
মোঃ আব্দুর রব মনসুর, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: কাজিপুর পূর্ব অঞ্চলের যমুনাপাড়ে পানি বাড়লে বন্যা, আর কমলেই নদীভাঙন-এ দুই দুর্ভোগের মধ্যেই বছরের পর বছর বসবাস করছেন হাজারো মানুষ। চলতি মৌসুমেও একই চিত্র দেখা দিয়েছে। গত এক সপ্তাহে যমুনার পানি বেড়ে বিভিন্ন চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হলেও আজ সকাল থেকে পানি কমতে শুরু করেছে। তবে পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে নতুন করে নদীভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
কাজিপুর উপজেলার মাইজবাড়ী, খাসরাজবাড়ী, নিশ্চিন্তপুর, নাটুয়ারপাড়া, শুভগাছা, তেকানী, মনসুর নগর ও চরগিরিশ ইউনিয়নের যমুনাপাড়ের বিস্তীর্ণ এলাকায় বন্যা ও ভাঙনের কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছে। পানিতে তলিয়ে গেছে রোপা আমনের ক্ষেত। দ্রুত পানি না নামলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা।
মাইজবাড়ী ইউনিয়নের চরের সুমন বলেন, বুধবার দিনভর নদীর পানি বাড়ায় তাদের বাড়িঘরে যমুনায় বিলীন হয়ে গেছে। বিকেলে গবাদিপশু নিয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে হয়েছে।
মাইজবাড়ী চরের কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন, রোপা আমনের চারা পানিতে তলিয়ে গেছে। কয়েক দিনের মধ্যে পানি না নামলে ধানের ক্ষতি হবে। ওয়াদুদ বলেন, নদীর ভাঙ্গনে আমরা ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে গেছিলাম। গত দেড় মাস ধরে যমুনার পানি বারবার বাড়ছে-কমছে। পানি কমলেই নদীভাঙন শুরু হয়। এক মাসে এ গ্রামে প্রায় ২০০টি বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এখন আমার নিজের বাড়িও ভাঙনের মুখে।
কাজিপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, চলতি বছরে এ অঞ্চলে তিন দফা বন্যায় পাঁচ শতাধিক বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, উজানে নতুন করে পাহাড়ি ঢল না এলে যমুনার পানি বাড়ার আশঙ্কা নেই। গত দেড় মাস ধরে যমুনার পানি ওঠানামা করছে। এ অঞ্চলে সাধারণত স্বল্পমেয়াদি আকস্মিক বন্যা হয় এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পানি নেমে যায়।




