শিক্ষাশিরোনাম

সন্ত্রাস নির্মূলে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক কমিটি গঠনের আহবান শিক্ষামন্ত্রীর

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ প্রতিষ্ঠানভিত্তিক কমিটি গঠনের মাধ্যমে জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাস নির্মূল করতে সবার প্রতি আহবান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, শুধু আইনী প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে কাউকে সঠিক পথে আনা সম্ভব নয়, বরং শিক্ষার্থীদের জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাস সম্পর্কে সচেতন করে সঠিক পথে আনতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এলাকায় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, অভিভাবক ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করতে হবে।
শিক্ষামন্ত্রী বুধবার রাজধানীর খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনিস্টিটিউট অডিটোরিয়ামে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে ‘সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধে আলিমদের ভূমিকা শীর্ষক’ এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় একথা বলেন।
অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তৃতা করেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান।
ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আহসান উল্লাহ (আহসান সাইয়েদ)’র সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামিয়াতুল মোদার্রেছীনের মহাসচিব শাব্বীর আহমদ মোমতাজী, বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) এ কে এম ছায়েফ উল্ল্যা, মাদরাসা শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক মো.বিল্লাল হোসেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিশ্ববিদ্যালয়) মো. হেলাল উদ্দিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) এ এস মাহমুদ, ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের নব নিযুক্ত প্রো-ভিসি ড. মো. আক্তারুজ্জামান ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় সচিব মো.সোহরাব হোসাইন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রায় এক তৃতীয়াংশ শিক্ষাপরিবারের সদস্য। অন্য সবার চেয়ে আমাদের দায়িত্ব অনেক বেশি। ছেলেমেয়েদের জ্ঞান, তথ্য ও প্রযুক্তি নির্ভর পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে আমাদের সন্তানদের রক্ষা করতে হবে। এসব সন্ত্রাস ও জঙ্গী কার্যক্রম থেকে তাদের রক্ষা করলে একটি সুষ্ঠু ও উন্নয়নমূলক দেশ গড়া সম্ভব হবে’।
তিনি বলেন, কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের জঙ্গী সম্পৃক্ততার খবর পাওয়া গেছে। যারা শিক্ষার্থীদের মাঝে ধর্মের বিভ্রান্তি ছড়িয়ে নানা প্রলোভন দেখিয়ে তাদের বিপথগামী করছে, সেসব শিক্ষকদের নজরদারির আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে বলেও উল্লেখ করেন শিক্ষামন্ত্রী।
নুরুল ইসলাম নাহিদ আলেমদের উদ্দেশে বলেন, জঙ্গী ও সন্ত্রাস এ দুটি বাংলাদেশের কোনো একক ইস্যু নয়, বৈশ্বিক ইস্যু এটি। অস্ত্র ও টাকা বিনিয়োগ করে কুচক্রী একটি মহল এ ধরনের কার্যক্রমে মদদ দিচ্ছে। এসব সন্ত্রাসীদের শিকার হচ্ছে শিক্ষিত কোমলমতি ছেলেমেয়েরা। এসব সন্ত্রাসীদের দ্রুত চিহ্নিত করে সম্মিলিত প্রতিরোধের মাধ্যমে মোকাবেলা করতে হবে।
প্রফেসর আবদুল মান্নান বলেন, প্রায় ছয় লাখ ছেলেমেয়ে মাদরাসার বিভিন্ন স্তরে লেখাপড়া করে। এরমধ্যে প্রায় দুই লাখ মেয়ে মাদরাসা শিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছে।
ইসলামের শিক্ষা তরুন সমাজের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে উপস্থিত আলেমদের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, মসজিদে খুতবায় অনেক ইমাম যে ধরনের বয়ান পেশ করেন তা এ দেশের প্রচলিত সমাজব্যবস্থার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এই অপব্যাখ্যা পরিহার করে প্রচলিত দ্বীনি ব্যাখ্যা দিতে হবে।
ব্যাপক জানাশোনা, সঠিক শিক্ষায় শিক্ষিত ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষকে ইমাম হিসেবে নিয়োগ দিতে হবে বলেও উল্লেখ করেন ইউজিসি চেয়ারম্যান।
প্রো-ভিসি আক্তারুজ্জামান ভর্তি পরবর্তী শিক্ষার্থীদের প্রতি নজরদারি বাড়ানোর প্রতি গুরুত্বারোপ করে বলেন, ভর্তির পর শিক্ষার্থীর আচার আচরণ,তার পরিচিতি ও কাদের সাথে চলাফেরা করছে তা মনিটর করতে হবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে। এছাড়া ভর্তি ফরম পূরণের ক্ষেত্রেও নতুন কিছু উপাত্ত সংযোজন করতে হবে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত দুই হাজার মাদরাসা প্রধান ও প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button