার ১০ টাকা কেজি চালের কার্ড পায়নি। তাদের নতুন করে তালিকা করে কার্ডের আওতায় নিয়ে আসা হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানদের নির্দেশও দেয়া হয়েছে।




