
কাউছার মিয়া, দৌলতপুর প্রতিনিধি: মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার ধামশ্বর ইউনিয়নের হত দরিদ্রদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফের ৫০ বস্তা সরকারি চাল আত্মসাতের অভিযোগে এলাকায় ব্যপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় দুই ইউপি সদস্যকে গ্রেফতার করে কোর্টে পাঠিয়েছে দৌলতপুর থানা পুলিশ।
জানা গেছে, ঈদ-উল-আজহা উপলক্ষে ২০২৬ অর্থবছরে ধামশ্বর ইউনিয়নের ১৭৮৮ জন উপকারভোগীর জন্য ১৭.৮৮০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই বরাদ্দের মধ্য থেকে ৫০ কেজি ওজনের ৫০ বস্তা, মোট ২.৫ মেট্রিক টন চাল আত্মসাতের উদ্দেশ্যে গোপনে সরিয়ে রাখা হয়।
স্থানীয় জনগণ, ছাত্রদল ও যুবদল নেতাকর্মীদের তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলার রাথুরা গ্রামের জাহানারা আক্তারের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে চালগুলো জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে দৌলতপুর উপজেলা প্রশাসন জব্দকৃত চাল নিজেদের হেফাজতে নেয়।
অভিযোগে সূত্রে জানা যায়, ধামশ্বর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. আয়নাল হক ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. মানিয়ার মোল্লা স্থানীয় কয়েকজন চাউল ব্যবসায়ীর যোগসাজশে চালগুলো সেখানে মজুত করেন। বাড়ির মালিক জাহানারা আক্তার বলেন, অভিযুক্তরা ২দিন পর চালগুলো নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছিলেন।
ধামশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যাড. ইদ্রিস আলী বলেন, সরকার নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী চাল বিতরণ করা হয়েছে। বরাদ্দকৃত চাল ক্রয়-বিক্রয় আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের বিচার হওয়া উচিত। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।
এ ঘটনায় দৌলতপুর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ এর ২৫ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ, স্বপন কুমার বলেন,বিশেষ ক্ষমতা আইনে চাউল আত্মসাত অভিযোগে জড়িত থাকার ২জন ইউপি সদস্যকে কোর্টে প্রেরণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাহিয়ান নুরেন জানান, অভিযুক্ত ২জন ইউপি সদস্যকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এই উপজেলায় কোন ধরনের অনিয়মন মেনে নেওয়া হবে না। সিজিএফের চাউল বিতারনে কোন অনিয়ম পাওয়া গেলে কঠোর হস্তে দমন করা হবে।


