
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ে চুরি যাওয়া একটি Honda Hornet 160cc মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে ঠাকুরগাঁও পুলিশ। এ ঘটনায় সংঘবদ্ধ চোর চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে চুরি যাওয়া বাটন মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও অন্যান্য মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৭ জুলাই রাত থেকে ৮ জুলাই রাতের মধ্যে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রহিমানপুর এলাকার বাসিন্দা মো. সোহাগ রানার বসতবাড়ির শয়নকক্ষ থেকে লাল রঙের একটি Honda Hornet 160cc মোটরসাইকেল চুরি হয়। এ সময় তার মায়ের ব্যবহৃত একটি বাটন মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও অন্যান্য মালামালও নিয়ে যায় চোরেরা।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী সোহাগ রানা ঠাকুরগাঁও সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে তদন্তে নামে পুলিশ। পরে জেলা পুলিশ সুপার মোঃ বেলাল হোসেনের সার্বিক দিকনির্দেশনায় সদর থানার একটি বিশেষ টিম চুরির ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে।
তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চুরির ঘটনায় জড়িত প্রধান আসামি মো. রাবিব ইসলাম (৩০) কে শনাক্ত করা হয়। পরে তাকে ঠাকুরগাঁও বড়মাঠ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, আদালতে সোপর্দের পর রাবিব ইসলাম ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে তিনি জানান, চুরি করা মোটরসাইকেল ও বাটন মোবাইল ফোন মাত্র ২০ হাজার টাকায় মো. আফজাল হোসেন আকির (২৯)-এর কাছে বিক্রি করেন।
রাবিবের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৩ আগস্ট মো. আফজাল হোসেন আকিরকে তার নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আফজাল জানান, চুরি করা মোটরসাইকেলটি ঘটনার তিন দিন পর মো. আফছারুল হক ওরফে রিফি (২৪)-এর কাছে বিক্রি করেন।
পরে আফজালের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দিনাজপুর শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. মানিক শেখ (৪০)কে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দিনাজপুরের চিরিরবন্দর থানাধীন কারেন্টের হাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে শ্রী গোবিন্দ চন্দ্র রায় (৫২)কে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে গোবিন্দ চন্দ্র রায়ের মোটরসাইকেল মেরামতের দোকানে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। সেখানে ভুক্তভোগীর শনাক্ত মতে চুরি যাওয়া Honda Hornet 160cc মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে গ্রেপ্তার পাঁচজনের বিরুদ্ধে চুরি এবং চোরাই মালামাল কেনাবেচার সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। চুরি যাওয়া বাটন মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও অন্যান্য মালামাল উদ্ধারের পাশাপাশি এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, চোরাই মোটরসাইকেলটি উদ্ধারের ঘটনায় চক্রটির অন্যান্য সদস্যদেরও আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।



