
মো.নজরুল ইসলাম, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি: “বাল্য বিবাহ না বলি, নারীবান্ধব সমাজ গড়ি”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মানিকগঞ্জে বাল্যবিয়ে, মাদক এবং নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে শিক্ষক, কাজী, ধর্মীয় নেতা ও অভিভাবকদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১ আগস্ট) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মানিকগঞ্জ পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের চরবেউথা আরশেদ আলী বাসভবনে স্থানীয় নারী উন্নয়ন কমিটি ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘বারসিক’ যৌথভাবে এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
উপজেলা নারী উন্নয়ন কমিটির সাধারণ সাংগঠনিক সম্পাদক মিলা আক্তারের সভাপতিত্বে এবং বারসিক কর্মকর্তা ঋতু রবি দাসের সঞ্চালনায় সভায় ধারণাপত্র পাঠ করেন বারসিক-এর গবেষণা, মনিটরিং ও অ্যাডভোকেসি অফিসার মো. নজরুল ইসলাম।
সভায় প্রধান বক্তা ও অন্যান্য অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দক্ষিণ চাঁদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী মো. ওয়াদুদ রহমান, সাবেক কাউন্সিলর আবু মো. নাহিদ, অ্যাডভোকেট সায়েদুর রহমান, চরবেউথা জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা আবুবকর সিদ্দিকী, কাজী মো. হযরত আলী এবং যুব প্রতিনিধি মো. শহিদুল ইসলাম প্রমুখ।
মুক্ত আলোচনায় বক্তারা বলেন, সমাজে নারী ও শিশু নির্যাতন এবং বাল্যবিয়ে বর্তমানে মহামারী রূপ ধারণ করেছে। প্রচলিত আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাল্যবিয়ে বন্ধে ভুয়া “কোর্ট ম্যারেজ” পুরোপুরি বন্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে।
এলাকায় মাদকের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হলেও আইনের ফাঁক গলে তারা সহজেই জামিনে বেরিয়ে আসছে। এ ছাড়া সুযোগসন্ধানী চক্র অভিভাবকদের ভুল বুঝিয়ে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের বিয়ে দিতে বাধ্য করছে, যা পরবর্তীতে বড় সামাজিক প্রতারণায় রূপ নিচ্ছে।
এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে কর্মমুখী ও জীবনমুখী শিক্ষা এবং নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির আহ্বান জানান বক্তারা। একই সাথে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও বয়সের প্রমাণের অভাবে স্বামী পরিত্যক্তা নারী যেন সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়ে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে যৌথ সচেতনতামূলক উদ্যোগের তাগিদ দেওয়া হয়।
অভিভাবকদের উদ্দেশে বক্তারা বলেন, শিশুদের ছোটবেলা থেকেই অন্যায় আবদার বা জেদ প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। অভাব ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে শিক্ষা-দীক্ষায় তাদের যোগ্য, দক্ষ ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।




