
পতাকা ডেস্ক: বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষ-র উদ্যোগে আজ মঙ্গলবার ১৪জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এক জরুরি প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দেশের চলমান বৈরী আবহাওয়া ও বন্যা পরিস্থিতির মধ্যে জোরপূর্বক এইচএসসি পরীক্ষা গ্রহণ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ রাজধানীর তীব্র জলাবদ্ধতা এবং জুলাই সনদের প্রতিশ্রুতির বরখেলাপ করে সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠনের প্রতিবাদে এই ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়।
সংগঠনের নেতৃবৃন্দ দেশের বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতি তুলে ধরে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং জনগণের উদ্দেশ্যে প্রধান তিনটি দাবিপেশ করেন।
১. বৈরী আবহাওয়ায় এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি
নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশজুড়ে তীব্র ঝড়-বৃষ্টি, বন্যা এবং ভেঙে পড়া যাতায়াত ব্যবস্থার মধ্যে জোরপূর্বক এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত অত্যন্ত অমানবিক ও গণবিরোধী। নোংরা পানি ও চরম দুর্যোগের মধ্যে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা কেন্দ্রে যেতে বাধ্য হচ্ছে, যার ফলে রাজশাহীতে এক পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যার মতো বেদনাদায়ক ঘটনাও ঘটেছে। দুর্যোগের মাঝে পরীক্ষা নেওয়ার এই ‘তুঘলকি কাণ্ড’-এর তীব্র নিন্দা জানিয়ে বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষ অবিলম্বে শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলনের পদত্যাগ দাবি করছে। একই সাথে আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষা স্থগিত রাখার জোর দাবি জানানো হয়। দাবি আদায় না হলে শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে রাজপথে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেয় সংগঠনটি।
১. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবী
সামান্য বৃষ্টিতেই ঢাকা শহর আন্তর্জাতিক সমুদ্র বন্দরে পরিণত হচ্ছে উল্লেখ করে ব্রিফিংয়ে বলা হয়, কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতায় সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের জীবন আজ অতিষ্ঠ। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের সামনে কোমরসমান পানি জমে নারী শিক্ষার্থীদের জীবন ও শিক্ষাজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। নোংরা পানি জমে এডিস মশার প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হওয়ায় চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ছাত্রপক্ষ অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে স্থায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানায়।
১. জুলাই সনদের সাথে প্রতারণা ও নব্য স্বৈরাচারী মনোভাবের প্রতিবাদ
প্রেস ব্রিফিংয়ে ক্ষমতাসীন বিএনপির তীব্র সমালোচনা করে বলা হয়, তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের রক্তের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করছে। “জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫”-এর ৮ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গণভোটে ৬৮%-এর বেশি ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়ার পর ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠন করার কথা ছিল। কিন্তু বিএনপি তা অমান্য করে নিজ দল ও জোটের এমপিদের নিয়ে ‘সংবিধান সংশোধন কমিটি’ গঠন করেছে, যা জুলাই সনদের সাথে স্পষ্ট প্রতারণা। গুম প্রতিরোধ ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণের অধ্যাদেশগুলো বাতিল করে সরকার একদলীয় শাসনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এদেশের ছাত্র-জনতা কোনো নব্য স্বৈরাচারকে মেনে নেবে না এবং প্রয়োজনে রাজপথে আবার প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষ সবসময় সাধারণ শিক্ষার্থী ও মেহনতি মানুষের পাশে ছিল এবং থাকবে। দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে আমরা ছাত্র-জনতাকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিজেদের অধিকার আদায়ের আহ্বান জানাচ্ছি।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চলনা করেন কেন্দ্রীয় সহসভাপতি আকিব হাসান ও বক্তব্য পাঠ করেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আফিয়া জান্নাত অনন্যা। এসময়ে আরো উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সভাপতি মোহাম্মদ প্রিন্স, সাধারণ সম্পাদক রাফিউর রহমান ফাত্তাহ, সহ: অভ্যন্তরীন যোগাযোগ সম্পদক আরিফুল ইসলাম, ঢাবি শাখার সদস্য সচিব জুবায়ের হাসিব, যুগ্ন সদস্য সচিব রাশেদুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক মাহমুদুল আসিফ, আরো উপস্থিত ছিলেন সিরাজুম মনিরা সহ বিভিন্ন শাখার নেতৃবৃন্দ।



