ঘিওরে দূর্গাদেবীর প্রতিমায় চলছে রংয়ের ছোঁয়া
আব্দুর রাজ্জাক, মানিকগঞ্জ: আগামী ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় দূর্গোৎসব। ফলে প্রতিটি পূজা মন্ডপে চলছে শেষ মূহূর্তের প্রস্তুতি। এ পূজাকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরের মত এ বছরও মানিকগঞ্জের ঘিওরে চলেছে নানা আয়োজন। পূজা উপলক্ষে মৃৎ শিল্পীদের যেন দম ফেলার ফুরসত নেই। প্রতিমা কাঠামোতে খড় এবং মাটি লাগানোর কাজ শেষ। শেষ মহুর্তে রং তুলির আচড় দিয়ে পরিপূর্নতায় রূপ দিচ্ছেন তারা। দেবী দুর্গা, তার সাথে বিদ্যার দেবী স্বরসতী, ধন সম্পদের দেবী লক্ষ্মী এবং সাথে দেবতা কার্তিক, গনেশসহ নানা দেব-দেবীর প্রতিমার রূপকে ফুঁটিয়ে তুলছেন নিপুন হাতের ছোঁয়ায়। এদিকে দর্শনার্থীদের আনন্দ দিতে মন্টপ ও আশেপাশের সড়ক গুলোতে চলছে অলোক সজ্জাসহ নানা আয়োজন। শরৎকালে দেবতাদের হয়ে অশুরকে ধ্বংস করার জন্যে পৃথিবীতে দূর্গার আগমণ ঘটে। পঞ্জিকা মতে, এবার দুর্গা দেবীর ‘ঘোটকে আগমণ’ এবং ‘ঘোটকে গমণ’।
ঘিওর উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে ব্যক্তিগত ৩টি এবং বারোয়ারী ৬১টি সহ মোট ৬৪টি মন্দিরে প্রতিমা তৈরী হচ্ছে। উপজেলার বানিয়াজুরীতে অমুল্য মালাকারের মন্দিরে প্রতি বছর সবচাইতে ব্যয়বহুল প্রতীমা তৈরী করা হয়।
উপজেলার নেগীরকান্দি গ্রামের অবিনাশ পাল এবং অমর চাঁদ পাল তার সাগরেদদের নিয়ে প্রতিমায় রংয়ের কাজে ব্যাস্ত। তারা জানালেন, দশ হাতে দূর্গার দশ চক্র লীলা ভঙ্গীতে নতুনত্ব আনার চেষ্টা করছি। লীলা এবং গুণের বিষয়টি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। দু-চার দিনের মধ্যেই দূর্গা দেবী উঠবে বেদীতে।
শরৎকালে দূর্গোৎসবের আনন্দ এখন থেকে ভক্তরা প্রহর গুনছে সেই মহেন্দ্রক্ষনের প্রতীক্ষায়। ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের মনে সাজ সাজ রব। এ সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের ছেলেমেয়েরা মাতৃত্ব বন্দনায় অপার মহিমার আনন্দে বিভিন্ন রং এ সাঁজে।
এ ব্যাপারে ঘিওর উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক অজয় কুমার রায় জানান, ব্যাপক আনন্দ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ঘিওরে হিন্দু, মুসলিম সবাই একত্রিত হয়ে স্বারদীয় দূর্গোৎসবে আনন্দ উল্লাস করে। তবে এবার পূজা উৎসবে ঘিওর উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের পক্ষ থেকে একটি মনিটরিং টিম সাবক্ষনিক কাজ করবে।
ঘিওর থানা অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, শ্বারদীয় দূর্গোৎসবে আইন শৃংঙ্খলা সুন্দর ও স্বাভাবিক রাখার জন্য প্রতিটি মন্দিরে পুলিশ, আনছার মোতায়েন করা হবে। একটি টিম মনিটরিং করবে ও একটি মোবাইল টিম সার্বক্ষনিক প্রতিটি মন্দির পরিদর্শন করবে।




