
শাহীন রাজা : খেলছে ! অবিরাম খেলেই যাচ্ছে ! একটার পর,একটা চাল দিয়ে আমাদের সকল অর্জন খেয়ে নিচ্ছে ! অদৃশ্য এ-ই খেলোয়াড় ! দেখা যায় না। ধরা-ছোঁয়ার নাগালের অনেক বাইরে। শুধু অনুভব করা যায় ! আমাদেরকে ভেঙেচুরে তছনছ করে দিচ্ছে, এই দাবাড়ু। আমরা শুধু তাঁর বা তাঁদের দাবার গুটি হিসেবে ব্যবহৃত।
গত কয়েক দিন বাংলাদেশের চালচিত্র দেখে তা-ই মনে হলো। এই খেলোয়াড়েরা প্রতি মূহুর্তে নতুন,নতুন গুটি চালছে। এবং বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা বিপর্যস্ত করে তুলছে। যাঁরা খেলছে তারা স্থিতিশীল বাংলাদেশ চায় না! তাঁদের পরিকল্পনা হয়-তো একটা অস্থিতিশীল বাংলাদেশের ভূখন্ড। তাই তারা নতুন করে দাবাড় চাল চালছে !
এ-ই খেলোয়াড়দের প্রধান প্রতিপক্ষ হচ্ছে, রাজনৈতিক শক্তি। আর বাংলাদেশের দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী। রাজনৈতিক শক্তিকে বিভাজিত করতে, একের প্রতিপক্ষ হিসেবে আরেক পক্ষকে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো আজ একে অপরের প্রতি অবিশ্বাস আর সন্দেহের দোলাচলে।
রাজনৈতিক দল যেন এক, একটি সামন্ত গোষ্ঠী। প্রতিপক্ষকে পরাজিত করতে পারলেই গোটা রাজ্যের মালিক হয়ে যাবে !
বাংলাদেশে রাজনৈতিক দুর্যোগ মাঝেমধ্যেই সৃষ্টি হয়। তবে তা আমাদের দেশপ্রেমিক শক্তি সামরিক বাহিনীর কারণে নতুন করে স্থিতিশীলতা ফিরে আসে। তাই সামরিক শক্তিকে জনগণের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করানোর অপপ্রয়াস বহুদিন ধরেই।
সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম অপপ্রচার শুরু হয় দু-তিনটে জাতীয় দৈনিকের মাধ্যমে। ‘পুরুলিয়া এয়ার ড্রপিং’ সংবাদ প্রকাশের মধ্য সামরিক শক্তির ভাবমূর্তি বিনষ্টের প্রথম প্রয়াস ! এরপর পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি রক্ষায় সেনাসদস্যদের ভূমিকা নিয়ে অপপ্রচার প্রকাশ করা হয়। এই পথ ধরেই আজকের বাংলাদেশে।
এদের সাথে যোগ হয় একধরনের ভাড়াটে বুদ্ধিজীবী। এবং বিদেশী অর্থায়নে পরিচালিত কিছু এনজিও গোষ্ঠী। এদের আড্ডা, লেখা এবং কার্যক্রম সবসময় সেনা বিরোধী। এরা জানে, ৭১-এর স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু সম্প্রতি ৫ আগস্ট সামরিক বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।
সম্প্রতি সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে আবারও গুজব এবং অপপ্রচার শুরু হয়েছে। বিশেষ করে আমাদের কোন, কোন বন্ধুপ্রতীম দেশের প্রচার প্রতিনিয়ত আমাদের সামরিক বাহিনী সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচার করছে। এতে হয়-তো সাধারণ জনগণ বিভ্রান্ত-ও হতে পারে। এরসাথে যোগ দিয়েছে ঘাপটি মুখ লুকানো সুশীল নামের এক গোষ্ঠী। আবারও লুটপাটের অর্থের ভাগ লোভে, তারা-ও সোচ্চার হয়ে উঠছে ! পটপরিবর্তনের কারণে কিছুদিন ছিল নিঃশব্দ।
খেলোয়াড়েরা জেনে-বুঝেই মাঠে নেমেছে। রাজনৈতিক শক্তিকে বিভাজিত এবং সামরিক বাহিনীকে সাধারণ জনগণের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করানো। বর্তমান বিক্ষোভকারীদের আচরণের প্রধান প্রতিপক্ষ হচ্ছে, সামরিক বাহিনী। কেননা ইতিমধ্যে তারা রাজনৈতিক দলগুলোকে একের বিরুদ্ধে আরেক দলকে দাঁড় করিয়ে ফেলেছে। বাকী আছে, সামরিক শক্তি।
দেশের এই দুঃসময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর আচরণ আর-ও গণমুখী হতে হবে। হতে হবে, পরমতসহিষ্ণু। সাধারণ জনগণকে ভাবতে দিতে, রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বারা তাঁদের জানমাল হেফাজত হবে। আদর্শ বা ধর্মের নামে দখলী হয়ে উঠলে মানুষ আর তাঁদের বন্ধু ভাববে না। জনগণের মানসপটে কি ধারণ করছে রাজনৈতিক দলগুলোকে বুঝতে হবে। জানতে হবে।
গত কয়েকদিনের ঘটনা পরিলক্ষিত করে দেখা গেছে, কয়েকঘন্টা’র মধ্যেই বিক্ষোভকারীরা জড়ো হয়ে যাচ্ছে। নিশ্চয় কোন অপশক্তি তাঁদেরকে ব্যবহার করছে। এই নেটওয়ার্ক কারা পরিচালনা করছে। এদের অর্থের উৎস কোথায়। কোন অপশক্তি আমাদের তরুন প্রজন্মকে ইন্ধন দিচ্ছে তা দ্রুত শনাক্ত করতে হবে। বাংলাদেশ নৈরাজ্যের যে ট্রেলে উঠতে যাচ্ছে, তা থেকে দেশকে ফিরিয়ে আনা বেশ কঠিন হয়ে পড়বে।
দাবার খেলোয়াড় হয়-তো জানে কি জানেনা, তা আমরা জানি না। ষড়ঋতু’র দেশ বাংলাদেশ। বাংলাদেশের মানুষ, হেমন্ত বা শীতের রোদের মতো কোমল। বসন্তের রঙে রঙিন। আবার চৈত-বৈশাখের মতোই কঠিন এবং প্রলয়ঙ্কারী। কিংবা আষাঢ়, শ্রাবণে নদীর জলের মতোই দুর্বার !
*লেখক সিনিয়র সাংবাদিক




