sliderস্থানিয়

বিচারাধীন মামলার মধ্যেই মব সৃষ্টি করে জমি ও মার্কেট দখল, ভুক্তভোগীর সংবাদ সম্মেলন

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: আদালতে বাটোয়ারা মামলা বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও প্রভাবশালী মহলের নেতৃত্বে মব সৃষ্টি করে জোরপূর্বক মার্কেট ও জমি দখল, ভাঙচুর এবং লুটপাটের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক ভুক্তভোগী পরিবার।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় ঠাকুরগাঁও জেলা শহরের একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন সদর উপজেলার গড়েয়া ইউনিয়নের আরাজী ঢাঙ্গীপুকুর এলাকার মৃত আফাল উদ্দীনের ছেলে আলহাজ্ব মজিবর রহমান।

লিখিত বক্তব্যে মজিবর রহমান জানান, তিনি ১৯৮২ সালে দলিলমূলে ১৮১/২ শতক এবং ২০০১ সালে দুই দফায় আরও ১০ শতক জমি আব্দুর রশিদ ও ফাতেমা বেগমের সন্তানদের কাছ থেকে ক্রয় করেন। এছাড়া ২০০২ সালে আব্দুল কাদেরের কাছ থেকে দলিলমূলে ৫ শতক জমি কিনে নিজ নামে খারিজ ও খাজনা পরিশোধ করে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছেন।

তিনি বলেন, পরবর্তীতে আব্দুল কুদ্দুস ও আবু বক্কর সিদ্দিক তার বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে একটি বাটোয়ারা মামলা দায়ের করেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন। মামলার নিষ্পত্তির জন্য তিনি তার সব বৈধ দলিল আদালতে দাখিল করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে তিনি বলেন, মামলা চলমান থাকা অবস্থায় আব্দুল কুদ্দুস ও আবু বক্কর সিদ্দিক তাদের প্রভাবশালী চাচাতো ভাই জামায়াতের সাবেক ইউনিয়ন আমির ও সদর উপজেলা ওলামা-মাশায়েখ পরিষদের সভাপতি আব্দুল মজিদের সহায়তায় বিচারিক প্রক্রিয়াকে উপেক্ষা করে তাকে হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন শুরু করেন। এমনকি সদর থানায় অভিযোগ দিয়ে তাকে জোরপূর্বক ‘বসানোর’ চেষ্টা করা হয় বলেও দাবি করেন তিনি।

মজিবর রহমান আরও জানান, মিমাংসায় রাজি না হলে পুলিশ দিয়ে তুলে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এতে প্রাণনাশের আশঙ্কায় তিনি প্রায় এক মাস আত্মগোপনে থাকতে বাধ্য হন।

তিনি অভিযোগ করেন, বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকালে তার অনুপস্থিতিতে গড়েয়া বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন পাকা রাস্তার পাশে অবস্থিত তার মালিকানাধীন ‘মাস্টার মার্কেট’, গ্যারেজ, সেলুন, হোটেল, মুদি দোকান, প্যাথলজি ও অন্যান্য স্থাপনায় আব্দুল মজিদের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী ধারালো অস্ত্রের মহড়া দিয়ে হামলা চালায়। এ সময় স্থাপনা ভাঙচুর, লুটপাট করা হয় এবং গ্যারেজে থাকা তার ছেলের একটি গ্লামার মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়া হয়।

তিনি দাবি করেন, এ ঘটনায় আনুমানিক ৪০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান এবং একই সঙ্গে নিজের পরিবার ও সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুল মজিদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button