
রতন রায়হান, রংপুর: আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস-২০২৬ উপলক্ষে অতন্দ্র প্রহরা ও দৃঢ় অঙ্গীকারে দেশের নিরাপত্তা শ্লোগানকে সামনে রেখে সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় রংপুরের আগামী চাষি লিঃ পৃর্ব কামাল কাছনা রংপুর কনফারেন্স হল রুমে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন, রাজস্ব আহরণ, বাণিজ্য সহজীকরণ এবং সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে বাংলাদেশ কাস্টমসের ভূমিকা আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট আপিলাত ট্রাইব্যুনাল, ঢাকা-এর সম্মানিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হোসেন। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুহাম্মদ আলমগীর হোসেন (পিপিএম), পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন), রংপুর এবং মুহাম্মদ লুৎফর রহমান। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কর অঞ্চল রংপুর-এর সম্মানিত অতিরিক্ত কমিশনার মোঃ মোশারফ, রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়, রংপুর-এর প্রতিনিধি, লে.কর্নেল সেলিম আল দীন (রিজিওএম), সিও অধিনায়ক, রংপুর ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি), রংপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট এমদাদুল হোসেন, রংপুর মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোঃ নুরুল ইসলাম পটু, এবং উত্তরা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা,নীলফামারীর নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রংপুর কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের সম্মানিত কমিশনার মোহাম্মদ সফিউর রহমান।
সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন রংপুর কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের যুগ্ম কমিশনার জনাব মহিববুর রহমান ভূঞা, যুগ্ম কমিশনার জনাব মে পায়েল পাশা, কমিশনারেটের আওতাধীন হিলি, বুড়িমারী, সোনাহাট ও বাংলাবান্ধা স্থল কাস্টমস স্টেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, আমদানিকারক, সিএন্ডএফ এজেন্ট প্রতিনিধি, বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী, শিল্প উদ্যোক্তা, পাশাপাশি ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোঃ নুরুল ইসলাম পটু বলেন, মাদক, অস্ত্র ও অন্যান্য চোরাচালান প্রতিরোধে বাংলাদেশ কাস্টমস নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সীমান্তে কাস্টমসের এই ভূমিকা দেশের আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রংপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট এমদাদুল হোসেন বলেন, কাস্টমস, প্রশাসন ও ব্যবসায়ী সমাজের পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে শিল্প উদ্যোক্তাদের আস্থা বাড়বে। এর ফলে নতুন বিনিয়োগ আসবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ লুৎফর রহমান বলেন, দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে কাস্টমস ব্যবস্থাকে আধুনিক,দক্ষ ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে হবে। স্মার্ট বর্ডার ব্যবস্থাপনা,অটোমেশন এবং শুদ্ধ রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে বাংলাদেশ কাস্টমসের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা গেলে জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি বৈশ্বিক বাণিজ্যে দেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে।
সভাপতির বক্তব্যে রংপুর কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনার জনাব মোহাম্মদ সফিউর রহমান বলেন, রংপুর বিভাগের প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, বিজিবি, ব্যবসায়ী সংগঠনসমূহ, চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজন কাস্টমস কার্যক্রমে যে পেশাদার সহায়তা ও সমন্বয় প্রদান করছেন, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তিনি আরও বলেন, রাজস্ব আহরণ, বাণিজ্য সহজীকরণ, আইন প্রয়োগ, সীমান্ত নিরাপত্তা ও জনস্বার্থ সংরক্ষণে এই সমন্বিত প্রচেষ্টা বাংলাদেশ কাস্টমসকে আরও কার্যকর ও গতিশীল করে তুলেছে। পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই একটি আধুনিক, স্বচ্ছ ও ব্যবসাবান্ধব রাজস্ব প্রশাসন গড়ে তোলা সম্ভব।অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে জাতীয় উন্নয়ন ও সমাজ সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের সৌহার্দ্যপূর্ণ সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবসের শ্লোগান বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।




