
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি: মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় বাহাদুরপুর গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক ও স্কুল শিক্ষক দুই ভাইকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার মামলার প্রধান আসামি চঞ্চল কুমার পালকে (৩০) কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
দীর্ঘদিন পালিয়ে থাকার পর চঞ্চল পাল সোমবার (১৬ জুন) মানিকগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২ নং আদালতে আত্মসমর্পণ করে,সে সময় আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ মে বিকেলে ঘিওর উপজেলার পয়লা ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার পূর্বে আদালতের একটি রায়কে কেন্দ্র করে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে প্রতিবেশী মৃত শ্যামল কুমার পালের ছেলে চঞ্চল কুমার পাল। অভিযোগ রয়েছে, চঞ্চল তার মা সরস্বতী রানী পাল এবং অজ্ঞাতনামা কয়েকজনু সহযোগীকে নিয়ে সাংবাদিক পিযুষ পাল ও তার বড় ভাই স্কুল শিক্ষক পঙ্কজ পালের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
হামলাকারীরা ধারালো ছুরি ও তারকাঁটা সংযুক্ত লাঠি দিয়ে সাংবাদিক পিযুষ পালের মাথা, ঘাড় ও হাতে এলোপাতাড়ি আঘাত করে গুরুতর জখম করে। ছোট ভাইকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে শিক্ষক পঙ্কজ পালের বুকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। হামলার একপর্যায়ে দুই ভাই রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লে সাংবাদিক পিযুষ পালের গলা থেকে আনুমানিক ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
ঘটনার পর ভুক্তভোগীদের বোন শিখা রানী পাল বাদী হয়ে ঘিওর থানায় চঞ্চল কুমার পাল, তার মা সরস্বতী রানী পালসহ অজ্ঞাতনামা আরও চারজনকে আসামি করে হত্যাচেষ্টা ও লুটপাটের মামলা দায়ের করেন।
মামলার প্রধান আসামি দীর্ঘদিন পলাতক থাকায় এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে বিভিন্ন সময় প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে এলাকায় চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতার সৃষ্টি হয়। ঘটনাটি নিয়ে জাতীয় ও আঞ্চলিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে।
আদালত আজ প্রধান আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সাংবাদিক, শিক্ষক সমাজ ও এলাকাবাসী। তবে ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, মামলার অন্যান্য আসামিরা এখনও গ্রেপ্তার না হওয়ায় তারা পুরোপুরি শঙ্কামুক্ত নন।
তাদের দাবি, দ্রুত অবশিষ্ট আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা, হামলার প্রকৃত উদ্দেশ্য উদ্ঘাটন, লুট হওয়া স্বর্ণের চেইন উদ্ধার এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।



