
রাঙামাটি প্রতিনিধি: দেশের সবচেয়ে বড় স্বেচ্ছাসেবী পরিচ্ছন্নতা সংগঠন বিডি ক্লিন তাদের নবম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সারা বাংলাদেশে একযোগে আয়োজন করে নজিরবিহীন এক কর্মসূচি—“৯ ঘণ্টায় ৯০০ ভাগাড় পরিষ্কার”। রাজধানী থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত দেশের প্রতিটি প্রান্তে হাজারো তরুণ-তরুণী, নারী-পুরুষ একযোগে হাতে নেয় পরিচ্ছন্নতার ঝাড়ু।
তারই অংশ হিসেবে পাহাড়ি জেলা রাঙামাটিতেও শুক্রবার সকালে বিডি ক্লিন–রাঙামাটি টিম দুইটি স্থানে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করে। স্বেচ্ছাসেবীদের অংশগ্রহণে সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে শুরু হয় প্রথম কর্মসূচি—শহীদ আব্দুল আলী একাডেমীর সামনের রাস্তার পাশের ভাগাড় পরিষ্কার। নোংরা আবর্জনায় ভরতি সেই স্থান অল্প সময়েই ঝকঝকে পরিষ্কার হয়ে ওঠে।
অভিযান তদারকি করতে উপস্থিত ছিলেন সুব্রত চাকমা, প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর, আশিকা, এবং মোঃ নিজাম আলী, প্রতিনিধি, সিএইচটি নিউজ। স্থানীয় বাসিন্দারাও সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। তারা বলেন, বহুদিন ধরে এই স্থানে আবর্জনার স্তূপ পড়ে থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল, পরিচ্ছন্নতার এই উদ্যোগে এলাকাটি আবার বসবাসযোগ্য পরিবেশ ফিরে পেয়েছে।
পরবর্তী ধাপে সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে স্বেচ্ছাসেবীরা পরিষ্কার করেন পাবলিক হেলথ এলাকার আগের মাথার ভাগাড়। সেখানে পরিদর্শক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ হাবিব আজম, সদস্য, পার্বত্য জেলা পরিষদ। তিনি বলেন,
“রাঙামাটি একটি পর্যটন নগরী। এখানে এ ধরনের কর্মসূচি শুধু শহরের সৌন্দর্য বাড়াবে না, বরং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতেও বড় ভূমিকা রাখবে। পরিচ্ছন্ন শহরই পর্যটকদের আকর্ষণ করবে।”
এই কর্মসূচিতে রাঙামাটি পৌরসভার কর্মীরাও যোগ দেন এবং সার্বক্ষণিক সহযোগিতা প্রদান করেন। পৌরসভা সূত্র জানায়, নাগরিক সচেতনতা ছাড়া কোনো শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব নয়, তাই বিডি ক্লিনের এই উদ্যোগ শহরের জন্য অনুকরণীয়।
স্বেচ্ছাসেবকদের বার্তা
বিডি ক্লিন–রাঙামাটি টিমের স্বেচ্ছাসেবীরা বলেন, তাদের লক্ষ্য শুধু ভাগাড় পরিষ্কার নয়, বরং নাগরিকদের মনে দায়িত্ববোধ সৃষ্টি করা। একজন স্বেচ্ছাসেবক জানান,
“আমরা যদি নিজের ঘর, রাস্তার পাশ বা আশপাশের জায়গা পরিষ্কার রাখি, তাহলে পুরো শহরই পরিষ্কার থাকবে। বিডি ক্লিন শুধু পরিষ্কার করছে না, বরং মানুষকে পরিচ্ছন্নতার আন্দোলনে যুক্ত করছে।”
প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য
উল্লেখ্য, বিডি ক্লিন ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই “আমার শহর, আমার দায়িত্ব” স্লোগানকে সামনে রেখে দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা আন্দোলন চালিয়ে আসছে। বর্তমানে দেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা ও অনেক ইউনিয়নেও তাদের কার্যক্রম বিস্তৃত।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বাংলাদেশে প্রতি বছর যে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য সৃষ্টি হয়, তার একটি বড় অংশ সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করা যায় না। এই অবস্থায় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর উদ্যোগ পরিবেশ রক্ষা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
রাঙামাটির মতো পর্যটননির্ভর শহরে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ শুধু স্বাস্থ্যগত কারণে নয়, অর্থনৈতিক কারণেও অপরিহার্য। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, বিডি ক্লিনের এই উদ্যোগ শহরের সৌন্দর্য ধরে রাখতে সহায়ক হবে।


