sliderরাজনীতিশিরোনাম

এনসিপি নেতা তারেক রেজাকে গ্রেফতারে এবি পার্টির নিন্দা ও প্রতিবাদ

পতাকা ডেস্ক: আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি ঝিনাইদহে জুলাই আন্দোলনের সম্মুখসারির কর্মী ও এনসিপি নেতা তারেক রেজাকে পুলিশ কর্তৃক গ্রেফতারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।
দলের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এক বিবৃতিতে বলেন, ঝিনাইদহে গত শনিবার এনসিপি নেতা নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীর উপর পরিচালিত সন্ত্রাসী হামলা কেবল একটি রাজনৈতিক দলের ওপর আক্রমণ নয়; এটি নাগরিকের গণতান্ত্রিক অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক সহাবস্থানের উপর নগ্ন আঘাত। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, হামলাকারীরা স্থানীয় সরকারদলীয় সমর্থক হিসেবে পরিচিত হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে চরম গড়িমসি করেছে।
তিনি বলেন, বহু নাটকীয়তার পর পুলিশ নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীর মামলা গ্রহণ করলেও থানার ভেতরেই এনসিপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা প্রমাণ করে যে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ধীরে ধীরে দলীয় প্রভাবের কাছে আত্মসমর্পণ করছে।
এরই ধারাবাহিকতায় সরকারদলীয় সমর্থকদের পাল্টা মামলা, ঝিনাইদহের একজন এনসিপির নেতাকে ডিবি পুলিশ উঠিয়ে নিয়ে যায়, এখন পর্যন্ত সেই নেতাকে কোর্টে না উঠানোটা উদ্বেগজনক। এমন বাস্তবতায় আজ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিতে এসে এনসিপি নেতা তারেক রেজার গ্রেফতার,সব মিলিয়ে এটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, ভয়ভীতি ও দমননীতির এক বিপজ্জনক বহিঃপ্রকাশ।
ব্যারিস্টার ফুয়াদ আরও বলেন, আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, দেশে আবারও ভিন্নমত দমনের পুরোনো সংস্কৃতি ফিরে আসছে। মিথ্যা মামলা, রাজনৈতিক হয়রানি, কর্মসূচিতে বাধা এবং পুলিশকে দলীয় হাতিয়ারে পরিণত করার যে প্রবণতা তৈরি হয়েছে, তা জাতিকে আবারও ফ্যাসিবাদী শাসনের অন্ধকার অধ্যায়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মোকাবিলা করতে হয় যুক্তি, নীতি ও জনগণের সমর্থনের মাধ্যমে; গ্রেফতার, হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে নয়। রাষ্ট্রযন্ত্রকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করা হলে জনগণের আস্থা ধ্বংস হয় এবং রাজনৈতিক সংঘাত আরও গভীর আকার ধারণ করে।
এবি পার্টি অবিলম্বে এনসিপি নেতা তারেক রেজা ও অয়নের নিঃশর্ত মুক্তি, ঝিনাইদহে সংঘটিত হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছে। একইসঙ্গে দলটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে সংবিধান ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ আচরণ করার আহ্বান জানায়।গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে হলে ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলতা, রাজনৈতিক সহাবস্থান এবং আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button