sliderস্থানিয়

নানিয়ারচরে ৩০০ পরিবারের মাঝে খাদ্যশস্য বিতরণ

রাঙামাটি প্রতিনিধি: ৪ আগস্ট, মঙ্গলবার সম্প্রতি আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটি পার্বত্য জেলার বিভিন্ন উপজেলার মতো নানিয়ারচর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকাও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ে। টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে বহু পরিবারের ঘরবাড়ি, কৃষিজমি ও জীবিকার প্রধান অবলম্বন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুর্যোগ কেটে গেলেও এখনও অনেক পরিবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেনি। এমন বাস্তবতায় বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য খাদ্যশস্য সহায়তা কর্মসূচির আওতায় মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) নানিয়ারচরে আনুষ্ঠানিকভাবে খাদ্যশস্য বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে খাদ্যশস্য বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন রাঙামাটি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ (মামুন)। তিনি বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানবিক দায়িত্ব। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কষ্ট লাঘবে সরকারের এই সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, পুনর্বাসন কার্যক্রমও পর্যায়ক্রমে আরও বিস্তৃত হবে, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য বাবু দয়াল চন্দ্র দাস। তিনি বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের কারণে আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা অনেক বেশি হয়। তাই দুর্গত মানুষের কাছে দ্রুত খাদ্যসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দিতে সরকার ও জেলা পরিষদ সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নানিয়ারচর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক ফারুক হাওলাদার, উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

খাদ্যশস্য সহায়তা কর্মসূচির আওতায় নানিয়ারচর উপজেলার ঘিলাছড়ি ও বুড়িঘাট ইউনিয়নের ৩০০টি বন্যাদুর্গত পরিবারের হাতে খাদ্যশস্য তুলে দেওয়া হয়। সহায়তা পেয়ে উপকারভোগীরা সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা জানান, বন্যায় তাদের ঘরবাড়ি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এমন সংকটের সময় এই খাদ্য সহায়তা তাদের পরিবারের জন্য বড় ধরনের স্বস্তি এনে দিয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, খাদ্য সহায়তা জরুরি হলেও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের স্থায়ী পুনর্বাসন, কৃষিঋণ, কৃষি উপকরণ, বসতঘর মেরামত এবং জীবিকা পুনর্গঠনের উদ্যোগ আরও জোরদার করা প্রয়োজন। বিশেষ করে পার্বত্য অঞ্চলে প্রতিবছর প্রাকৃতিক দুর্যোগের পুনরাবৃত্তি হওয়ায় দুর্যোগ-সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ, আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত অতিথিরা দুর্গত পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং ভবিষ্যতেও তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সরকারি সহায়তার এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হবে এবং পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button