
রতন রায়হান, রংপুর: রংপুরের হরাগাছে দরদী দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণ যেন ফিরে গেল নব্বইয়ের দশকের সেই দিনগুলো। এই বিদ্যালয়ের নব্বই ব্যাচের শিক্ষার্থীরা আয়োজন করেছিল এক আবেগঘন সংবর্ধনা অনুষ্ঠান তাঁদেরই প্রাক্তন সহপাঠী, সফল উদ্যোক্তা ও শিক্ষানুরাগী শাহাজাহান কবীর একেএস এর সম্মানে। সম্প্রতি তিনি রংপুর মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (আরএমসিসিআই)এর গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্বাচিত হয়েছেন। এই অর্জন শুধু তাঁর নয় পুরো ব্যাচের,এমনকি পুরো বিদ্যালয়ের গর্বের প্রতীক।
অনুষ্ঠানের দিনটি যেন হয়ে উঠেছিল এক স্মৃতিময় উৎসব। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কর্মরত বন্ধুরা ছুটে এসেছিলো শৈশবের ব্ন্ধুকে সংবর্ধনা জানাতে।, চট্টগ্রাম, রাজশাহীসহ দেশের নানা প্রান্ত থেকে শুধু পুরনো বন্ধু শাহাজাহান কবীরকে শুভেচ্ছা জানাতে এবং সেই প্রিয় বিদ্যাপীঠের মাটিতে আবার পা রাখতে। প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেই তাঁরা একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন, কেউ কেউ আবেগে কেঁদে ফেলেন। কেউ বললেন, বিশ্ব যত বড়ই হোক, আমাদের শৈশবের স্কুলটাই সবচেয়ে প্রিয় ঠিকানা। এ যেন ছিল বন্ধুত্ব, ভালোবাসা আর স্মৃতির এক মহা পুনর্মিলনী।
নব্বই ব্যাচের সবার কাছে শাহাজাহান কবীর ছিলেন মেধা, নেতৃত্বগুণ ও ইতিবাচক চিন্তার প্রতীক। স্কুলজীবনে তিনি যেমন পড়াশোনায় এগিয়ে ছিলেন, তেমনি সহপাঠীদের প্রেরণার উৎসও ছিলেন।বর্তমানে তিনি আলফা এডুকেশন ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের চেয়ারম্যান হিসেবে দেশের শিক্ষা খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন। পাশাপাশি ব্যবসায়িক অঙ্গনে তাঁর নেতৃত্ব ও সামাজিক দায়িত্ববোধ তাঁকে এনে দিয়েছে বিশাল মর্যাদা।
আরএমসিসিআই-তে নির্বাচিত হওয়ায় রংপুরের ব্যবসায়ী মহলে তাঁর নেতৃত্বে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। স্থানীয় উদ্যোক্তারা মনে করেন, শাহাজাহান কবীরের হাত ধরেই রংপুরের বাণিজ্য ও শিক্ষা খাত আরও এগিয়ে যাবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত নব্বই ব্যাচের সহপাঠীরা একে একে বক্তব্য রাখেন। তাঁদের কণ্ঠে ফুটে ওঠে শৈশবের মিষ্টি স্মৃতি ও আজকের গর্বের অনুভূতি।
একজন সহপাঠী বলেন,আজ আমরা সবাই গর্বিত। আমাদের বন্ধু শাহাজাহান শুধু ব্যবসায়িক সাফল্য অর্জন করেননি, সে বন্ধুত্ব, মানবতা আর নেতৃত্বের এক অনন্য উদাহরণ। তাঁর এই অর্জন পুরো ব্যাচের প্রেরণা। আরেকজন বলেন, এই সংবর্ধনা শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটা আমাদের বন্ধুত্বের প্রতীক। আমরা প্রমাণ করেছি, সময় বদলায়, বয়স বাড়ে, কিন্তু প্রকৃত বন্ধুত্ব কখনো পুরনো হয় না।
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের উপস্থিতিতে প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীদের প্রাণচাঞ্চল্য আরও বেড়ে যায়। আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয় শাহাজাহান কবীর একেএস আমাদের বিদ্যালয়ের গর্ব। তাঁকে সংবর্ধনা দিতে পেরে দরদী দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় আজ আবার জীবন্ত হয়ে উঠেছে। তাঁর মতো মানুষই সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের অনুপ্রেরণা।পরে শাহাজাহান কবীরকে সংবর্ধনা স্মারক, ফুলেল শুভেচ্ছা ও স্মৃতিচিহ্ন প্রদান করা হয়। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে তখন করতালিতে মুখরিত পরিবেশ।
সংবর্ধিত অতিথি শাহাজাহান কবীর একেএস মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আপ্লুত হয়ে পড়েন। বললেন বাবা মাকে কখনো আঘাত দিয়ে কথা বলিনি। আমি মনে করি আমার সকল সফলতার পিছনে আমার বাবা মার দোয়া আছে। সকল বন্ধুদের পরামর্শ প্রদান করে বলেন তোমরা বন্ধুরা যারা বাবা মাকে কষ্টদিয়ে কথা বলেছ আজি বাড়ি গিয়ে বাবা মার পা ধরে ক্ষমা চেয়ে নিবে। এই সংবর্ধনা আমার জীবনের সেরা প্রাপ্তি। আমার এই স্কুল, শিক্ষকবৃন্দ ও প্রিয় বন্ধুরাই আমাকে আজকের জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে। তাঁদের অবদান আমি কখনো ভুলতে পারবো না। তিনি আরও বলেন,আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, আরএমসিসিআই-এর দায়িত্বে থেকে রংপুরের ব্যবসা, শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে কাজ করবো। আমার স্বপ্ন রংপুর হবে একদিন দেশের শিক্ষা ও বাণিজ্যের অগ্রণী কেন্দ্র। বন্ধুরা একে একে এগিয়ে এসে তাঁকে আলিঙ্গন করেন সেই দৃশ্য ছিল নিখাদ ভালোবাসা ও বন্ধুত্বের প্রতীক।
অনুষ্ঠানে বন্ধুরা সম্মানোনা স্মারক তুলে দেন সফল বন্ধুর হাতে। ফটোসেশন ও স্মৃতিচারণা পর্বে অংশ নেন।




