
স্বীকৃতি বিশ্বাস, যশোর: আজ ১৭ জুন শহীদ কমরেড আজিবর রহমান শেখরের ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে। শহীদ কমরেড শেখর ছিলেন তৎকালীন পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টি (এম-এল)-এর একজন সক্রিয় সদস্য ও প্রভাবশালী ছাত্রনেতা। দেশের গণআন্দোলন এবং শ্রমিক-কৃষকের মুক্তির সংগ্রামে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে শ্রেণী সংগ্রামের ইতিহাসে নিজের স্থান নিশ্চিত করেছেন।
শহীদ শেখরের স্মৃতিরক্ষা কমিটি, বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ এবং শহীদের পরিবারের উদ্যোগে আজ সকাল ৯টায় যশোরের তালতলা কবরস্থানে তাঁর কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন, এক মিনিট নীরবতা পালন, শপথ গ্রহণ এবং সংক্ষিপ্ত স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন স্মৃতিরক্ষা কমিটির সদস্য সচিব কমরেড হাবিবুর রহমান মোহন, কমরেড হারুন অর রশিদ, কমরেড জিল্লুর রহমান ভিটু, সাবেক ছাত্রনেতা ও প্রগতিশীল ব্যক্তিত্ব মাহমুদ রিবন, কমরেড খবির শিকদার, কমরেড আলাউদ্দিন আহমেদ, শহীদের পরিবারের সদস্য বদিউজ্জামান বাদল, শহীদ আনোয়ার পাভেল, জয়নাল হোসেনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ, সহযোদ্ধা ও শুভানুধ্যায়ীরা।
স্মরণসভায় বক্তারা বলেন, শহীদ কমরেড আজিবর রহমান শেখর আজীবন শ্রমিক-কৃষকসহ মেহনতি মানুষের মুক্তির লক্ষ্যে সংগ্রাম করেছেন। তাঁর আদর্শ, আত্মত্যাগ ও বিপ্লবী চেতনা আজও শোষণ-বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অনুপ্রেরণার উৎস।
বক্তারা বলেন, বর্তমান বাংলাদেশে জনগণ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বেকারত্ব, বৈষম্য, দুর্নীতি, শ্রমিকের শোষণ, কৃষকের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চনা এবং পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদের সংকটের মুখোমুখি। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, বাজার সিন্ডিকেট ভাঙা, শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা, কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য প্রদান, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যকে বাণিজ্যিকীকরণের বাইরে রাখা, দুর্নীতি, লুটপাট, অর্থপাচার ও কালো টাকার অর্থনীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, মতপ্রকাশ ও সংগঠনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, সাম্প্রদায়িকতা ও বিভাজনের রাজনীতি পরিহার, নদী-প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা এবং জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বভিত্তিক আত্মনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বৈষম্যহীন, শোষণমুক্ত ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনে শ্রমিক, কৃষক, ছাত্র, যুব, নারীসহ সকল গণতান্ত্রিক শক্তির ঐক্য জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে শহীদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং শপথ বাক্য পাঠ করান কমরেড হারুন অর রশিদ। সমগ্র অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কমরেড হাবিবুর রহমান মোহন।
সভায় উপস্থিত সকলেই শহীদ কমরেড আজিবর রহমান শেখরের আদর্শ ও সংগ্রামের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে শোষণ, বৈষম্য, দুর্নীতি ও বিদেশি আধিপত্যমুক্ত, গণতান্ত্রিক ও জনগণমুখী বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রাম জোরদারের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।




