গোয়াইনঘাটে চোরাকারবারিদের হামলায় সংবাদকর্মী আহত

সিলেট প্রতিনিধি: সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় রয়েছে ভারত-বাংলার সমতল সীমান্ত চোরাই পথ,এসকল পথে দৈনিক কোটি কোটি টাকার ভারতীয় গরু-মহিষ,চিনি চা পাতা,শাড়ী ত্রীপিছ লেহেঙ্গা, কসমেটিকস, স্মার্টফোন,মাদক ইয়াবা,মোটরসাইকেল সহ্ ভারতীয় বিভিন্ন পণ্য সীমান্তের চোরাইপথে আমদানি করা হয়।
গত ২৯/৮/২৪ রবিবার রাতভর এসব চোরাচালান প্রতিরোধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন আখালিয়া বিজিবি সিলেট সেক্টরের ৪৮ ব্যাটালিয়ন,এসময় গোয়াইনঘাট সীমান্তের তামাবিল, প্রতাপপুর,রাধানগর ও লুনি এলাকা থেকে ৮৭১ বস্তা ভারতীয় চিনি,১৫৪৮ কেজি চা-পাতা জব্দ করা হয়।
বিজিবির অভিযান পরিচালনার পর স্থানীয় চোরাকারবারিরা একটি অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত সংবাদের উপর ভিত্তিকরে জাতীয় দৈনিক ভোরের চেতনা পত্রিকার গোয়াইনঘাট প্রতিনিধিকে বিজিবির সোর্স হিসেবে সন্দেহ করেন।
চোরাকারবারিদের বক্তব্যমতে প্রতাপপুর বিজিবির টহল সদস্য মাসুম অভিযান পরিচালনার সময় তাদের সোর্স হিসেবে সংবাদকর্মী রহিমের নাম উল্লেখ করেছেন বলে জানান শীর্ষ চোরাকারবারি তুফায়েল ও খায়রুল। এমন অপবাদের খবর পেয়ে রহিম খায়রুলের সাথে কয়েকবার ফোনে কথা বলেন এবং বিজিবির অভিযানের বিষয়ে তাঁকে সোর্স হিসেবে দায়ি করার বিষয়টি মিথ্যা বানোয়াট বলে জানান। রহিম আরো বলেন,আমার কাজ তালাশ করে সংবাদ তৈরি করা কোন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সোর্স হিসেবে তাঁদেরকে তথ্য দেওয়া কোন সংবাদকর্মীর কাজ নয়,পরিশেষে সংবাদকর্মী রহিম খাইরুলকে এই বিষয়ে যথেষ্ট সাক্ষী প্রমাণসরূপ সামাজিকভাবে শালিশ বৈঠকের দিনতারিখ নির্ধারণ করার কথা বললে খায়রুল বিষয়টি এড়িয়ে যায়।
৩০/৯/২৪ সোমবার ঘটনার পরের দিন রাত আনুমানিক ১০ টার দিকে সংবাদকর্মী রহিম কর্তব্যরত দায়িত্ব পালন শেষে গোয়াইনঘাট সদর থেকে বাড়ি ফেরার পথে গোয়াইনঘাট রাধানগর সড়কের অলিম্পিক ব্রিকসফিল্ডের সামনে আসলে তিনটি মোটর সাইকেল যোগে চোরাকারবারি পিছন থেকে তাকে ধাওয়া করে নিয়ে যায় তিতারাই সাকিনের প্রায় এক কিলোমিটার উত্তর পার্শের ব্রিজের সামনে সরকারি পাকা রাস্তায়,সেখানে গেলে তাকে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে তার রেইনকোট টান দিয়ে ধরে পাকা রাস্তায়ফেলে টেনে হেঁচড়ে হত্যার উদ্দেশ্য নিয়ে যায় চোরাকারবারি ও তাঁদের সাথে থাকা ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা। তখন সংবাদকর্মীর বাঁচাও বাঁচাও সুর চিৎকার শুনে পথচারী ও মোটরসাইকেল চালকরা এগিয়ে আসলে সন্ত্রাসীরা রহিমের মোবাইল ও নগদ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়,পরে স্থানীয়রা তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে গোয়াইনঘাট উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
এ ঘটনায় জড়িত বিজিবি সদস্য মাসুম,শীর্ষ চোরাকারবারি তোফায়েল,ডাকাত ফয়জুল,চোরাকারবারি কামরুল, চোরাচালানে প্রতাপুপুর বিজিবির লাইনম্যান সাব্বির ও তাঁদের সহযোগী আমিনুল সহ অজ্ঞাত আরো ৪/৫ জনকে আসামী করে গোয়াইনঘাট থানা, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দরবস্ত ক্যাম্প,ক্যাম্প কমান্ডার ৪৮ ব্যাটালিয়নসহ তিনটি মামলা দায়ের করেছেন সংবাদকর্মী রহিম। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবী জানান গোয়াইনঘাটে কর্মরত সাংবাদিকরা।




