sliderস্থানিয়

এনসিপি প্রার্থী ঘোষণার আগেই ‘নিজেকে এমপি’ দাবি, ধামরাইয়ে দলের ভেতরে ক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় নাগরিক পার্টি দলীয়ভাবে কোনো প্রার্থী ঘোষণা না করলেও, দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার আগেই প্রকাশ্যে নিজেকে “এমপি প্রার্থী” দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন আসন্ন নির্বাচনে ঢাকা-২০ আসন ধামরাই থেকে এক মনোনয়ন প্রত্যাশী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার হঠাৎ করা এই আত্মঘোষিত প্রার্থী দাবিকে স্থানীয় নেতা–কর্মীরা “দলীয় শৃঙ্খলার লঙ্ঘন”, “দলের ভেতর বিভাজন” এবং “দলের প্রতি আনুগত্যের অভাব” হিসেবে দেখছেন বলে উল্লেখ করেছেন এই আসন থেকে অন্য মনোনয়নপ্রত্যাশী ও স্থানীয়রা।

বৃহস্পতিবার ঢাকা-২০ আসনে এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আসাদুল ইসলাম মুকুল তার নিজ ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে এমপি পদপ্রার্থী উল্লেখ করে স্বচ্ছ নাগরিক সেবা, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ ধামরাই গড়তে ‘শাপলা কলিতে ভোট’ চেয়ে ফেসবুক পোস্ট করেন। পোস্টের বিষয়ে নেতাকর্মীদের বক্তব্য নিতে শুরু করলে তিনি পূর্বের পোস্ট ডিলিট করে নতুন পোস্ট দিলেও নেতিবাচক মন্তব্যগুলো ডিলিট করতে ভুলে যান।
তার মনগড়া প্রার্থী ঘোষণাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় দলীয় নেতারা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, দলের কেন্দ্রীয় নির্দেশনাকে সম্পূর্ণ অমান্য করে এই ধরনের আগাম প্রচারণা “দলবিরোধী কার্যক্রম”।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী বলেন, “দল ঘোষণা দেওয়ার আগেই নিজেকে প্রার্থী দাবি করা মানে দলের সিদ্ধান্তকে তাচ্ছিল্য করা। এ ধরনের বেপরোয়া আচরণে দলীয় ভাবমূর্তি নষ্ট হয়।” সামনে নির্বাচনে ভোটের মাঠেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে, কারণ এখানে সকল প্রার্থীকে উপেক্ষা করা হয়েছে।

এনসিপির ধামরাই উপজেলা শাখার গুরুত্বপূর্ণ পদের এক নেতা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অবস্থায় জানান, এই আসন থেকে পাঁচজন মনোনয়ন চেয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনি নিজেকে সবচেয়ে যোগ্য এবং দল থেকে ‘গ্রিন সিগন্যাল’ পেয়েছেন মনে করে এমপি প্রার্থী হিসেবে পোস্ট দিয়েছেন। প্রার্থী ঘোষণার আগেই নিজেকে প্রার্থী ঘোষণা করা সংগঠনের শৃঙ্খলাভঙ্গ কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “তা ঠিক আছে, কিছু কিছু আসনে গ্রিন সিগনাল পাওয়া যায়—তার মধ্যে ধামরাই আসনও রয়েছে। তাই এমন পোস্ট দেওয়া হয়েছে।”

দলীয়ভাবে প্রার্থীদের তালিকা নিয়ে ধামরাইয়ের স্থানীয় সচেতন মহল মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। দলে একাধিক প্রার্থী থাকা স্বাভাবিক—নতুন দল হিসেবে সকল প্রার্থী মিলেমিশে কাজ করবে, এমনটাই তাদের প্রত্যাশা।

জাতীয় নাগরিক পার্টি কোনো আসনে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা না করলেও, তিনি কীভাবে নিজেকে এমপি প্রার্থী ঘোষণা দিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন—এ বিষয়ে আসাদুল ইসলাম মুকুল বলেন, “আমার ফেসবুক আইডির একাধিক অ্যাডমিন রয়েছে। তারা পোস্ট করেছিল, পরে তা সংশোধন করা হয়েছে।”

প্রার্থী ঘোষণার পূর্বে ধামরাইয়ে কোনো মনোনয়নপ্রত্যাশী এমপি প্রার্থী দাবি করে পোস্ট করতে পারেন কিনা বা এতে সংগঠনের শৃঙ্খলাভঙ্গ হয় কিনা—এ বিষয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সংগঠন (ঢাকা বিভাগ) জানায়, ‘আমরা এখনো দলীয় কোনো প্রার্থী ঘোষণা করিনি। ঘোষণার পূর্বে এমপি প্রার্থী ঘোষণার বিষয়টি বিবেচনা করে দেখব, এ বিষয়ে নোটিশ পাঠানো হবে।’

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button